somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার জীবন - ৩

২২ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের ব্লগ গুলোর মতই এগুলো পাঠকদের জন্য নয়। নিজের স্মৃতি গুলো ধরের রাখার প্রয়াসে লিখছি মাত্র। আমার লিখা ভাল নয়, নিজের জন্যই লিখা।

যা ভয় করছিলাম তাই ই হল। ডাক্তার বললেন প্যানক্রিয়াস টিউমার এবং তা অনেক বড়, আমার মনে হয় ক্যান্সার হয়ে গেছে কিন্তু সেটা বের করে এনে টেস্ট না করলে বলা যাবে না। আমি সেই কথা শুনে কাঁদতে কাঁদতে ডাক্তারের চেম্বার থেকে বেড়িয়ে চলে গেলাম আমার ডাক্তারী পড়ুয়া ১জন বন্ধুর কাছে। সে আমার খুবই কাছে বন্ধু। ইংরেজিতে ১টা কথা আছে, Brother from another mother. সেই ধরনের বন্ধু। সে আমাকে অনেক শান্তনা দিল। এরমধ্যে আব্বা নানার বাড়ি যেয়ে সবাইকে বলে দিয়েছে এসবের ব্যাপারে। সবাই দলে দলে আসা শুরু করে দিল আমাদের বাড়িতে আম্মা কে দেখতে। আমার বিশ্বাস আম্মা তখনই বুঝে গেছিলেন তার অবস্থা খারাপ।


এরপর শুরু হয়ে গেল কোথায় চিকিৎসা করান হবে তা নিয়ে আলোচনা আর টাকা জোগাড় করার কাজ। প্রথমে ভাবছিলাম ভারত নিয়ে যাব কিন্তু সমস্যা হয়ে গেল যে আব্বা সরকারী করত। সে সময় সরকারী চাকুরেদের বিশেষ করে নিম্ন পদের লোকেদের দেশের বাইরে যাওয়া ছিল প্যারার কাজ, যা অনেক সময় সাপেক্ষ। আর সে সময় রাজনৈতিক অবস্থাও খুব খারাপ ছিল।বলতে গেলে সপ্তাহের ৪/৫ দিনই হরতাল লেগে থাকত। তাই সময় বেশী ছিলা না হাতে। তাই ঠিক করা হল ঢাকাতে ল্যাব এইডে যাব আমরা।

এদিকে আরেক সমস্যা হয়ে গেল। আব্বা টাকা খরচ করতে রাজি ছিল না। তার কথা হল ১লক্ষ টাকার মধ্যে যা হয় হবে। পরে অবশ্য যত টাকা লেগেছে উনিই দিয়েছেন। সে সময় উদ্বেগ উৎকণ্ঠার কমতি ছিল না আমাদেরমাঝে।

এত কিছুর পরেও অক্টবরের ২৫তারিখ আমরা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম আমরা। আমি, আম্মা আর ছোট ফুপু-ছোট ফুপা। এটাই আম্মার জীবনের ১ম ঢাকা যাত্রা। কে জানত এটাই তার শেষ হবে!!!

আমি আর ফুপা বসা ছিলাম একসাথে। সিরাজগঞ্জে এসে যাত্রা বিরতিতে আম্মার কাছে আমি চলে যাই। যমুনা সেতুতে উঠে আম্মা কে সেতুটা দেখালাম। আম্মা অনেক খুশি হয়েছিলেন। আদোর করেছিলেন অনেক। কখনই এরকম করে আদোর করতেন না, মানে তখন B. Sc. ৩য় বর্ষে পড়ি। এই বয়ষে এরকম আদোর পাওয়া যায় না। সেটাই যে শেষ আদোর, তখনও বুঝি নি।

আমরা ঢাকাতে এসে পৌছালাম রাত ১০টাই। উঠলাম ১জন দুঃসম্পর্কের ফুপুর বাসাই। সেই রাত আম্মার সাথেই ঘুমালা। সেটাও শেষবারের মত।

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) একমাত্র অনুসরনীয় আহলে বাইত তাঁর চাচা হযরত আব্বাস ইবনে আব্দুল মোত্তালিব (রা.)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩




সূরাঃ ৩৩ আহযাব, ৩২ নং ও ৩৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। হে নবী পত্নিগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে পর পুরুষের সহিত কোমল... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোরগের ডাক , বিজ্ঞানের পাঠ এবং গাধার প্রতি আমাদের অবিচার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৫


গ্রামে বেড়ে ওঠা মানেই একটা অসাধারন শৈশব। আমাদের সেই শৈশবের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল মক্তবের মৌলভি সাহেবদের গল্প। তারা বলতেন, ভোররাতে মোরগ ডাকে কারণ সে ফেরেশতা দেখতে পায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে? নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ??

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ?? সামু ব্লগের এই ক্রান্তিকালে বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা/পর্যালোচনা করে কিছু সময় কাঠানো যাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×