
তুমি নিশীথের মহাকাল
তোমার চক্ষুতে জ্বলে অনন্ত প্রলয়,
কপালে তোমার চন্দ্রখণ্ড, কণ্ঠে কালো আঁধার,
তোমার পদভারে থমকে যায় সৃষ্টির অহংকার।
তোমার ললাটে শশিকলা,
কণ্ঠে তমসার কালিমা।
তোমার নূপুরের ধ্বনিতে,
কেঁপে ওঠে সৃষ্টির আদি স্পন্দন।
তুমি মায়া নও—মহামায়া,
তুমি রমণী নও—আদ্যাশক্তি।
তুমি রুদ্রাণী,
তুমি আমার চিরন্তন আসক্তি।
তোমার অধরে প্রলয়ের হাসি,
তোমার দৃষ্টিতে সৃষ্টির বিনাশ।
তবুও তোমার একটুখানি চাহনিতে,
আমার সহস্র জন্মের উল্লাস।
তুমি শ্মশানের নিঃসঙ্গ অধীশ্বরী,
তুমি চিতাভস্মের অনন্ত শৃঙ্গার।
তোমার পদতলে মহাকাল শায়িত,
আমি তোমার চরণে আত্মবিস্মৃত একাকার।
তোমার রুদ্ররূপে আমার মুগ্ধতা,
তোমার বিভীষিকায় আমার প্রেমের পূর্ণতা।
তুমি সংহারিণী, তুমি মোক্ষদায়িনী,
তুমি আমার অনন্ত জন্মের প্রণয়িনী।
তোমার নীরবতা মহাশূন্যের স্তব্ধতা,
তোমার ক্রোধে ধ্বংসের মহাযজ্ঞ।
তবুও তোমার অভিসারে, প্রিয়তমা,
আমার হৃদয় আজও অনুরক্ত, অবিচল, মগ্ন।
তোমাকে বন্দনা নয়—তোমাকে চাই,
নয় কোনো স্বর্গ, নয় কোনো মুক্তি।
তোমার ভালোবাসায় বিলীন হতে চাই,
ভুলে গিয়ে অস্তিত্বের সমস্ত যুক্তি।
তুমি মন্দিরের নিথর প্রস্তরমূর্তি নও,
নও লোকাচারের সীমাবদ্ধ প্রতিমা।
তুমি অনাদি, অনন্ত,
তুমি ব্রহ্মাণ্ডের গুপ্ত মহিমা।
তুমি সৃষ্টির আদি স্পন্দন,
তুমি সংহারের চিরন্তন বিধান।
তুমি মহাকালের মহারাত্রি,
তুমি অনন্তের আদিম আহ্বান।
আমি কোনো ঋষি নই,
নই কোনো সিদ্ধ তান্ত্রিক।
আমি কেবল তোমার প্রেমে
উন্মাদ এক নশ্বর পথিক।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




