somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেইন্ট ইকার ক্যাসিয়াস

২২ শে জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গোলকিপিং কাজটা কি সবচেয়ে কঠিন? অনেকের কাছে এটাই মনে হতে পারে। কেউ কেউ মনে করে গোলকিপাররা মাঠের অন্যান্যদের মত গুরুত্বই পায়না। অথচ তাদের উপরই ম্যাচের ভাগ্যের অনেকাংশ নির্ভর করে। সেরকমই একজন গোলকিপার আছেন পৃথিবীতে যিনি এই কঠিন কাজটা করেই হয়েছেন শ্রেষ্ঠ। তিনি সেইন্ট ইকার ক্যাসিয়াস।

পুরো নাম ইকার ক্যাসিয়াস ফার্নান্দেজ। জন্ম ১৯৮১ সালের ২০মে মাদ্রিদে। তার পরিবার মাদ্রিদ ত্যাগ করলেও তিনি সবসময় মাদ্রিদকেই নিজের আবাস ভূমি মনে করেছেন। তাই নিজের প্রিয় শহরের রিয়াল মাদ্রিদ ইউথ একাডেমি লা ফ্যাব্রিকা তে ক্যারিয়ার শুরু করেন। ১৯৯৮পর্যন্ত সেখানে থাকার পর ১৯৯৯ সালে রিয়াল মাদ্রিদ দলে নিজের জায়গা করে নেন। ২০০০ সালে তিনি সর্বকনিষ্ঠ গোলকিপার হিসেবে(১৯ বছর ৪দিন) চ্যাম্পিয়ন্স লীগ খেলার রেকর্ড গড়েন। ২০০১ এ বাজে ফর্মের জন্য জায়গা খোয়ালেও ২০০২ সালের চ্যাম্পিয়নস লীগ ফাইনালের পরিবর্তী গোলকিপার হিসেবে নেমে অসাধারণ কিছু সেভ করে আবার ফিরে আসেন ১নং হিসেবে।

এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। রিয়াল মাদ্রিদ এবং স্পেন জাতীয় দলের প্রধান গোলকিপার থেকে যান। ২০০৭-০৮ সিজনে ৩৬ ম্যাচে মাত্র ৩২ গোল খেয়ে রিয়াল মাদ্রিদ কে ৩১তম লা লীগা এনে দেন আর নিজের করে নেন জামোরা এওয়ার্ড। সেবছর রিয়াল মাদ্রিদের সাথে ২০১৭ সাল পর্যন্ত চুক্তিতে সই করে ভরসা হিসেবে থেকে যান। ২০০৯ সালে পাকো বুয়ো'র ৪৫৪ ম্যাচ খেলার রেকর্ড ভাঙেন। ২০১১-১২ সিজনে IFFHS Best Goalkeeper Award অর্জন করেন। ২২ জানুয়ারী ২০১২ তে তিনি এটলেটিকো বিলবাও এর সাথে নিজের ৬০০ তম ম্যাচ খেলেন। প্রথমবারের মত ২মে ২০১২ তে তিনি ক্যাপ্টেন হিসেবে লা লীগা জয় করেন।

২০১২ সালের ২২ডিসেম্বর মাদ্রিদ কোচ হোসে মোরিনহো তাকে বেঞ্চে বসিয়ে দেন। তখন থেকেই যত দ্বন্দের শুরু। দ্বন্দে লিপ্ত হয়ে মোরিনহো বিদায় নিলেও ২০১৩-১৪ সিজনে কোচ কার্লো আনচেলত্তিও ক্যাসিয়াসকে বেঞ্চেই রাখেন। তবে তাকে খেলতে দেয়া হয় কোপা দেল রে আর চ্যাম্পিয়নস লীগের সব ক'টি ম্যাচ। কোপা দেল রে জয় আর অসমাপ্ত চ্যাম্পিয়নস লীগে রিয়ালকে ফাইনাল এ নিয়ে যাওয়া এ সিজনে ক্যাসিয়াসের সফল করে দেয়।

১৯৯৭ সালে ক্যাসিয়াসের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়। সেবারের Under 17 FIFA World Championship এ স্পেন তৃতীয় স্থান লাভ করে। ২বছর পর স্পেন UEFA Youth Championship এবং UEFA-CAF Meridian Cup জিতে। ২০০০ সালের ৩রা জুন এ স্পেন মেইন দলে ক্যাসিয়াসের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়। ২০০২ সালের বিশ্বকাপে ২য় পছন্দ হিসেবে থাকলেও স্যান্টিয়াগো ক্যানিজারেস এর ইঞ্জুরী তাকে একমাত্র পছন্দ বানিয়ে দেয়। টপ ১৬ রাউন্ডে আয়ারল্যান্ড এর সাথে পেনাল্টি শুটআউটে ২টি পেনাল্টি সেইভ করার কারণে তিনি 'সেইন্ট ইকার' উপাধি পান। দক্ষিন কোরিয়ার সাথে তার একটি সেইভ ফিফা'র সর্বকালের টপ টেন সেইভ এর একটি। এরপর ক্যাসিয়াসের জন্য কেটেছে স্বর্ণযুগ। ২০০৪ ইউরো, ২০০৬ বিশ্বকাপে তেমন সাফল্য না পেলেও এরপর থেকে তিনি যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে যান। ২০০৮ ইউরো, ২০১০ বিশ্বকাপ, ২০১২ ইউরো জয় করে তিনি স্পেনকে তুলে নেন এক অবিস্মরণীয় উচ্চতায়। ফিফা র‍্যাংকিং এ স্পেন উঠে আসে ১ নম্বরে। সাথে সাথে ক্যাসিয়াস হয়ে যান পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গোলরক্ষক। তবে দুঃখের বিষয় তার সামান্য কিছু ভুল এর কারণে ২০১৪ বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে হল্যান্ডের বিপক্ষে ২টি সহয গোল খেয়ে ফেলে স্পেন। তবে ঐ ম্যাচেও তার ঝুলিতে আছে অসাধারণ কিছু সেভ। পরের ম্যাচে তিনি ভালো খেললেও জয়ের দেখা মিলেনি সেদিনও। যার ফলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে বিদায় নিতে হয় প্রথম রাউন্ড থেকেই। কিছু নিন্দুক ক্যাসিয়াসের উপর সব দোষ চাপিয়ে দিলেও ঐ ম্যাচে ক্যাসিয়াসই কিন্তু মূল ব্যর্থতা ছিল না।

একজন ভালো খেলোয়াড়ের পাশাপাশি তিনি একজন অসম্ভব ভালো মানুষ। তিনি কখনো অভিযুক্ত হননি। সরল পথ অবলম্বনের মাধ্যমে দুনিয়াতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। তিনি সবসময় আমাদের হৃদয়ে ছিলেন, আছেন এবং সবসময় থাকবেন।

#Legend
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০১৪ রাত ৯:৪৪
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×