somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বেকার মাইনষের জীবন (একটি দুঃখখচিত রম্য পোষ্ট )

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেকার জীবনের কিছু বৃত্তান্ত ও প্রয়োজনীয় দুঃখের সমাবলি-

বেকার মানুষের জীবন মাঝেমইধ্যে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স দিয়া চলতে হয়। বাবার দেয়া হাত খরচের টাকা দিয়া আর কত দিন চলা যায়!! যাই হোক, ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স এর ক্ষেত্রে গ্রামীনফোন খুব একটা উদার না, শুধু পাশেই থাকে।
আর দামি স্মার্টফোন ব্যবহার করাটাও প্যারা!! বন্ধু সহ অনেকের প্রশ্ন- এই তোর কাছে এতো টাকা আসে কোত্থেকেরে। যদি বলা যায় বাবা কিনে দিছে তাহলে তো সুপার সুখের ম্যান বানায়া ফেলবে!! উপায়হীন বিপদে পরা আরকি..!




শুক্রুবার ছুটির দিন আমার মত বেকার+অবিবাহিত মাইনষের জন্য খুবই হতাশা এবং কষ্টের একটা দিন। এই দিনে মানুষ গার্লফ্রেন্ড বা ওয়াইফ কে নিয়া ঘুরতে যায়, শপিং করে আর আমি ঘরে বইসা একলা একলা ফেসবুকিং করি, ব্লগিং করি আর না হইলে ক্যান্ডি ক্রাশ খেলি। পুরাই হতাশা;;;

বেকার ও অবিবাহিত মানুষদের জীবনে সবচেয়ে কষ্টের দৃশ্য হচ্ছে নিজের বন্ধু বা বান্ধবীর কোলে বাচ্চা নিয়া আইসা সামনে দাড়ানো। এরপর আবার বলে বসা কিরে কবে বিয়ে করবি বয়স তো আর কম হলো না। তখন উত্তর টা হয় এরকম; আমার মত এরকম বেকার অকাল কুষ্মান্ড মার্কা ছেলের কাছে কোন্ চৌধুরী সাহেব বাবা তার আদরের মেয়েকে বিয়ে দেবে। একদম সেন্টিমেন্টাল টাইপ।।

তবে বেকার মাইনষের জীবনের একটা সুবিধা মানে বিশেষ সুবিধা হইল কোন নির্দিষ্ট টাইম টেবল নাই, তাই জ্যামে পরলে কোনও সমস্যা নাই। কারন অফিস নাই তো দেরি করার কৈফিয়তও নাই বসের উচ্চ গলার আওয়াজও শুনতে হয় না। বিশেষ পুরষ্কার পাওয়া টাইপ একটা ফিলিংস্..
বেকার মানুষের জীবনে অনেক ব্যস্ততা ইজি কাজে বিজি (আন্তাজেই) এই জন্য রাতে দেরী করে ঘুমাতে যাওয়া হয়। এই কারনে সকালে ঘুম থেকেও উঠতে সাভাবিক ভাবে একটু দেরী তো হবেই! উঠার পর সকাল সকাল "মা" না হয় "বাবার" স্পেশাল বকুনি 'এহ জমিদার ডায় উঠছে' কে কে এরকম শুনেন নাই একটু আওয়াজ দিবেন।
বেকার মানুষদের কাম কাজ নাই কোন, সাভাবিক সারাদিন তো ঘুমাইবোই।

বেকার+অবিবাহিত দুইটা শব্দের কম্বিনেশন টা সেইরকম, বাস্তবিক জীবনেও। আসলে বিষয়টা হলো এমন, যদি বেকার থাকেন তাহলে অবিবাহিত থাকাটাই সাভাবিক আর যদি বিয়ে করে বেকার থাকার চিন্তা ভাবনা করেন কেউ তাহলে বউ কিন্তু হয় বাপের বাড়ি চলে যাবে আর না হলে আরেক জনের হাত ধরবে (একটু ১৮+ কথা)।

ধরেন, বিশেষ কিছু ছুটির দিন গুলো যেমন ইদের লম্বা ছুটি তে বেকার মাইনসের ফিলিংস্ এমন হতে পারে, সারাদিন তো ছুটিই কাটাই এই ছুটিতে কি করুম?! মনে অনেক প্রশ্ন জেগে উঠবে, তখন মনে মনে প্ল্যান করে যে ঢাকা তো ফাকাই থাকে ছুটিতে পুরা ঢাকা ঘুইরা দেখুম! আহ্ সপ্ন পকেটে টাকা থাকতে হবে তো!!তখন মোটিভেশনের জন্য নিজে নিজেই, এহহ্ ভেকেশন!!! (সেন্টিমেন্টাল টাইপ) ভাল্লাগেনাহ্;;;;;

বেকার+অবিবাহিত মাইনষের জীবনে সবচেয়ে বিড়ম্বনার আরেকটা বিষয় হলো, কারো বিয়ের দাওয়াতে উপস্থিত হওয়া! এমত সময় পরিচিত তো থাকবেই। যদি দেখা হয় তাহলে কমন একটা প্রশ্ন ছাড়বেই, কতকাল আর বেকার থাকবি চাকরি নেও, রোজগার করো একটা সুন্দর মেয়ে দেখে বিয়ে করো ইত্যাদি! আর বড় ভাই বিশেষ ভাবে বাবা এরকম একটা ডায়ালগ তো ছাড়বেই, হারা জীবন অন্য মাইনষের বিয়া খাইয়া যাইতে হইবো নিজে কিছুই করতে পারবানা!! আহারে জীবন.....

তবে বেকার জীবনে একটা অভিজ্ঞতা সারা জীবন কাজে দেয় সেটা হচ্ছে কাজ আর হাতে টাকা না থাকার কি কষ্ট। সবচেয়ে পেইনের বিষয় টা হলো ঘনিষ্ট কোন বন্ধু যখন ভালো চাকরি করে , টাকা ইনকাম করে, বউ নিয়া শপিংএ যায় এটা চোখের সামনে দেখা টা খুবই কষ্টের, বুক ফাটা যন্ত্রনা। আবার ওই বন্ধুকেই যদি বলা যায়, দোস্ত খুব বিপদে আছি, বেকার, টাকা পয়সা নাই, একটা চাকরি দেছ না; তখন তাহার উত্তর- কি করবি চাকরি কইরা বেকার আছোত ভালাই আছোত! বিবাহিত ও অবিবাহিত যেকোন বন্ধু বা ভাই ব্রাদার হোক, চাকরির কথা বললে ঠিক একই রকম উত্তর দেয়- কি করবা চাকরি করে............! শরীর টা জ্বলে মনে চায় ওগরে তখন ধইরা মাথার চুল টাইনা ছিরা ফালাই।



বেকার মানুষের কাছে যখন তার এক বন্ধু একটা আবদার করে, দোস্ত একটা সিগারেট খাওয়া! এর চাইতে কষ্টের আর দুঃখের আবদার পৃথিবীতে হতেই পারে না। মনে হয় কাটা ঘায়ে লবনের ছিটা দিলো। চাইরানা রোজগার নাই তার উপর ১২ টাকা দিয়ে একটা সিগারেট খাওয়ানো, ব্যাপার টা কি দাড়াইতে পারে!! ফাইজলামির ভাবসম্প্রসারন হইতেছে....
এ...
যাই হোক বেকার মাইনষের জীবন ব্যাতিক্রম সব অভিজ্ঞতা দিয়ে পূর্ণ!!!
কারোও জীবনের সাথে মিলে গেলে বা যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে দায়ভার বর্তাবেন না আমার উপর প্লিজ। কথা গুলো সম্পুর্ন নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই লিখলাম!!

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১:৪৬
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×