somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চাইছি তোমার বন্ধুতা (তৃতীয় পর্ব)

৩১ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০০১ সালে একটা হিট হিন্দী মুভি রিলিজ হয়েছিল। দিল চাহাতা হ্যায় নামে। অসাধারন একটা মুভি। আমি যে কতবার এই মুভিটা দেখেছি হিসেব করে বলতে পারব না। এখনো সুযোগ হলে দেখি। তখন বোধ করি বয়সটাই এমন ছিল। একেবারে সিন্দাবাদের ভুতের মতন মুভিটা চেপে বসেছিল। ওই মুভির কোনো ডায়লগ ব্যবহার করার সুযোগ পেলে কখনো মিস হত না। আমি আরাফাত আর হারুন। জানিনা কখন এই ছবিটা আমাদের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিল। আমরা একটা সময় ভাবতে শুরু করেছিলাম আমরা দিল চাহাতা হ্যায় এর আকাশ, সিদ্ধার্থ, সামির। সমস্যা বেধেছিল কে কোনজন এইটা নিয়ে। তো হারুন একটা সমস্যার সমাধান করে দিয়েছিল খুব দ্রুত। আগেই একটা পোষ্টে বলেছি, হারুনের নারী প্রীতিটা ছেলেদের স্বাভাবিক নারী প্রীতির চেয়ে একটু বেশিই ছিল :P. তাই হারুন অঘোষিত ভাবেই সামির রুপী সাইফ আলি খান। এইটা নিয়ে অবশ্য হারুনের অনেক গর্বই ছিল যতদূর মনে পড়ে। আমার কাজ ছিল সারাক্ষন হারুনের পেছনে লেগে থাকা। আর ওকে অনেক অনেক বেশি পরিমানে যন্ত্রণা দেয়া। বোধকরি এই জন্য আরাফাত নিঃশর্ত আমাকে আকাশ বানিয়ে অত্যন্ত আনন্দের সাথে সিদার্থ হয়ে যায়। আমিও মনে মনে বেশ খুশি হয়েছিলাম নিজের পছন্দের চরিত্র পেয়ে যাওয়াতে। ঠিক বোঝাতে পারব না সময়টা যে কত অদ্ভুত ছিল। মাঝে মাঝে মনে হত আমরা বুঝি আসলেই অভিনয় করছি। সবচেয়ে বেশি এই ব্যাপারটা অনুভূত হলো যেদিন আমরা হারুনের প্রথম তথাকথিত ভালোবাসার মানুষের বাসায় গেলাম। সৌভাগ্যই বলতে হবে হারুনের, অবশ্য আমি উপায়টা বাতলে দিয়েছিলাম। একটা উপলক্ষ্য এসেছিল। ওখানে গিয়ে বেশ ভালোই আপ্যায়ন হলো। অনেক ধরনের নাস্তা খেলাম।নাস্তার শেষে এককাপ চা এল। নিয়ে এল মেয়েটা। এনে একটা মিষ্টি মধুর হাসি দিয়ে (মেয়েটা দেখতে সুন্দরী ছিল, এই ব্যাপারে আমিও একমত :P )বললো, চা টা সে বানিয়েছি। আমরাতো হাসিতে মজে গিয়ে খুব দ্রুত গরম চায়ে একটা চুমুক দিয়ে বসলাম। বিশ্বাস করেন আর নাই করেন, জীবনে এত কুৎসিত চা খাইনি। আর হারূন হারামী কিনা ওই চা খেয়ে নির্লজ্বের মতন বলতে লাগলো অসাধারন।তারপর আমরা যখন ফিরে এলাম, পুরো রাস্তা হারুন কোনো কথা বলতে পারেনি, কারন মেয়েটার বাবার গাড়িতে আমরা বাসায় ফিরি। গাড়ি থেকে নেমেই সে চিৎকার দিল ইয়েস ইয়েস বলে। আর সাথে সাথে আমার মনে হলো, ইয়ার, ইয়ে ম্যানে কেয়া কর দিয়া? আমরা বেশ বুঝতে পারতাম আমাদের আসে পাশে অনেকে আমাদের এই ব্যাপারটাতে বিরক্ত হত। তাতে কি আসে যায়? ;)

আরাফাত উত্তর বঙ্গের ছেলে। উত্তর বঙ্গে যদি কেউ গিয়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চয় জানেন, যতদুর দৃষ্টি যায় সমতল আর সমতল ভূমি। তাই উত্তর বঙ্গের কেউ একটা ছোট খাট টিলা দেখলেই চিৎকার দিয়ে উঠে, ওরে দেখ দেখ কত্ত উচুতে মাটি থেকে, একেবারে আকাশ ছুই ছুই। তাই স্বাভাবিক ভাবেই এরা যখন চট্টগ্রাম কিংবা সিলেট যায়, এদের মাথা খারাপ হয়ে যায়। আরাফাত শুরুর দিকে কিছু হলেই দৌড় দিয়ে পাহাড়ে উঠে যেত। মন ভালো হইলে মন ভালো তাই, আর মন খারাপ হলে মন খারাপ তাই। কারনের অভাব হতো না। আমি চট্টগ্রামের ছেলে, তাই পাহাড় ঠিক ওর মতন করে আমাকে টানে না। তাও আমি যেতাম। ওর শিশুসুলভ আনন্দ দেখে মজা লাগতো। একবার, মাসের একেবারে শেষ দিকে, হাতে টাকা পয়সা একেবারেই নাই। ওর হঠাৎ সখ হলো পর্যটন বলে একটা জায়গা আছে সেখানে বেরাতে যাবে। জায়গাটা আসলে কিচ্ছু নাই, একটা পাহাড়ে ঢুক্তে টাকা দিতে হয় কারন সেখানে বসার জন্য কয়েকটা সিট দেয়া আছে। আর কিচ্ছু নাই, আফসুস।তাই মাসের শেষের অল্প কয়টা টাকা খরচ করে ওই জায়গায় যাবার কোনো ইচ্ছে আমার ছিল না।ও এক প্রকার জোর করে আমাকে নিয়ে গেল।যাবার সময় যতবার টাকা বের হচ্ছিল পকেট থেকে মেজাজ বিগড়ে যাচ্ছিল। আর চুড়ান্ত মেজাজ খারাপ হলো যখন সে ২টা কোন আইস্ক্রিম কিনে নিয়ে আসলো। খুব বিরক্ত মুখ করে বসে ছিলাম আমি। আরাফাত চারপাশের সৌন্দর্য বর্ণনা করে কি কি যেন বলছিল। হঠাৎ সে বললো “দোস্ত ধর আমি এই পাহাড় থেকে পরে যাচ্ছে। একটা ঢাল ধরে ঝুলে আছি। যেকোনো মুহুর্তে ঢালটা ভেঙে পরতে পারে। আমি চিৎকার করে বলছি, রাকিব আমাকে বাঁচা। প্লীজ আমাকে বাঁচা। তুই তখন কি করবি?” আমি কর্কশ গলায় বলে উঠলাম, “তুই হাত দিয়ে ঢালের যেই জায়গায় ধরে রাখবি সেইখানে তোর হাতে পা দিয়ে চাপা দিব।” শুনে ও অনেক্ষন হেসেছিল। কিছু টাকা খরচ হলেও, পরের কয়েকটা দিন একটু কষ্টে কাটলেও, সময়টা ভালোই ছিল বলে মনে হয়।

আরাফাতের একটা খুবই মজার ব্যাপার আছে। একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, উত্তর বঙ্গ যাদের বাড়ি তাদের বাংলা বিভক্তি প্রয়োগে সামান্য সমস্যা আছে। বিশেষ করে দ্বিতীয়া বিভক্তি নিয়ে ওদের যে প্রবলেম আছে এইটা ওরা বুঝতেই পারে না। যেমনঃ আরাফাতকে নিয়ে কেউ হাসাহসি করলে ও ক্ষেপে গিয়ে বলে আমাকে হাসে? অথচ হওয়া উচিত আমাকে নিয়ে হাসে। তারপর ধরেন ও চায় কেউ ওর ছবি তুলে দিক যেখানে ওর বলা উচিত ছবি তুলে দাও, সেখানে সে বলবে আমি ছবি উঠব। ধারাবাহিকতায় আমি ঘুমাব না বলে সে বলে আমি ঘুম পাড়ব (আরে বেটা ঘুম কি ডিম যে তুই পাড়বি?)। মশারী সবাই টাঙ্গায় আর আরাফাত মশারী ফেলে দেয় যদিও মশারী তোলা থাকতো না কোথাও। আমার তোমার কাছে আসতে হবে, এই বাক্য আরাফাত বললে বলতো, আমাকে তোমার কাছে আসতে হবে। আর কিছু কিছু বাংলা শব্দের অস্তিত্ব ওর কাছে ছিল না। যেমন সূর্যাস্ত। ও বলতো সূর্যোদয় আর সূর্য ডোবা। এবং এটা বোঝানোর জন্য সূর্যোদয় বলে হাত নিচ থেকে উপরে তুলতো যাতে করে সবাই বুঝতে পারে সূর্য উঠছে। আর সূর্য ডোবা বলে হাত উপর থেকে নিচে নামাতো। জন্মদিন, এই বাংলা শব্দটা ও কখনো উচ্চারণ করতে পারত না। বলতো জর্মদিন। তবে প্রথম প্রথম আমি ভাবতাম এটা বোধহয় আরাফাতের একার সমস্যা। পরে উত্তর বঙ্গের আরো কয়েকজনের সাথে পরিচয় হবার পর বুঝতে পারলাম এটা আসলে সমস্যা না, উত্তরবঙ্গের কথা বলার ধরনটাই এমন ।

যা বলার জন্য এই পোষ্ট লিখতে বসলাম তার কাছে ধারেও যেতে পারলাম না। তাতেই অনেকবড় হয়ে গেল। আজ এই টুকুই।

চলবে
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৯
৩৯টি মন্তব্য ৩৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×