
লেখালেখির প্রতি আমার ঝোক ছোটবেলা থেকেই। সেই ক্লাস থ্রিতে থাকতেই প্রথম গল্প লেখার ভূত চাপে এই ছোট্ট মাথাটায়! যদিও সেসময় আমার দৌড় ছিল ফুল-পাখি-লতাপাতা পর্যন্তই! ঐ গণ্ডির বাইরে বেরিয়েও যে লেখালেখি করা যায়, এটা প্রথম জানলাম মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের বই পড়ে। বলার অপেক্ষা রাখে না, আমার মাথায় লেখার ভূত চাপার জন্যে দায়ী ব্যক্তিটি আর কেউ নন, স্বয়ং ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল!
ক্লাস ফোরে পড়ার সময় প্রথম স্যারের বই পড়েছিলাম, বইটার নাম ছিল "অবনীল"। ব্যস! তারপর থেকেই আমার শরীরের ওজন কমতে শুরু করল। আমি ক্রমশ শুকিয়ে হাড্ডিসার হতে লাগলাম! কীভাবে? সোজা উত্তর- একদিনও টিফিন পিরিয়ডে দুপুরের খাবার খেতাম না, বরং খাবারের টাকা বাঁচিয়ে রাখতাম স্যারের বই কেনার জন্য! এভাবেই ক্লাস সিক্সে উঠতে উঠতে স্যারের লেখা সব কিশোর উপন্যাস এবং সায়েন্স ফিকশন পড়ে শেষ করে ফেলেছিলাম!
২০০৭ সাল পর্যন্ত আমার অনেক লেখা ঘরের কোণেই ফেলে রেখেছিলাম, কোথাও প্রকাশ করার ইচ্ছা কখনোই ছিল না। কিন্তু কোথা থেকে যেন নতুন একটা ভূত এসে চেপে বসলো আমার মাথায়! সেই ভূতটা আমাকে বললো- "স্যারের নজরে পড়তে হবে! স্যারের সাথে দেখা করতে হবে!" তখনই মনে হল, স্যারকে নিয়ে একটা গল্প লিখলে কেমন হয়?? যেই ভাবা সেই কাজ! লিখে ফেললাম রম্যগল্প "দৈনিক ভূত সমাচার", যার কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন জাফর ইকবাল স্যার। গল্পটা ছাপা হলো প্রথম আলোর রস+আলো তে। এই এক লেখায় তো স্যারের নজরে আসতে পারলাম না, কিন্তু আমি চেষ্টা চালিয়ে যেতে লাগলাম! আরো বেশ কয়েকটা গল্প লিখে ফেললাম স্যারকে নিয়ে। তার মধ্যে একটা ছিল- "মুহম্মদ জাফর ইকবালের একদিন"! এরপর স্যারের "নিউরণে অনুরণন" পড়ে মাথায় খেললো নতুন বুদ্ধি! পাইয়ের মান দশমিকের পর পঞ্চান্ন ঘর পর্যন্ত মুখস্ত করলাম। তাতেও কাজ হয় নি অবশ্য! তারপর বইমেলায় বৃষ্টির মধ্যে স্যারের বইয়ের স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা, পাইয়ের মান লেখা প্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকা- আরো কত রকম চেষ্টা যে করেছিলাম এই একজনের নজরে আসার জন্য! এরপরে আরো অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে অবশেষে একদিন গুরুদেবের দেখা পেলাম! বেশ অনেকক্ষণ স্যারের সাথে কথা হল। সেদিন আমি হড়বড় করে কী বলছিলাম আমি নিজেই জানি না!
পরিশিষ্টঃ আমার জীবনে সাফল্যের ইতিহাস খুবই কম। কিন্তু যা কিছুই আছে, তার পেছনে এই মানুষটার অবদান আমাকে স্বীকার করতে হবে সবার আগে। ইনিই আমার সবকিছুর পেছনে মূল অনুপ্রেরণা! এবং শুধু আমি না, আমার মত আরো লক্ষ লক্ষ মানুষের সাফল্যের পেছনেও মূল অনুপ্রেরণা এই মানুষটি। সেই তুলনায় আমি তো একেবারেই নগণ্য!!
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০১৮ রাত ১:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




