somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অবাস্তব, অলীক - কেয়া ।

১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার পৃথিবী,
যেখানে সূর্য ওঠে, অথচ সকাল আসে না।
যেখানে আলোর প্রতিটি কণা বয়ে বেড়ায় মৃত নক্ষত্রের দীর্ঘশ্বাস,
আর সময়—
নিজের অস্তিত্ব ভুলে অনন্ত শূন্যতার বুকে ঘুমায়।

হে সূর্যদেব!
থামাও তোমার সপ্তাশ্ববাহিত অগ্নিরথ,
তোমার প্রখর তেজেও আমার আত্মা জমে যায় বরফে।

আমি দেখেছি—
দীপ্তিমান নক্ষত্রেরও মৃত্যু হয়,
মহাশূন্যের বুকেও জন্ম নেয় হাহাকার,
অথচ মানুষের অশ্রু কখনো পৌঁছায় না ঈশ্বরের সিংহাসনে।

আমি হেঁটেছি এক সমুদ্রের তীরে,
যার বুকে এক ফোঁটা জল নেই।
দেখেছি মরুভূমির আকাশে অবিরাম বৃষ্টির শোকযাত্রা।
সেখানে মৃত ফুলেরা সুবাস ছড়ায়,
আর
জীবিত মানুষেরা নিজেদের কবর খুঁড়ে অমরত্বের নেশায়।

তুমি কি শুনতে পাও আমার বুকের ভেতর নক্ষত্রের বিস্ফোরণ?
তুমি কি দেখতে পাও আমার চোখে জমে থাকা সহস্র আলোকবর্ষের অন্ধকার?
আমি তোমাকে ভালোবেসেছিলাম
যেভাবে অন্ধকার ভালোবাসে শেষ প্রদীপটিকে,
যেভাবে মৃত্যুপথযাত্রী নক্ষত্র আঁকড়ে ধরে তার শেষ আলোকরশ্মি।

আর তুমি বলেছিলে—
এসবই অবাস্তব, অলীক কল্পনা।
অথচ আমার ভালোবাসা —
মহাশূন্যের মতোই অসীম,
অস্তগামী সূর্যের মতোই সত্য।

কী করে তুমি অস্বীকার করো আমার চোখের এই অশ্রু?
এ তো তোমারই জন্য নিবেদিত অর্ঘ্য।
কী করে তুমি বন্দি করে রাখো এমন এক হৃদয়,
যে শুধু তোমার কাছেই মুক্তি চেয়েছিল?
কী করে তুমি বিশ্বাস করো না আমার ভালোবাসার সত্যতাকে?

তাই আজ আমি নিজের হৃদয়কে দিয়েছি নির্বাসন,
এক নামহীন নীহারিকার গভীরে।
সেখানে কোনো বসন্ত নেই, নেই কোনো পুনর্জন্ম,
আছে শুধু অভিষাপের শৃঙ্খলে বন্দি এক অনাগত আত্মার আর্তনাদ।

আমি আর মুক্তি চাই না।
চাই না স্বর্গের প্রতিশ্রুতি,
চাই না অমরত্বের অভিশাপ।
শুধু একবার তোমার হাত ধরে হাঁটতে চাই মৃত নক্ষত্রের ধুলোর ওপর,
যেখানে সময়ের কোনো অধিকার নেই,
যেখানে ঈশ্বরও নীরব দর্শক।

তারপর—
নিঃশেষিত গ্রীষ্মের হৃদয়ে
আমি ঘামি এক অদৃশ্য শীতে।
জীবনের সমস্ত দীপ্তি ম্লান হয়ে আসে,
শুকিয়ে যায় সুন্দরতম অশ্রুরাও।

আমি যেন জলহীন এক সমুদ্র,
বৃষ্টিস্নাত এক মরুভূমি।
আমার সমস্ত অস্তিত্ব এক অসম্ভব বৈপরীত্যের নাম।

এসো, এই নিঃসঙ্গতার গভীরে,
আমার সঙ্গে ডুবে যাও অনুভূতির অতলে,
তারপর ভান করো— যেন কিছুই ঘটেনি,
যেন কোনো হৃদয় ভাঙেনি, যেন কোনো অশ্রু ঝরেনি।
তোমার চিন্তার ঘূর্ণিঝড়ে আমাদের সমস্ত সত্য হারিয়ে যাক।

আমার আত্মা আজ পাথরের মতো নিশ্চল,
চোখের দৃষ্টি বিস্ফারিত,
তবু আমি ভেঙে চলেছি আমাকে ঘিরে থাকা শিকল।
তোমার নীহারিকার চারপাশে কে যেন বেঁধে রেখেছে আমার অস্তিত্ব।
আমি যেন নিজের কাছেও অপরিচিত, নিজের ভেতরেই প্রবেশ করতে অনিচ্ছুক এক আত্মা।

তবু তোমার দিকে হাত বাড়াই।
তুমি কি আমার হাত ধরবে?
আমার সঙ্গে পাড়ি দেবে এই অনন্ত মহাশূন্যের পথ?
তুমি কি শীতের ফুল ফোটার দিনে আমার সঙ্গে নাচবে?
তুমি কি অনুভব করবে সেই উত্তাপ, যা বরফের নিচেও বেঁচে থাকে?
এসো, আমার এই অসম্ভব অবাস্তব, অলীক পৃথিবীতে ।
আমার সঙ্গে হারিয়ে যাও তোমারই চিন্তার ঘূর্ণিঝড়ে।
তারপর ভান করো— যেন কিছুই ঘটেনি।

অথচ তুমি জানবে,
এই অনন্ত মহাশূন্যের কোথাও একটি হৃদয় এখনো তোমার জন্য অপেক্ষা করে।
যেখানে সূর্য প্রতিদিন উদয় হয়, অথচ অন্ধকার কখনো শেষ হয় না।
যেখানে ভালোবাসা সত্য, অথচ সেই সত্য তোমার কাছে অবাস্তব , আলীক কল্পনা ।
যেখানে দিবালোকও কাঁদে।


সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এ আগুন আপনাদেরও একদিন গ্রাস করবে।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১৩


আজ যারা ধর্ম, জাতীয়তা ইত্যাদির ভিত্তিতে ও তাঁর কথিত “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা”, “মুসলিম বিদ্বেষী” সহ নানা মিথ্যা অভিযোগ আর অজুহাতে রবীন্দ্রনাথ বিদ্বেষের ব্যাপারে চূড়ান্ত বাড়াবাড়ি ও ইতরামি দেখিয়ে বেড়াচ্ছে তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাটায় - পুটায় ঘষাঘষি, মাঝখানে মরিচদের জীবন শেষ?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩১

আওয়ামী তথা ভারতীয়দের নমস্য রবী বাবুর চিত্রে কালিমা লেপন।
দুই দিন পরে, আওয়ামী বিরোধীদের 'রবী' ইউনুস সাহেবকে গালাগালি!!!
এ যেন পাটাপুটায় ঘষাঘষি করে অভাগা মরিচদের জীবন শেষ করার চেষ্টা?
কিন্তু, রবী বাবু কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা প্রেমিকদের কলমে সময়ের বিবেক : বিশ্ব কবি রবিন্দ্র নাথ ঠাকুরের গ্রাফিতেতে কালী লেপন প্রসঙ্গ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৩৪


যে কবির গানে ভোরের আকাশ জেগে ওঠে প্রতিদিন
যাঁর সুরে আজও অশ্রু ঝরে হাসে হৃদয় রঙিন
সেই রবীন্দ্রনাথের ছবির বুকে কালি মাখায় যারা
তারা কি জানে তাঁরই গানে বাঙালির প্রাণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূল (সা.), আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনুচিত কাজের সমালোচনা ও সমর্থন করা যাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৪১




সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঠার মুসলিম বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:১৮



রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর সংক্ষেপে রঠা এর ছোট গল্প "রীতিমত নভেল" এ রঠা মুসলমান শব্দের সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করেছেন ‘যবন’। যবন অর্থ অসভ্য, ম্লেচ্ছ, অপবিত্র, বর্বর জাতি, যেকোনো বিদেশি ইত্যাদি ইত্যাদি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×