somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী মূলত সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য ভণ্ডামি বৈ অন্যকিছু না। সম্প্রীতি মানে বিশ্বাসের সীমারেখা মুছে ফেলা নয়!

ধর্মের ভিত্তি বিশ্বাস, ঈমান ও আকিদা। আর ধর্মীয় উৎসব কেবল আনন্দ-উৎসব নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে উপাসনা, ধর্মীয় বিধান, আধ্যাত্মিক উপলব্ধি ও নিজ নিজ ধর্মবিশ্বাসের স্বতন্ত্র পরিচয়।

উদাহরণঃ ঈদ মুসলমানের ধর্মীয় উৎসব, দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আর বড়দিন খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় উৎসব। এসব উৎসবের ধর্মতাত্ত্বিক ভিত্তি, উপাসনার পদ্ধতি ও বিশ্বাসের তাৎপর্য এক নয়। তাহলে ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে সব ধর্মের উৎসবকে কী অর্থে সবার উৎসব বলা যায়?


অন্যের ধর্মীয় উৎসবকে সম্মান করা আর সেই উৎসবকে নিজের ধর্মীয় উৎসব হিসেবে গ্রহণ করা এক বিষয় নয়। একজন মুসলমান দুর্গাপূজায় অংশ না নিয়েও হিন্দু প্রতিবেশীর নিরাপত্তা ও আনন্দের অধিকার রক্ষা করতে পারেন। একজন হিন্দু কিংবা খ্রিষ্টানও অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাস গ্রহণ না করেই মুসলমানের ঈদ উদযাপনের স্বাধীনতাকে সম্মান করতে পারেন।
সম্প্রীতির জন্য বিশ্বাসের অভিন্নতা প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন পরস্পরের বিশ্বাস ও অধিকারকে সম্মান করার মানসিকতা।

আমাদের প্রত্যাশা হোক- প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান ও বিশ্বাস অনুযায়ী স্বাধীনভাবে উৎসব পালন করুক। কেউ কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করবে না, কাউকে ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেবে না, আবার কাউকে নিজের বিশ্বাসের বাইরে কোনো ধর্মীয় আচারে অংশ নিতে সামাজিক চাপও দেবে না।



রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা। ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সামাজিক সৌহার্দ্য, শুভেচ্ছা বিনিময় কিংবা প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়ানো অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু নাগরিক সম্প্রীতির নামে ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাতন্ত্র্যকে গুলিয়ে ফেলার প্রয়োজন নেই।

আমার বক্তব্য কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, কোনো ধর্মীয় উৎসবের প্রতিও অসম্মান নয়। বরং প্রত্যেক ধর্মের নিজস্ব বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই কথাটি বলছি। এই পোস্টে তিনটি ছবি যুক্ত করেছি- যেখানে তিনটি ধর্মের তিন রকম উৎসবের আদলেই প্রমাণ করে উৎসবের ভিন্নতা।
আমি বিশ্বাস করি- ‘যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব; কিন্তু অধিকার, নিরাপত্তা, মানবিকতা ও রাষ্ট্র সবার।’
ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রেখেও কীভাবে সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা যায়।
বিশ্বাস আলাদা হতে পারে, কিন্তু নাগরিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা সবার সমান।
এই দৃষ্টিভঙ্গি কাউকে ছোট করে না, কারও বিশ্বাসে হস্তক্ষেপও করে না; বরং ভিন্নতার মধ্যেই সহাবস্থানের পথ দেখায়।

ধর্মীয় সম্প্রীতি মানে সবাইকে একই বিশ্বাসে কিংবা একই উৎসবে একাকার করে দেওয়া নয়। সম্প্রীতি মানে- বিশ্বাস আলাদা হলেও মানুষ হিসেবে আমরা পরস্পরের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করব- এটাই আমার বিশ্বাস, এটাই আমার অবস্থান।

সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১৪
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×