somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৭১ ও বর্তমান বাংলাদেশ। এদেশের স্বাধীনতার পিছনে মূল ভূমিকা কার?

১২ ই এপ্রিল, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয় এ দেশ। মুক্তিযুদ্ধ দেখার সেই সৌভাগ্য আমার হয়নি। কারণ তখন আমি দুনিয়াতেই আসিনি। কিন্তু বই পুস্তক হতে, লোক মুখে এবং বিভিন্ন মিডিয়া হতে স্বাধীনতার ইতিহাস সম্পর্কে কিছুটা হলেও অবগত হয়ছি। সেই ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ দেশ কারো ভাষণ কিংবা ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়নি। স্বাধীন হয়েছে দীর্ঘ নয় মাস সম্মুখ যুদ্ধের মোকাবেলা করার পর। এই দীর্ঘ নয় মাসে প্রাণ হারিয়েছ অনেক বাঙ্গালী। অনেক মা-বোন হারিয়েছে তাদের সম্ভ্রম। ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে এবং ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। আমি মনে করি এই স্বাধীনতার প্রকৃত দাবীদার তারাই, যারা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। কিন্তু আমার বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই শুনে আসছি বাংলাদেশের দু'টো দল তাদের মধ্যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এই দাবী নিয়ে। একদল বলছে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষনেই স্বাধীনতার ঘোষনা দেওয়া হয়, আবার আরেক দল বলছে জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র, চট্টগ্রাম থেকেই স্বাধীনতার ঘোষনা দেয়। প্রিয় পাঠকগণ, আপনারা বলুন দেশে কি এখনো মানুষ বোকা আছে? কারো ঘোষনা দেওয়ার মাধ্যমে কি একটি দেশ স্বাধীন হয়ে যায় এটা আপনারা বিশ্বাস করেন। ভাগ্য ভাল যে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গণি ওসমানি জীবিত নাই। কিংবা তার কোন ওয়ারিশ ও নাই। থাকলে আজকের দিনে আমি মনে করি একমাত্র তার পরিবারই দাবী করতে পারতো যে, জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী'ই দেশকে স্বাধীন করার পিছনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। দেশবাসীর ভাবনা আমি জানিনা, আমার মনে হয় বর্তমান বাংলাদেশের এই প্রেক্ষাপটে এসে আমাদের সেই পুরোনো বিরোধ ভুলে গিয়ে যার যা কৃতীত্ব তাকে দেওয়া উচিত। মুক্তিযুদ্ধে কম বেশি অনেকেই অবদান রেখেছ। এই মুহুর্তে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিলে দেখতে পাবেন অনেকে আছে যারা মুক্তিযুদ্ধ করেনি অথচ তাদের নামে মুক্তিযোদ্ধা সনদ পত্র আছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য হয়েছেন অনেকেই। আবার এও দেখবেন অনেক সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধ আছে যাদের কোথার কোন রকম অন্তর্ভূক্তি নাই। অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন এরকম মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশে এখনো অনেক পাওয়া যাবে। সুতরাং এই মুক্তিযুদ্ধ নিয়া বেশী ঘাটাঘাটি না করে দেশটা যেহেতু স্বাধীন হয়েছে এবার স্বাধীনতা রক্ষা করার পালা। বর্তমানে আমরা এমন এক পরিস্থিততে আছি, মনে হয় না আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। সকাল কর্ম লক্ষ্যে ঘর থেকে বের হলে চিন্তায় থাকতে হয় যে রাত্রে নিজ ঘরে ফিরতে পারবো কিনা। কিছুদিন আগে বিরোধী দলীয় হরতাল চলছিল। আমার চাচা আসছে কাতার থেকে। উনাকে আনতে গেলাম রিক্সায় করে আর আসার সময় একটি সি.এন.জি. নিয়ে চলে আসছিলাম। তখন দুপুর ২ টা। পুরো চট্টগ্রাম নগরী অতিক্রম করে ঘরের কাছাকাছি আসতেই শুরু হল আক্রমণ। অনেক বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করলাম। কিন্তু ততক্ষণে গাড়ী ভাঙ্গা হয়ে গেছে। এই হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতা। হরতালের মধ্যে একজন রোগী হাসপাতাল নিয়ে যেতে যেতে পথেই মারা যাবে, তবু হাসপাতালে যেতে দেওয়া হবে না। এটাই আমাদের বহু কষ্টার্জিত স্বাধীনতা। আমরা এর পরিত্রাণ চাই। আমরা চাই নিজের মত করে বাঁচতে, নিজের মত করে চলতে এবং স্বাধীনভাবে ঘুরতে ফিরতে। আমরা আর পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকতে চাই না। আসুন এখনই সময় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একত্রিত হওয়ার।

আমার এই লেখাটি পূর্বে এখানে প্রকাশিত
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যুদ্ধে কেউ জয়ী হয়না, যুদ্ধ বন্ধ হলে মানবতার জয় হয়।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩

যুদ্ধে কে জয়ী হয়েছে?

আমার উত্তর খুব সহজ- কেউ না।
যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী বলে কেউ থাকে না। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন শুধু সৈনিক নয়; মায়ের বুক খালি হয়, শিশুর ভবিষ্যৎ ভেঙে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

লিখেছেন আমি তুমি আমরা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।

দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।

ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কটা দুলাল

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফাউ টাকার গল্প

লিখেছেন এস আই জয়, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৫

সময় ২০১৪ সাল...

ভার্সিটিতে আজ ক্লাস শেষে আমি, মেহনাজ, তামিম আর শাওন গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছি। হঠাৎ কোত্থেকে শেতু এসে হাজির। এসেই ডিরেক্ট ঘোষণা! আজ নাকি সে আমাদের সবাইকে স্টার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×