somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে কবরে আমিও যাবো

২৭ শে জুন, ২০১৭ রাত ১১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার দাদার বাড়িতে ঘর থেকে মাত্র ১০০ কদম দূরেই কবরস্থান।
নানার বাড়িতেও ঠিক তাই। বাড়িতে ঢুকার একটা মাত্র রাস্তা। বাড়িতে আসতে হলে কিংবা বাইরে যেতে হলে কবরের সামনে পড়তেই হয়। বিকল্প কোনো রাস্তা নাই।
.
আজকে কবর দুইটার কথা খুব মনে পড়ছে। আমি কবর এর ওই জায়গাটাকে মারাত্মক ভয় পাই। কবর ঘিরে অনেকগুলো মিথ প্রচলিত আছে আমাদের বাড়িতে। ওশব গল্প অন্য একদিন বলবো।
.
ছোটবেলার বেশ কয়েকটা ঈদের রুটিন ছিলো বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। আব্বা তখন চাকরি করতেন। উনার চাকরির ছুটিতে আমরা প্রতিবার গ্রামে গিয়ে ঈদ করতাম। পদ্মা বাসে করে যেতে যেতে এক হালি বার বমি করতাম। আম্মাও বাসে চড়তে পারেন না। খুব বমি করেন। আবার লঞ্চে চড়তেও ভয় পান। তখন খুব লঞ্চ ডুবতো। প্রতিবার বমি করতে করতে আধমরা হয়ে যখন গ্রাম যেতাম তখন আব্বা দাদা দাদীর সামনে গিয়ে বলতো, এই কান ধরলাম। এইগুলারে নিয়া আর গ্রামে আসা যাবে না। হাজীগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড এর ওইদিকে সৌদিয়া হোটেল আর গাউছিয়া হোটেল ছিলো। আমার খুব প্রিয়। বিশেষ করে চা। বাস থেকে নেমে আব্বা হোটেল এ নিয়ে পরটা , দই আর চা খাওয়াইতেন। বলতেন, আর কিছু খাইলে খা, সমস্যা নাই।
.
গ্রামে ঢুকার আগে আগে আব্বা আমাদের ভদ্রতা জ্ঞ্যান দিতেন। আব্বার একটা বদ অভ্যাস আছে। এক কথা বার বার বলেন।
.
-বাড়ি গিয়ে কিন্তু দাদা দাদীরে সালাম দিবি।
-আচ্ছা।
-মুরুব্বিদের সালাম দিবি।
আচ্ছা।
-কি বলছি মনে আছে?
-জ্বি।
-কি বলছি।
-সালাম দিবো।
.
গ্রামে গিয়ে সবাইকে সালাম দিতাম। সামহাউ এই অভ্যাসটা এখনো রয়ে গেছে। আমার পরিচিত বড় ভাই, টিচার সহ এমন অনেক মানুষকেই সালাম দেই যারা হয়ত সালাম আশাও করে না।
.
গ্রামে কিছু কিছু মানুষ বেশ আদর করতো। কেনো এত স্নেহ পেতাম জানি না। রাফেজ ভাই এর আম্মা দাদীর বয়সী ছিলেন। তার ঘরে গেলে জোর করে আচার, পিঠা, সেমাই, নুডুলস রান্না করে খাওয়াতেন। পাশের বাড়িতে খালেদা আপু, রোকসানা আপুরা, মুক্তা আপুরা কি যে খুশি হতো বাড়ি গেলে। এখন অবশ্য তাদের কেউ নাই বাড়িতে। বিয়ে টিয়ে করে কোথায় আছে কে জানে। নানুর বাড়িতে একজন ছিলেন গোলাপী নানী। উনার ছেলে মেয়ে কেউ নাই। হয়ত আছে। আমি দেখি নাই। আমার সাথে যা মজা করতেন। বিল্লালের মা নামে একজন ছিলেন। যাকে আব্বা খালা বলে ডাকেন। তিনিও খুব আদর করতেন। অনেকেই ছিলেন এমন। কিন্তু, আমার স্মৃতিশক্তি জনিত সমস্যায় অনেকের নামই এখন আর মনে পড়ে না। ভুলে গেছি। ব্রেইন ভর্তি হয়ে আছে অপ্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে।
.
তাদের কথা ভাবতে গিয়েই কবর দুইটার কথা মারাত্মক মনে পড়ছে। ছোট থাকতে কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ে ভয়ে চোখ দুইটা বন্ধ করে রাখতাম। কি আশ্চর্য, ওই কবর দুইটাতেই এখন থাকে আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষগুলো। যারা কি আরামে চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে আছে। নিশ্চয়ই সেখান থেকে হাতছানি দিয়ে ডাকবেন একদিন তারা। যে ডাক উপেক্ষা করা যাবে না। কেউ করতে পারে না...
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুন, ২০১৭ রাত ১১:৪৪
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর (Lighthouse)

বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×