somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

”ইসলামের অসমাপ্ত যুদ্ধ“

০৮ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


”ইসলামের অসমাপ্ত যুদ্ধ“ নামে একটি বইয়ের কাজ করছি, কাজ করছি মানে লিখছি। না ঝামেলার কিছু নেই। আমি ধর্মগ্রন্থ, বা নবীজী সম্পর্কে কোন আলোচনাতেই যাইনি। ও নিয়ে আলোচনা করার মত সাহস আমার নেই।
আমি বইটিতে দেখাতে চেয়েছি- যে লক্ষ্য নিয়ে মুসলিম মুর রা ৭১১ সালে দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের দিকে অগ্রসর হয়েছিল, এবং স্পেন এবং পর্তুগাল দখল করেছিল, এবং ঠিক তার কয়েক শতক পরে ভারতবর্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে সফল হয়েছিল, পরবর্তীতে তারা সে অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে পারেনি। কেন পারেনি?
মূলত আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়া এবং মরক্কো থেকে গিয়ে মুসলিমরা তৎকালীনে ইবেরিয়ান পেনিনসুলার দখল নিতে চেয়েছিল। স্পেন এবং পর্তুগালের ক্ষেত্রে তাদের সফলতা এসেছিল। ইবেরিয়ান পেনিনসুলা কে তারা বলত আল-আনডুলাস। যুদ্ধ ৭১১ থেকেই শুরু হয়, তবে খ্রিস্টানরা প্রথম জয় পায় ৭১৮ সালে । এরপর কয়েক শতাব্দী ধরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলেছে। যেটি ধর্মযুদ্ধ নামে পরিচিত। এই সময়ে উভয় পক্ষে জয়-পরাজয় হয়েছে। অবশেষে ১৪৯২ সালে খ্রিস্টানরা চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
ভারতবর্ষের ঘটনা অনরূপ না হলেও এখানেও মুসলিমরা তাদের আধিপত্য ধরে রাখতে পারেনি। সর্বশেষ ১৭৫৭ সালে তারা শাসনভার হারায়।
অর্থাৎ যে লক্ষ্য নিয়ে তারা এগোচ্ছিল মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার অনেক দেশে তখন তা সম্ভব হলেও, পরবর্তীতে পশ্চিমাদের তথা খ্রিস্টানদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের দ্রুত অগ্রগতির কারণে তা ব্যর্থ হয়েছ।
এখানে আরেকটা বিষয় মনে রাখা দরকার- মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকায় তখন কোন প্রতিষ্ঠিত মতবাদ ছিল না। বিভিন্নভাবে বিভিন্ন ছোট ছোট গ্রুপ ঈশ্বর চর্চা করত। প্যাগানদের প্রভাব ছিল তখন। বিভিন্ন ধরনের এবং বিভিন্ন আদলে মূর্তি পূজাই আসলে হত ঐ অঞ্চলে। ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে এককভাবে কোন নেতৃত্ব ঐ অঞ্চলে ছিল না, শাসন ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট কোন কাঠামোও ছিল না বলে জানা যায়।
তাই এখানে স্মরণে রাখতে হবে- মধ্যপ্রাচ্যে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হওয়া আর পশ্চিম ইউরোপ এবং ভারতবর্ষে ইসলাম প্রচার করা এবং অস্ত্রের মুখে রাজ্য দখল করা এক বিষয় ছিল না। কারণ, ইউরোপ এবং ভারতবর্ষে তখন প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় মতবাদ ছিল।
তবে ভারতবর্ষে মুসলিমরা কিন্তু হিন্দুদের কাছে হারেনি। পলায়নপর, এবং তখন চরমভাবে কুসংস্কারাচ্ছন্ন হিন্দুদের সে শক্তি ছিলও না। তারা হেরেছিল হিন্দুদের সহায়তাপুষ্ঠ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে। অর্থাৎ পশ্চিমা বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির কাছে তারা পরাজিত হয়েছিল।
প্রশ্ন হচ্ছে, মুসলামানদের বিশ্বজয়ের সে যুদ্ধ কি শেষ হয়েছে? তারা কি সে যুদ্ধ এখন অপ্রয়োজনীয় মনে করছে? আসলে অপ্রয়োজনীয় মনে করার কিছু নেই। এটা তাদের বিশ্বাস, এবং তারা বিশ্বজয়ের এ যুদ্ধকে তাদের স্রষ্টা কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব মনে করে থাকে। এই বিশ্বাসের প্রধান রসদ হচ্ছে- সংকীর্ণ পথে বিশ্বে মর্যাদাসীন হওয়ার বাসনা। পশ্চিমারা যুদ্ধটা করছে জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং অর্থনীতি দ্বারা, এবং অস্ত্রের মোকাবেলা তারা করছে প্রতিষ্ঠিত এবং প্রশিক্ষিত বাহিনী দিয়ে। এক্ষেত্রে তারা কাটা দিয়ে কাটা তোলার নীতিও গ্রহণ করেছে। তাদের সফলতা হচ্ছ- ইসলামের সার্বজনীন যুদ্ধটাকে তারা বিচ্ছিন্নতাবাদের রূপ দিতে পেরেছে।
তবে বৃহদার্থেই যুদ্ধ অব্যাহত আছে। আজকে যেসব মুসলিম যোদ্ধাদের জঙ্গি বলা হচ্ছে, তারা কি আসলে জঙ্গি? ঠিক কি অর্থে তারা জঙ্গি? হা, জঙ্গি শুধু একটা শব্দ মাত্র। আসলে তাদের যোদ্ধ (জিহাদী) বলাটাই শ্রেয়। তারা একটা লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে, সেটি তারা ঘোষণাও করেছে। নিজ দেশের হাজার হাজার মানুষ অনাহারে, অশিক্ষায় মরলেও সেদিকে কর্ণপাত করার সময় তাদের নেই, কারণ, ঐ ‘লক্ষ্য’। জন্ম-মৃত্যুর সহজ সমীকরণও এই লক্ষ্যের সাথে সম্পর্কিত।
প্রশ্ন হচ্ছে, তাদের চূড়ান্ত সে লক্ষ্যে বাধা কি? এবং তাদের পক্ষে আর সে লক্ষ্যে পৌঁছানো কোনো সম্ভাবনা আছ কিনা? এবং এই লক্ষ্যের কারণে কতটা মাশুল দিচ্ছে মানব জাতি। পশ্চিমারা কি শুধুই প্রতিরোধ করছে, নাকি তাদেরও কোন লক্ষ্য আছে? মার্কসবাদের ভূমিকাই বা কি এখানে? মার্কসবাদ এখন কি এই দুইয়ের মাঝখানে শুধু একটা বাফার পাওয়ার নয়? হিন্দুদের ভূমিকা এক্ষেত্রে কি? ঠিক এসব উত্তরই খুঁজেছি আমি বইটিতে।

[প্রয়োজনের তাগিদেই আমাকে ‘মুসলিম’ ‘হিন্দু’ ‘খ্রিস্টান’ এই শব্দগুলো ব্যবহার করতে হয়েছে। শেষে এসে খ্রিস্টান না বলে শুধু পশ্চিমা বলা হয়েছে, কারণ, আমেরিকা, বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকা এবং ইউরোপের দেশগুলোতে এখন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রকৃতিবাদী, অজ্ঞেয়বাদী এবং নাস্তিক রয়েছে। ইউরোপের অনেক দেশে সংখ্যাটা অর্ধেকের বেশি। ]
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ১১:৩৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি কে? রাজাকার!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:০১



ভারতে দেশপ্রেমের সজ্ঞা কী? ভারতে একজন কট্টরপন্থীর দেশপ্রেম হলো প্রথমত পাকিস্তান বিরোধী হতেই হবে। দ্বিতীয়ত মুসলিম বিরোধী হতেই হবে। এই দুই ছাড়া কোনভাবেই সে ভারতকে ধারণ করেনা এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমার গল্পঃ মেঘের অনেক রং - যে মেয়েটিকে মেঘ বানিয়ে দেওয়া হলো

লিখেছেন রাজসোহান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৭



সিনেমা শুরু হয় সবুজ দিয়ে। ওয়াইড ফ্রেমে পাহাড়, গা বেয়ে নেমে যাওয়া রাস্তা, আর রাস্তায় ছোট্ট একটা গাড়ি। ক্যামেরা কাটে গাড়ির ভেতরে। দুইজন মানুষ কথা বলছেন, নিতান্ত সাধারণ কথা। আবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

খেলা ফাইনাল হয়ে যেতে পারে আগামীকাল ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৮


আগামীকাল অপপ্রচারকারীদের খেলা ফাইনাল হয়ে যেতে পারে। গ্যাস আর বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারকে কাবু করার দিন ফুরিয়ে এসেছে। 'কাছিমের মতো গর্ত থেকে বের হয়ে' যারা এতদিন সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ভোরের গান

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭


নতুন ভোরের গান



কষ্টের দিন পেরিয়ে এবার
আসবে আলোর গান,
নতুন দিনের নতুন সুরে
জাগবে সবুজ প্রাণ।

নষ্ট স্মৃতির আড়ষ্টতা
ঝরিয়ে দেবো অনেক দূরে,
নিজের মনেই ভালোবাসার
নূপুর বাজবে সুরে সুরে।



ভ্রষ্ট পথের আঁধার কেটে
ভোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে চার বছর একদিন হয়ে গেল । কি আশ্চর্য!

লিখেছেন সামরিন হক, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭

অবজ্ঞা

তোমার বিশেষ ঘৃণা দ্বারা আক্রান্ত আমি
চারপাশ ঘিরে ফেলেছে ঘৃণারা আমাকে
আস্তে আস্তে গ্রাস করে নিচ্ছে আমাকে তোমার ঘৃণা
আমার কথা শোন
আমি কখনই মনুষ্যত্বের সীমা পার করিনি
কিন্তু তোমার ঘৃণায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×