somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার জীবন - ১

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই ব্লগ অন্য কেউ পড়বে সেই জন্য না। এর প্রধান কারণ নিজের স্মৃতি গুলো রক্ষা করা। স্মৃতি গুলোও যে ধোকা দেয়।

প্রথমে নিজের ব্যাপারে বলি। আমি এক জন খুবই সাধারণ ঘরের ছেলে। ছোটতে পড়া শোনাতে খুব ভাল ছিলাম না। আসল ভালই ছিলাম না। এজন্য আব্বা আমাকে নিয়ে চিন্তা করেছিল এসএসসি এর পর কোন টিভির দোকানে কাজে লাগিয়ে দিবে। কিন্তু আমার আম্মা আমার জন্য আব্বার সাথে অনেক পিড়াপিড়ি করেন। আম্মার কথা ছিল যাই হোক ছেলে কে মানুষ করব। এসএসসিতে রেজাল্ট করলাম ৪.৮৮। এটা ২০০৮ সালের ঘটনা। এখন যেমন ভুড়ি ভুড়ি এ+, সে সময় তা ছিল না। বলা চলে কোন রকমে রক্ষা পাই। আব্বা পড়াশুনা চালিয়ে যেতে রাজি হয়।

এরপর শুরু হল কলেজে ভর্তি হওয়ার দৌড়। কোন রকমে ১টা সরকারী কলেজে ভর্তি হই। সেটা সেই কলেজের ১ম ব্যাচ। এসএসসিতে অনেক ভাল প্রস্তুতির পরেও এ+ না হওয়াই অনেক ভেঙে পড়েছিলাম। এবারও আম্মা অনুপ্রেরকের ভূমিকাতে। আর সাথে আমার বন্ধুরা। আমি বন্ধু হিসেবে যাদের পেয়েছিলাম/পেয়েছি তাদের প্রতি সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকব। এবার ঘুড়ে দাঁড়ালাম। এইচএসসিতে পেলাম এ+।

এবার শুরু হল আরেক দৌড়। ভার্সিটি ভর্তির দৌড়। অনেক জায়গাতে পরীক্ষা দিলাম। এর মধ্যে টিকে গেলাম পাবনার একটি প্রতিষ্ঠানে। সেখান থেকে গ্র্যাজুয়েশন করলাম। এর মাঝে ঘোটে যায় আমার জীবনে সব চেয়ে কষ্টকর ঘটনাটি। থার্ড ইয়ারে থাকতে আম্মা মারা গেলেন। এরপর শুরু হল আমার জীবনে একা পথ চলা।

আজ ৪ বছর হয়ে যাচ্ছে আম্মা মারা যাওয়া। প্রতিটা দিন কেম্নে যায় আমি নিজেও জানি না। আমার আম্মা আমার জীবনের হিরো। সারা দিনের সব ঘটনা তার কাছে জমা দিতাম। এখনও দেই মনে মনে। প্রকাশ্যে কাঁদতেও পারি না। আমার ছোট ২টা ভাই বোন আছে, তাদের জন্য। তাদের সামনে নিজেকে শক্ত করে রাখতে হয়। কিন্তু এই ব্যথা তো কমে না। আসলে এই ব্যাথা কোন দিনই কমবে না মনে হয়। শুধু আস্তে আস্তে তা সহনীয় হয়ে যাচ্ছে মনে হয়।

আজও লুকিয়ে লুকিয়ে আমি কাঁদি শুধু তারই জন্য। জীবনে অনেক কঠিন সময় আসে। সে গুলো থেকে মুক্তি হয় তো মা করতে পারবে না কিন্তু তার কাছে বললে মনে ১টা অদ্ভূত অনুভূতি হত। মনে হত আমি পারব সব কিছু অতিক্রম করতে। আর আজ......!!!

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:২৩
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) একমাত্র অনুসরনীয় আহলে বাইত তাঁর চাচা হযরত আব্বাস ইবনে আব্দুল মোত্তালিব (রা.)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩




সূরাঃ ৩৩ আহযাব, ৩২ নং ও ৩৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। হে নবী পত্নিগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে পর পুরুষের সহিত কোমল... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোরগের ডাক , বিজ্ঞানের পাঠ এবং গাধার প্রতি আমাদের অবিচার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৫


গ্রামে বেড়ে ওঠা মানেই একটা অসাধারন শৈশব। আমাদের সেই শৈশবের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল মক্তবের মৌলভি সাহেবদের গল্প। তারা বলতেন, ভোররাতে মোরগ ডাকে কারণ সে ফেরেশতা দেখতে পায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে? নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ??

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ?? সামু ব্লগের এই ক্রান্তিকালে বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা/পর্যালোচনা করে কিছু সময় কাঠানো যাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×