somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন উদ্যোক্তার নিরব প্রস্থান! ( একটু রম্য )

০১ লা জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



স্বভাব সুলভ ভাবেই তানভির ভাই একজন রোমান্টিক টাইপ মানুষ। মেয়ে মানুষ দেখলে; বেশির ভাগ সময় কম বয়সী মেয়ে মানুষ দেখলে উনার মাথা বিগ্রে যায়!! না ওরকম ভয়ঙ্কর কিছু নাহ্! শুধু মাত্র অন্তরে প্রেমজালা বেড়ে যায় আরকি; যাকে শর্টকার্ট বাংলায় বলে ক্রাশ খেয়ে যান। বুখ্খত (বুকের ভেতর) হা হুতাশ বেড়ে যায়, মানে ভালোবাসা উতলে উঠে, ছটফটানি বেড়ে যায়, এই ইত্যাদি ঘটে। সবার সামনে বলবেন এই মেয়েকে পটিয়েই ছারবো। তারপর কতক্ষন ওই মেয়ের আশেপাশে ঘুরাঘুরি করবে, একিয়ে বেকিয়ে তাকাবে এরপর আবার তারেকের কাছে এসে ভাই ওই মেয়েটার সাথে আমার ফিটিং করিয়ে দিন ( লুল )!!
তারেকের সেই চিরচেনা উত্তর , ভাই এটা কেমনে সম্ভব?! আমার নিজের জনরেই তো ভালোবাসার প্রস্তাব দিতে পারছিনা! ( ভিষন ট্রাজেডি ) মনে হয় দুজনেই মায়ের পেটের ভায়রা ভাই!!
তারপর কিছু বুক ভরা হতাশা নিয়ে ঘুরে বেড়াবে তানভির ভাই, কিছু জালাময়ী পোষ্ট স্ট্যাটাস দিবেন ফেবুতে! পরে মাথা ঠান্ডা হলে আশেপাশের কাউকে বলে ফেলবেন; ভাই আপনি ওই মেয়ের সাথে প্রেম করেন, ফিটিং আমি করিয়ে দেবো। ফিটিং মানে একজন আরেকজনের সাথে প্রেম ভালোবাসার সম্পর্ক করিয়ে দেয়া!! ( দুঃখে কাইত ) হাউ ফানি। নির্ঘাত কোন এককালে বহুত বড় ধরনের ছ্যাক খাইছিলো!! খাইতেই পারে ব্যাচারা একটা প্রেম প্রস্তাব দিতে পারে না সফল প্রেমিক হবে কেমনে?
তবে তানভির ভাইয়ের মন পুরাই উদার! উনার উদ্যোগ উনার পরিচিত সবাইকেই উনি প্রেম করিয়েই ছাড়বেন! ( ইন্টারেষ্টিং উদ্যোগ )... বিবাহিত হলেও বোধহয় পরোকীয়া প্রেমও করিয়ে ছাড়বেন। এজন্য পরিচিতদের ভেতর ছেলেমেয়ে একসাথে কথা বললে, পাশাপাশি বসলে, বা কোথাও ঘুরতে গেলে যদি উনার চোখে পরেন তাহলে উনি নিজ উদ্যোগে বুঝে নেন এরা দুইজন প্রেমিক-প্রেমিকা ( ভিষন বিপদ )!!! তো এমত অবস্থায় উনি দুজন ছেলে মেয়েকেই খুব উৎসাহ প্রদান করেন, মানে ইয়ে আরকি 'বেষ্ট অফ লাক' জানান! আর ওপর প্রান্তে দুজন 'হা' করে তাকিয়ে থাকেন, আর ভাবেন উনি এগুলো কি বলছেন কিছুই তো বুঝি না! উনার 'বেষ্ট অফ লাকে' কথা গুলো এরকম হয়ে থাকে; কি ভাই বা আপু কেমন চলছে দিনকাল!? ভালোই তো দেখছি! সব কিছু ঠিক মত চলছে তো কোন সমস্যা হলে জানাবেন কিন্তু! এবার বলেন এরকম কথা শোনার পর কার না মাথা ঘুরাবে, টাষ্কি লাগবে? আমার তো মাথা গরমই হয়ে যাবে।
রুমা ম্যাডাম আবার উনার খুব প্রিয় যতটা না তারেক কে। মুখে তারেককে সব সময় বলে "ভাই আপনে আমার মায়ের পেটের ভাইয়ের মতন" আসলে বাস্তবে কতটুকু সত্য তা কোন সাইন্টিফিক সাইকোলজিক্যাল মেশিনও আবিষ্কার করতে পারবে কি না তা সন্দেহ।
উনার উদ্যোক্তা পূর্ন অত্যাচারে আবেগে আপ্লুত রুমি! রুমির একজন জলকন্যা ছিলেন মানে ওই যে পাশের চেয়ারে বসতেন সাথে। মেয়েটার নাম হলো শিরিন; বুঝেন নাই, বুঝেন নাই ব্যাপার টা?! রুমি কে প্রায়ই সময় ওই একি কথা; কি খবর ভাই? কেমন চলছে?! উদ্যোক্তার মন বলে কথা, ভাবতেন ওরা দুজন প্রেমের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন?! তাই তিনি এতো আদরের খোচা দিতেন। রুমির সোজা উত্তর; ভাই খুব ভালো চলছে। রুমি কিন্তু ভালোই এ্যাডজাষ্ট করে নিয়েছিলো ব্যাপারটা। কি আর করার তারেকের মায়ের পেটের ভায়রা ভাই বলে কথা! তাই সব প্যারা সয়ে গেছে নিরবে!

আমার সাথে উনার পরিচয় হওয়ার দিন দশেকের মাথায় উনার একই প্রস্তাব; ভাই কি প্রেম টেম করেন, না করলে বইলেন ফিটিং করায়া দিবোনে! মানে ঘটনা টা হলো যে, উনি আমাকে শিরিনের সাথে কয়েকদিন পাশাপাশি বসতে দেখছেন! এই জন্যই তার এতো বড় প্রস্তাব! এবার প্যারা আমার দিকে ডায়াভার্টেড! যথাসাধ্য মুশকিলে পরলাম যা বলার বাহিরে। আমি বলি সে আমার ছোট বোনের মত। উনি বলেন আরে ভাই প্রথমে ছোট বোনই হয় পরে প্রেম! কি এক জালায় পরলাম একদিন নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হয়েই মুখোমুখি তানভির সাহেব; কোন আগাগোড়া না বলেই এ ভাই আপনি শিরিনের সাথে প্রেম করেন। (সদ্য মুক্তি পাওয়া এক পাবনা ফেরত পাগল)!!
সে যাই হোক অনেক কথা, উনি কিন্তু রুমা ম্যাডামের খোজ খবর বেশ নিতেন। কে জানে কিসের এতো টান নাকি টানটানান?! ফেবু ম্যাসেন্জারে একটা গ্রুপ আছে আমাদের, যেটা খুব কষ্ট করে বানিয়েছেন ও আগলে রেখেছেন ওই যে গুণী তারেক ভাই। তো ম্যাসেন্জারে সাতজন মানুষ থাকা সত্বেও তানভির ভাই কিন্তু ওই রুমা ম্যাডামেরই খোজ নিতেন। যেমন, হাই রুমা ম্যাডাম, লাঞ্চ করেছেন, কোথায় আপনি, পড়তে পড়তে শুখায়া যাইতেছেন এই টাইপ প্রশ্ন। রুমা ম্যাডাম ছাড়া উনি কারও খোজ খবর নেনই না! আহা কত প্রীতি; মনে হয় রুমা ম্যাডামের খোজ খবর নেয়ার লোক জন সব উগান্ডায় থাকেন! রুমা ম্যাডামের কত সৌভাগ্য! একদিন উনি চানাচুর খেতে চেয়েছিলেন কিনে এনে লাইব্রেরীতে ঢুকে একদম সোজা এসে রুমার হাতে দিলেন, পরদিন রুমা নুডুলস্ খেতে চেয়েছিলো যাহার ফটু তুলে ম্যাসেন্জারে আপলুড করে দিয়ছেন ( ওরে মহব্বত রে ) ।
উনি রুমা ম্যাডামকেও তার উদ্যোক্তা পূর্ন অত্যাচার থেকে রেহাই দেন নি ( স্ট্রেইন্জ )! দেখা হলেই কি ম্যাডাম একা একা আর কতদিন? কাউকে পছন্দ হইলে বইলেন ( নিজেরই টানাপোড়েন)! এই ইন্সটিটিউটের কাউকে পছন্দ হয় না? মানে দেখা হইলে ওই প্রেমেরও আলাপ! একদিন সন্ধ্যায় রুমা ম্যাডামকে প্রশ্ন করলেন উদ্যোক্তা, আপনার কি কাউকে ভালো লাগে না? বা কেউ কি আপানাকে ভালোবাসার প্রস্তাব দেয়নি!? বিরক্ত হয়ে রুমা ম্যাডাম উত্তরে ফরমাইলেন; দেখেন ভাই কলেজ ভার্সিটি সব জায়গায় কেউ না কেউই আমাকে পছন্দ করতো তাই বলে কি সবার সাথে কি আমার প্রেম করতে হবে?!! তো এইবার উদ্যোক্তা কাইত। খানিক্ষন বাদে রুমা সরাসরি বুঝিয়ে দিলেন প্লিজ ভাই আমাকে আর কখনো এইসব প্রশ্ন করবেন না। তো তানভির ভাই উজবুকের মতন একটা হাসি হেসে চলে গেলেন।
সেইদিন ( মানে বেশ কিছুদিন আগের কথা) উনি পুরোই হতাশ! উনার অবর্তমানে সেল্ফে রাখা স্যারের লেকচার শীটগুলো গুম হয়ে গেছে! রুমা ম্যাডাম ও তারেক ভায়রা ভাইয়ের টেবিলের সামনে এসে বললেন; কি অবস্থা দেখেন শীট গুলো সেল্ফে রাখলাম কে যেন শীট গুলো নিয়ে গেছে। যথারীতি ওরা দুজন সান্তনা প্রদান করলো। এরপর কিছুক্ষন এদিক সেদিক অস্থির মুডে ছুটোছুটি করলেন! আবার ওদের টেবিলের সামনে এসে দাড়িয়ে; নাহ্ ভাই আজকে চলে যাই ভালো লাগছেনা! এই বলে সেদিনের জন্য মহা উদ্যোক্তা প্রস্থান করলেন। কিঞ্চিৎ নিরবে.....



[ লেখাখানি রম্য হলেও; মূল ঘটনাবলি, স্থান, কাল, চরিত্র সবই একদম সত্য]
......
বছরের প্রথম দিন একটু রম্য দিয়ে শুরু করলাম।।
নতুন বছরের শুভেচ্ছা সবাইকে , শুভ হোক নতুন বছর.....! সকল ব্লগার ভাই, বোন, এবং ব্লগের বাইরেও সকলের জন্য শুভ কামনা রইলো, হাস্যোজ্জল হয়ে উঠুক সবার জীবন..।।


ছবি: অন্তর্জাল,,,
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৪:৩৬
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×