আজ ১৮ দলের ডাকা টানা ৩৬ ঘন্টার হরতাল শুরু হয়েছে। হরতালের প্রধান ইস্যু দলীয় নেতাদের মুক্তি। হরতাল বাংলাদেশের একটি সাংবিধানিক আন্দোলনের মাধ্যম। জাতীয় ইস্যুতে দেশের স্বার্থ রক্ষায় হরতাল আহবান করা যেতে পারে। আর এ হরতাল প্রতিহত করার সরকারের যে প্রচেষ্ট তা আসলে কি ভাল হচ্ছে? আমার মনে হয় মোটেও ভাল হচ্ছে না। কারণ এতে নৈরাজ্য, সহিংসতার আশংকা বৃদ্ধি হয়। একদল থাকে হরতাল সফল করার প্রচেষ্টায় আরেক দল থাকে তা প্রতিরোধ করায়। এতে দু’পক্ষের মধ্যে সৃষ্টি হয় ক্রোধ এর, হিংসা এবং ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া তো আছেই। এক পর্যায়ে তা সহিংসতায় পরিণত হয়। আর এ সহিংসতার দরুণ ককোন নেতা কর্মী আহত কিংবা নিহত হলে বিশেষ করে হরতালের সমর্থকদের মধ্য থেকে কেউ হলে ব্যাস্। পরের দিন আবার হরতাল। আর বর্তমানের হরতালে সবসময় বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের উপর থাকে পুলিশি নজর এবং বাঁধা। মিছিল করতে দেওয়া হয়না, সমাবেশ করতে গেলে বাঁধা প্রদান করা ইত্যাদি দেখলে মনে হয় এগুলো উদ্দেশ্য প্রণোদিত। হরতাল সমর্থক কিংবা বিরোধী দলের নেতা কর্মীরা জোর পূর্বক বাঁধা অতিক্রম করতে গেলেই শুরু হয় ধর-পাকড়। তারপর আবার শুরু হয় সেই ধর-পাকড়ে পাকড়াও হওয়া নেতা কর্মীদের মুক্তির দাবীতে হরতাল কিংবা আন্দোলন। এতে করে আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতিতে এমন প্রভাব পড়ছে যে মনেই হয়না কখনো এ দেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছেন তারা আজীবন মেয়াদ নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন? না, তাদেরও কখনো না কখনো আবার বিরোধী দল হতে হবে। তাহরে তখন তাদের অবস্থা কি হবে একবার কি ভেবে দেখেছেন এই ক্ষমতাসীন দল। হাতে ক্ষমতা আসলেই মানুষ এভাবে ভোলানাথ হয়ে যাওয়া ঠিক না। এতে নিজেরই ক্ষতি। এদেশ স্বাধীন হয়েছে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। এদেশের রাষ্ট্রীয় ভাষা অর্জিত হয়েছে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। তারমানে বুঝতে হবে এদেশের জনগণের ঘাড়ের উপর জোর-জবরদস্তি জরগণ মেনে নিতে পারে না। এরা যেকোন মুহুর্তে আবারো সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়তে জানে। সুতরাং দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমার আহবান, আপনারা সংঘাতের রাজনীতি মন থেকে ধূয়ে মুছে অহিংস রাজনীতির প্রতি জোর দিন। এদেশের সহজ সরল জনগণকে উপহার দিন সুন্দর একটি দেশ। আমরা সুন্দরভাবে, শান্তভাবে এবং নিরাপদে বাঁচতে চায়। মুক্তমনে, স্বাধীনচিত্তে খোলা আকাশের নিচে ঘুরতে চায়। বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ যেন একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে আমরা সেরকম বাংলাদেশ চায়।
আজ থেকে শুরু হয়েছে আবার হরতাল। আর হরতাল মানেই সহিংসতার আশংকা।
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
আজ ১৮ দলের ডাকা টানা ৩৬ ঘন্টার হরতাল শুরু হয়েছে। হরতালের প্রধান ইস্যু দলীয় নেতাদের মুক্তি। হরতাল বাংলাদেশের একটি সাংবিধানিক আন্দোলনের মাধ্যম। জাতীয় ইস্যুতে দেশের স্বার্থ রক্ষায় হরতাল আহবান করা যেতে পারে। আর এ হরতাল প্রতিহত করার সরকারের যে প্রচেষ্ট তা আসলে কি ভাল হচ্ছে? আমার মনে হয় মোটেও ভাল হচ্ছে না। কারণ এতে নৈরাজ্য, সহিংসতার আশংকা বৃদ্ধি হয়। একদল থাকে হরতাল সফল করার প্রচেষ্টায় আরেক দল থাকে তা প্রতিরোধ করায়। এতে দু’পক্ষের মধ্যে সৃষ্টি হয় ক্রোধ এর, হিংসা এবং ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া তো আছেই। এক পর্যায়ে তা সহিংসতায় পরিণত হয়। আর এ সহিংসতার দরুণ ককোন নেতা কর্মী আহত কিংবা নিহত হলে বিশেষ করে হরতালের সমর্থকদের মধ্য থেকে কেউ হলে ব্যাস্। পরের দিন আবার হরতাল। আর বর্তমানের হরতালে সবসময় বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের উপর থাকে পুলিশি নজর এবং বাঁধা। মিছিল করতে দেওয়া হয়না, সমাবেশ করতে গেলে বাঁধা প্রদান করা ইত্যাদি দেখলে মনে হয় এগুলো উদ্দেশ্য প্রণোদিত। হরতাল সমর্থক কিংবা বিরোধী দলের নেতা কর্মীরা জোর পূর্বক বাঁধা অতিক্রম করতে গেলেই শুরু হয় ধর-পাকড়। তারপর আবার শুরু হয় সেই ধর-পাকড়ে পাকড়াও হওয়া নেতা কর্মীদের মুক্তির দাবীতে হরতাল কিংবা আন্দোলন। এতে করে আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতিতে এমন প্রভাব পড়ছে যে মনেই হয়না কখনো এ দেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছেন তারা আজীবন মেয়াদ নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন? না, তাদেরও কখনো না কখনো আবার বিরোধী দল হতে হবে। তাহরে তখন তাদের অবস্থা কি হবে একবার কি ভেবে দেখেছেন এই ক্ষমতাসীন দল। হাতে ক্ষমতা আসলেই মানুষ এভাবে ভোলানাথ হয়ে যাওয়া ঠিক না। এতে নিজেরই ক্ষতি। এদেশ স্বাধীন হয়েছে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। এদেশের রাষ্ট্রীয় ভাষা অর্জিত হয়েছে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। তারমানে বুঝতে হবে এদেশের জনগণের ঘাড়ের উপর জোর-জবরদস্তি জরগণ মেনে নিতে পারে না। এরা যেকোন মুহুর্তে আবারো সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়তে জানে। সুতরাং দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমার আহবান, আপনারা সংঘাতের রাজনীতি মন থেকে ধূয়ে মুছে অহিংস রাজনীতির প্রতি জোর দিন। এদেশের সহজ সরল জনগণকে উপহার দিন সুন্দর একটি দেশ। আমরা সুন্দরভাবে, শান্তভাবে এবং নিরাপদে বাঁচতে চায়। মুক্তমনে, স্বাধীনচিত্তে খোলা আকাশের নিচে ঘুরতে চায়। বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ যেন একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে আমরা সেরকম বাংলাদেশ চায়।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
যুদ্ধে কেউ জয়ী হয়না, যুদ্ধ বন্ধ হলে মানবতার জয় হয়।
যুদ্ধে কে জয়ী হয়েছে?
আমার উত্তর খুব সহজ- কেউ না।
যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী বলে কেউ থাকে না। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন শুধু সৈনিক নয়; মায়ের বুক খালি হয়, শিশুর ভবিষ্যৎ ভেঙে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।
দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।
ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন
কটা দুলাল

বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফাউ টাকার গল্প
সময় ২০১৪ সাল...
ভার্সিটিতে আজ ক্লাস শেষে আমি, মেহনাজ, তামিম আর শাওন গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছি। হঠাৎ কোত্থেকে শেতু এসে হাজির। এসেই ডিরেক্ট ঘোষণা! আজ নাকি সে আমাদের সবাইকে স্টার... ...বাকিটুকু পড়ুন
জীবন পর্ব -১

(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।