লেখালেখি স্বতস্ফুর্ত একটা বিষয়। এটা স্কুলের সিলেবাস নয়, বরং সিলেবাস না পড়া মানুষগুলোই লেখালেখি করে। প্রত্যেকের লেখালেখির একটা নির্দিষ্ট ক্ষেত্র থাকে। টাকার জন্য, জীবিকার জন্য লিখলে ভিন্ন কথা, সেখানে ফরমায়েশি লেখা লিখতে হয়। কিন্তু ব্লগে তো তেমনটি হওয়ার কথা নয়। ব্যক্তি তার কথাটি যাতে নির্বিঘ্নে প্রকাশ করতে পারে, সেজন্যই তো ‘বিকল্প গণমাধ্যম’ হিসেবে ব্লগের আত্মপ্রকাশ। কিন্তু বাংলা ব্লগগুলো এখন প্রচলিত গণমাধ্যমের মত আচরণ করতে বাধ্য হচ্ছে। অর্থাৎ তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে- কোন লেখাটি প্রকাশ করবে এবং কোন লেখাটি প্রকাশ করবে না, কাকে রাখবে কাকে রাখবে না। ব্যক্তিও নিজেকে স্বাধীন ভাবছে না, খুব রেখেঢেকে তাকে লিখতে হচ্ছে। কৌশল অবলম্বন করতে হচ্ছে। এতকিছু করেও যখন হচ্ছে না, তখন লেখালেখি বাদ দেওয়া ছাড়া আর কি করার আছে? বিভিন্ন জন বিভিন্ন কারণে লিখতে পারে, তবে ব্লগারদের মধ্যে একটা বড় অংশ নিশ্চয়ই বিবেক তাড়িত মানুষ, যারা সমাজের অসংগতি নিয়ে লিখতে চায়, কিন্তু মূল ধারার গণমাধ্যমে তা লেখার সুযোগ নেই। ব্লগ তাদের জন্য একটা বড় সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু ক্রমেই আমাদের দেশে সে সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। অলিখিতভাবে বলা হচ্ছে- লিখতে হবে একটা ফ্রেমের মধ্যে থেকে। দুইশো মিটার বাউন্ডারির মধ্যে হাজার হাজার কিলোমিটার দৌঁড়াতে হবে, তা আপনি দৌঁড়াতে পারবেন, দৌঁড় প্রতিযোগিতায় তাতে কোন অসুবিধা নেই, কিন্তু এভাবে আজকের আমেরিকা আবিস্কার হত না, এভাবে তো নিউটন জন্মাত না। অবশ্য এ দেশে তা জন্মায়ও না। যাইহোক আমি নিজে স্বস্তিতে নেই। অনুভব করছি- লেখালেখির সুযোগ নেই। সমাজের অসংগতি এবং মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ে আমি লিখি। প্রসঙ্গক্রমে ধর্ম সেখানে আসবেই। সমাজের অসংগতি ধর্ম বাদ দিয়ে লেখা সম্ভব নয়। অালু ছাড়া পেয়াজ মরিচ দিয়ে আলু ভর্তা হয় না। কিন্তু ধর্মদুষ্ট এবং ধর্মদ্রোহীরা এটা প্রতিষ্ঠিত করে নিয়েছে যে, পরোক্ষভাবেও ধর্ম টানা যাবে না। খুন খারাবির মত কিছু সফলতার মধ্য দিয়ে তারা সুস্পষ্টভাবে বার্তাটি দিতে পেরেছে। এখন তো সবাই ওদের হুমকি পাত্তা দেয়, দিতে বাধ্য হতে হয়। ভয় না পেয়ে উপায় কি? আমার এক বন্ধু খুব ভালো লিখত, ও আমার সামনে একদিন নোটবুকটা হঠাৎ আছাড় মারে। ও লেখালেখি ছেড়ে দিয়ে ব্যবসায় মন দেয়, এবং তখন ঘোষণা করে- ধর্ম যত বাজেভাবে ব্যবহার করা যায় আমি করব, এবং দশ বছরের মধ্যে শত কোটি টাকা ইনকাম করে তারপর প্রয়োজনে দেশ ছাড়ব। এটা পাঁচ বছর আগের কথা। ও লাইনে আছে, আমি বিশ্বাস করি ও দশ বছরে শতকোটি টাকা ইনকাম করতে পারবে। ওর একটা কথা খুব মনে পড়ছে- “দোস্ত, দেশ মাতাকে আমরা বেশ্যারও নিচে নামিয়েছি, এ দেশকে প্রকাশ্যে ধর্ষণ করা যায়, দিনের পর দিনে এক সাথে তুমি আমি মিলে, শুধু মুখোশটা ধরে রাখতে হয়।” আমিও ওর পথে চলতে চাইছি, চাইছি কি?
আসলে কিছুই লেখার সুযোগ নেই
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৫ সকাল ১১:২৫
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
never give up!!! চেষ্টাটা যেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত হয়....

অনেকেই নিজের ভাগ্যকে দোষ দেন। বলেন- ''ভাই, ভাগ্য বিড়ম্বনায় আজ আমার এই অবস্থা।'' অনেককে এও বলতে শুনেছি- ''আজ ভাগ্য সহায় থাকলে অনেক দূর এগিয়ে যেতাম।''
.
এইসব মানুষদের আমি বলি- ''শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন
আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফেরারী বিকেল
বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন
অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন
নেভার গিভ আপ!!!: দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের পিছনে বিনিয়োগ করুন, প্রধানমন্ত্রী!
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার খুব খুশির দিন হওয়ার কথা ছিলো। ব্রিটিশ একটি ভার্সিটিতে ৩য় বারের মতো মেন্টর হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছি। এই আনন্দে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পার্টি দেওয়ার কথা ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।