somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেউ অভিনন্দন জানালো না

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৫:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিজ গ্রামের সাথে সংযোগ রক্ষার উপায় খুঁজছিলাম। শিকড়ের টান তো বটেই, পাশাপাশি কিছু সচেতনতাও এক্ষেত্রে কাজ করেছে। আমরা পরিবারের সকল সমস্যা জানি বলে সেগুলো সমাধানের জন্য উদ্যোগ নিতে পারি, পরিবারটা নিজের বলে সমস্যাগুলো সমাধান করার জন্য আমরা মরিয়া হই। এরপরেই আসে নিজ গ্রাম, গ্রামটা আমার, আমি জানি কী তার সমস্যা, জানি বলেই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারি। গ্রামে অনেক সমস্যা রয়েছে। তবে সবচে’ বড় সমস্যা সেখানে আধুনিক শিক্ষার অভাব, গ্রামের বেশিরভাগ লোক তাদের মত করে একটা কিছু ভেবে বসে আছে--যা সঠিক নয়। তাই আধুনিক শিক্ষাপকরণ, বিশেষ করে নানান ধরনের বই তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে কিছু একটা করার তাগিদ অনুভব করছিলাম বহুদিন ধরে। এমনভাবে কিছু করতে চাচ্ছিলাম যাতে বিষয়টি টেকসই হয়। গ্রাম পাঠাগার বা এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, কিন্তু ফান্ড এবং ব্যবস্থাপনার অভাবে কিছুদিনের মধ্যেই উদ্যোগটি ধুলিসাৎ হয়ে যায়। তাই সে ধরনের অনুদান নির্ভর কিছু না করে ভিন্ন পন্থায় এগোতে চেয়েছিলাম। ভাবলাম- মফস্বলের বাজারে একটি বইয়ের দোকান করে দিই। তাতে গ্রামের একজন লোকের কর্মসংস্থান হবে, পাশাপাশি সেখানে আগ্রহীদের বই পড়ার ব্যবস্থাও করা যাবে। দোকানটি করলাম, পরপর তিনজন বসিয়ে এ পর্যন্ত চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হতে পারিনি। কেউ-ই আন্তরিক হয় না, টাকা-পয়শা উলোটপালোট করে ফেলে, যে বইগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা--সেগুলো দেয় না। দোকানঘর মালিক স্বেচ্ছাচারী আচরণ করে, এলাকাবাসী বাঁকা চোখে তাকায়, ইত্যাদি হাজারটা সমস্যা। দোকানে এ পর্যন্ত দুই লাখ টাকা আমি নষ্ট করেছি এবং যথারীতি দোকানটি চালাতে গিয়ে মানুষের কাছে অার্থকভাবে ঋণী হয়েছি। বেশ বড়সড় একটি ঘর ভাড়া নিয়ে ছিলাম। ইচ্ছা ছিল- এক পাশে বিক্রী হবে এবং অন্যপাশে টেবিল-চেয়ার বসানো থাকবে, তাকে বইপত্র এবং পত্রিকা থাকবে, সেখানে মানুষ বসে পড়বে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ইচ্ছে অনুযায়ী কাজ হয়নি। যাকে যে দায়িত্ব দিয়ে আসি তা সে আন্তরিকভাবে পালন করে না। হেলাফেলা করে এমন একটা কিছু করে--তাতে কার্যকর কিছু হয় না। তবে এখনো হাল ছাড়িনি। শুরু করা ভাল, তবে শেষ না করা খুব খারাপ। তাই চেষ্টা চালিয়ে যেতে চাইছি। আমার মত মানুষের পক্ষে দুই লক্ষ টাকা নষ্ট করা চারটিখানি কথা নয়, তারপরেও নেশার ঘোরে পেশা ছেড়ে এসব নিয়েই তো আছি।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৫:০৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×