somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অভিযোজিত মূল্যবোধ ২

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোট শহরে মানদন্ডে চেহারায় আভিজাত্য শীর্ষ পর্যায়ের কিন্তু ঢাকা শহরের মানদন্ডে সেটাকে মধ্যম পর্যায়ের বলা যেতে পারে। বাসের প্রচন্ড ভীড়ে সবাই যেখানে প্রচন্ড বিরক্ত সেখানে ভদ্রলোককে একটু নিস্পৃহ মনে হলো। পাশের সীটের যাত্রী উঠে যাওয়ার পর বসার জন্য সুবিধাজনক অবস্থানে আমিই দাঁড়িয়ে ছিলাম, কিন্তু বয়সে আমার চেয়ে বেশি না হলেও বাহিয্যক আভিজাত্যে আমার চেয়ে এগিয়ে থাকার কারণে ভদ্রলোককে বসার সুযোগ করে দিলাম।

প্লিজ আপনি বসুন, এই কথাটা শোনার আশা করছিলাম, কিন্তু আশাহত করে বসে পড়লেন। পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার ফলে ভাবছিলাম ভদ্রলোক ধন্যবাদটুকুও দিবেন না। কিন্তু শঙ্কাতেও উনি পানি ঢাললেন। সুন্দর করে বললেন-
-ধন্যবাদ



আমি ওয়েলকাম বলে সীটে হেলান দিয়ে বাসে রাখা ল্যাপটপের ব্যাগের দুই পাশে দুই পা দিয়ে দিয়ে সীটে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। এই ভাবে ঘন্টা খানেক দাঁড়িয়ে থাকলেও আমি সাধারণত ক্লান্ত হইনা, কিন্তু সম্ভবত বসার সুযোগ ছেড়ে দেওয়ার অনুশোচনাতে কিছুটা ক্লান্তিবোধ অনুভব করছি। কাকলি থেকে কালশী হয়ে মিরপুরের এই রাস্তাটাতে বাসে কখনও আসা হয়নি। প্রয়োজনে মাঝে মাঝে গুলশান গেলে সাধারনত উবার, বা পাঠাওতে আসা হয়। খরচ সংরক্ষণের উদ্দেশ্য নিয়েই মূলত: বাসে করে আসছি। রাস্তাটিতে চলতে গিয়ে যেটা মনে হলেও এই রুটে জ্যাম থাকলেও জ্যামের প্রকোপ নেই। সিদ্ধান্ত নিলাম ভাড়া বাবদ খরচ সাশ্রয়ের এই সুযোগ আর হাতছাড়া করব না। ভাবতে ভাবতে বাসটি কালসি চলে আসল। বসার সুযোগ করে দেওয়া ভদ্রলোকটি সীটের থেকে উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার বললেন-
-এই দাঁড়া আমাকে নামিয়ে দে রে, (মনে হলো আজ সারাদিনে এইরকম বিশ্রি শব্দ চয়ন শুনিনি, তবে ঢাকা শহরে বাসে উঠলে হর-হামেশায় এই জাতিয় কুৎসিত শব্দ চয়ন শোনা যায়। )
-আপনি ভাড়া দিয়েছেন? অনুর্দ্ধো 20 বছর বয়সী বাসের কন্ডাকটর জিজ্ঞেস করল।
-এই তুই এই দিকে আয়, তোর ভাড়া দিচ্ছি, আগের তুলনায় আর উচ্চস্বরে ও কুৎসিত ভাবে বললেন, বলতে বলতে বাসের গেটের দিকে হাঁটতে লাগলেন
ঢাকা শহরের এই নিত্য আচরণের প্রায় ক্ষেত্রেই আমি আচরণের কারণ বুঝতে পারিনা। সম্ভবত কন্ডাকটরও এই আচরণের কারণ বুঝেত পারল না, তাই কন্ডাকটরের শরীরী আচরণে কোন পরিবর্তন দেখলাম না, দেখলাম না কোন মনজগতেও, ওর ভয় ও ঘৃনা আমি কোনটায় সনাক্ত করতে পারলাম না, যেমনটি ঐ লোকের আচরণের কারণও সনাক্ত করতে পারলাম না। ঠিক আগের মত করেই তথাকথিত ভদ্রলোক প্যাসেন্জারের পেঁছন পেঁছন ছুটতে লাগল।
-এই কাকলী থেকে এই পর্যন্ত ভাড়া কত? (আগের মতই উচ্চ স্বরে)
-আপনি তো এই রাস্তা দিয়ে যাওয়া আসা করেন, ভাড়া কত আপনি জানেন। কন্ডাকটার আবার বলল।
তথাকথিত ভদ্রলোক কি এক আঞ্চলিক ভাষায় গালি দিয়ে বললেন-
-এটা আমার দেশের আঞ্চলিক গালি এর অর্থ তুই বুঝতে পারছিস?
কন্ডাকটর কি বুঝলো তা জানি না, তবে আমি যা বুঝলাম তা লেখার অযোগ্য বলে লিখলাম না।
লোকটি 100 টাকার একটা নোট বের করে দিলেন, কন্ডাকটর কিছু টাকা ফেরত দিল। প্যাসেন্জারটি বাস থেকে নামার সময় আবার চিৎকার করে বলল
-ঐ নামিয়ে দিতে পারছিস না,
সম্ভবত শব্দটা শুনেই বাসের ড্রাইভার ইচ্ছা করে আরও কিছুদুর গিয়ে বাস থামালো, লোকটি চিৎকার করে করে গালি দিতে দিতে নেমে গেলেন।

যারা ঢাকাতে পাবলিক বাসে বসে বসে যাতায়াত করেন তাদের কাছে এ জাতিয় ঘটনা নতুন নয়। ঢাকা বাসী এই আচরণের সাথে প্রচন্ড রকমের অভিযোজিত হয়ে গেছে। আমার কাছে পৃথীবিতে যতগুলো আশ্চার্য্য ঘটনা আছে তার মধ্যে ঢাকাবাসির অভিযোজন ক্ষমতা অন্যতম। এই ক্ষমতা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, পাবলিকের সামনের কোন ড্রাইভার, কন্ডাকটরকে দিব্বি শুয়েরর বাচ্চা বলা যায় কেও প্রতিবাদ করবে না। আবার বাসের ড্রাইভার যদি ইয়াং মেয়েদের বেকায়দায় ফেলার জন্য আচমকা প্রচন্ড গতিতে ব্রেক করে ফেলেও দেয় তবুও কেউ প্রতিবাদ করবে না, কন্ডাকটর ইচ্ছাকৃত ভাবে অপ্রয়োজনে নারী পিঠে হাত দিয়ে বাসে তোলার অজুহাতে সুযোগ নিলেও কেউ প্রতিবাদ করবে না। আমাদের অভিযোজন ক্ষমতা, আমাদের ধৈর্য্যশক্তি এক বিরাট ভয়ঙ্কর জায়গায় পৌঁছে গেছে! আমাদের এই ধৈর্য্যশক্তির ধৈর্য্যচ্যুতি কবে হবে জানি না। আমি ভয়ঙ্কর এক ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটার আশঙ্কা দেখার আশায় রইলাম।

আলোর পথিক
04 ফেব্রুয়ারী 2018
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১১:০৫
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নেভার গিভ আপ!!!: দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের পিছনে বিনিয়োগ করুন, প্রধানমন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার খুব খুশির দিন হওয়ার কথা ছিলো। ব্রিটিশ একটি ভার্সিটিতে ৩য় বারের মতো মেন্টর হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছি। এই আনন্দে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পার্টি দেওয়ার কথা ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×