somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আধুনিক তুরস্কের রূপকার মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক এবং তাঁর সংস্কারসমূহ

১৭ ই জুন, ২০১৬ দুপুর ১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সদ্য স্বাধীন তুরস্ক ছিল একেবারেই অন্যরকম। এক্ষেত্রে তুরস্কের সাথে বাংলাদেশের মিলও আছে বেশ। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন স্বাধীরতার মাধ্যমে বাঙ্গালী পরিচয়ে বাংলাদেশ নামে একটি আধুনিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর সহযোগীদের সৃজণশীলতা নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রভাব রাখার মত।

‘৭২ এর সংবিধানের চার মূলনীতি যেকোনো বিবেচনায় শৈল্পিক এবং বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় ছিল অগ্রগামী। হতে পারে কামাল আতাতুর্কের নীতি থেকে বঙ্গবন্ধু অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন।

কামাল আতাতুর্কের তুরস্ক ছিল অত্যন্ত আধুনিক একটি রাষ্ট্র। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে উসমানীয় সাম্রাজ্যের পরাজয়ের পর কামাল আতাতুর্ক তুরস্কের স্বাধীনতা যুদ্ধে তুর্কি জাতীয় আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। আতাতুর্কের সামরিক অভিযানের ফলেই তুরস্ক স্বাধীনতা লাভ করে। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সাবেক উসমানীয় সাম্রাজ্যকে একটি আধুনিক, পশ্চিমা ও ধর্মনিরপেক্ষ জাতিরাষ্ট্রে রূপান্তর করা।

তিনি অনেকখানি সফলও হয়েছিলেন। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তিনি ১৯২৩ সালের ২৯ অক্টোবর তুরস্ককে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেছিলেন। নতুন সরকার ফ্রান্স, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডের মত ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর প্রতিষ্ঠান ও সংবিধানগুলো পর্যালোচনা করে সেগুলোকে তুরস্কের জন্য গ্রহণ করে।

মজার বিষয় হল, আতাতুর্কের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনগণ ছিল অন্ধকারে। জনগণকে জানানোর সুযোগ আসলে ছিল না। জনগণ মনে করেছিল তারা সম্ভবত খেলাফত রাজ্যে ফিরে যাচ্ছে। এমনকি কামালের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনবহিত হওয়ায় জনগণ “আমরা প্রথম খলিফাদের দিনে ফিরে যাচ্ছি” বলে উল্লাসও করে।

মোস্তফা কামাল একজন দক্ষ সামরিক অধিনায়ক হিসেবে তুরস্কে সম্মানিত ছিলেন, তিনি সে সম্মান আধুনিক তুরস্ক গঠনের কাজে লাগান এবং ১৯৩৮ সালে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিটি ক্ষেত্রে সংস্কারকাজ চালিয়ে যান। এভাবে বিশাল মুসলিম সম্রাজ্যের ভেতর থেকে তিনি তুরস্ককে বের করে আনেন। এবং তুরস্ককে একটি আধুনিক, গণতন্ত্রী ও ধর্মনিরপেক্ষ জাতিতে পরিণত করেন।

আতাতুর্ক দেশের এবং জনগণের পূর্ণ স্বাধীনতা চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন,
“

……পূর্ণ স্বাধীনতার মাধ্যমে আমরা সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, বিচারিক, সামরিক, সাংস্কৃতিক ও সর্বক্ষেত্রে স্বাধীনতা বোঝাতে চাই। এগুলোর মধ্যে কোনো একটিতে স্বাধীনতা বঞ্চিত হলে সমগ্র স্বাধীনতাই বিপন্ন বলে বিবেচিত হবে।
—Mustafa Kemal

তিনি উসমানীয় সাম্রাজ্য ও নতুন প্রজাতন্ত্রের মধ্যকার পরিবর্তন এবং পার্থক্য তুলে ধরার জন্য এক ধরনের ব্যানার তৈরী করেন। প্রত্যেক পরিবর্তন একেকটি তীর চিহ্ন দ্বারা নির্দেশিত হত।

পরিবর্তনগুলো বিশ্বসভ্যতায় সব নতুন ছিল না, কিন্তু তখনকার তুরস্কে তা ছিল অভাবনীয়। এমনকি আধুনিক খ্রিস্ট্রান রাষ্ট্রগুলোর তুলনায়ও তুরস্ক তখন এগিয়ে ছিল।

বঙ্গবন্ধুর মত তিনিও একদলীয় শাসন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন। ১৯২৪ সালের সংবিধান চালুর পরের বছর ১৯২৫ সালে একদলীয় শাসন চালু হয়।

আতাতুর্কের রাজনৈতিক সংস্কারের মধ্যে অন্যতম ছিল খিলাফত আন্দোলনের এবং খিলাফত দর্শনের বিলোপ সাধন ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতিষ্ঠা।

১৯২৪ সালের ৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে তুরস্ক থেকে খিলাফত বিলুপ্ত হয়। খিলাফতের ক্ষমতা জিএনএ’র এর আওতাভুক্ত করা হয়। অন্যান্য মুসলিম জাতিগুলো তুরস্কের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিল এবং এ বিষয়ে বিতর্কে অবতীর্ণ হয়েছিল, তবে তা আতাতুর্কের সাহসী পদক্ষেপে ভুলুণ্ঠিত হয়।

সংস্কার কাজের শুরুতেই মোস্তফা কামাল প্রথাগত ইসলামিক শিক্ষাপদ্ধতিকে পরিবর্তন করেন। শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারকে তিনি তুরস্কের স্বাধীনতা যুদ্ধের চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন।

“জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা (একীভূতকরণ ও আধুনিকীকরণ) আজকের দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সবচেয়ে উৎপাদনশীল কাজ। জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রমে আমাদেরকে সফল হতে হবে এবং আমরা সফল হব। একটি জাতির স্বাধীনতা শুধুমাত্র এই পন্থায় আসতে পারে।
—Mustafa Kemal

১৯২৪ সালের ৩ মার্চ শিক্ষাব্যবস্থার একীভূতকরণ নিশ্চিত হয় এবং তা আইনের মাধ্যমে বলবত করা হয়। নতুন প্রক্রিয়ায় বিদ্যালয়গুলো তাদের পাঠ্যক্রম জাতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া ছিল বাধ্যতামূলক। একই সময় ধর্মীয় বিষয়গুলোকে সরকারের ধর্মীয় বিভাগের আওতাধীনে আনা হয়।

১৯২৫ সালে আতাতুর্ক তুর্কীদের মধ্যপ্রাচ্যের পোশাক পরিত্যাগ করে আধুনিক ইউরোপীয় পোশাক পরতে পরামর্শ দেন।

তুরস্কে পোশাক সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় মাহমুদের সময় থেকে। দ্বিতীয় মাহমুদের সময় থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের প্রথাগত পোষাক ত্যাগ করা হচ্ছিল, তাকে চূড়ান্ত রূপ দেয়াতে তিনি মোস্তফা কামাল বা কামাল আতাতুর্ক বদ্ধ পরিকর ছিলেন।

১৮২৬ সালে থেকে ধর্মীয় টুপির পরিবর্তে সর্বপ্রথম সরকারি চাকুরেদের জন্য হ্যাটকে বাধ্যতামূলক করেছিলেন।

এখানেই থেমে ছিলেন না। তিনি শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীদের জন্য পোশাক বিধিমালা প্রণীত করেছিলেন।

সরকারি চাকরিজীবিদের অনেকে অবশ্য হ্যাটকে স্বেচ্ছায় গ্রহণ করেছিলেন। ১৯২৫ সালে তিনি নিজে সমাবেশে পানামা হ্যাট পরিধান করতেন। হ্যাট আধুনিক সভ্য জাতির পরিচয় বহন করে এটি বুঝাতে চেয়েছিরেন তিনি। তাঁর পোশাক সংস্কারের সর্বশেষ অংশ ছিল পাগড়ি, গেড়ুয়া টুপি বা ইসলামী টুপির মত ধর্মভিত্তিক পোষাকের পরিবর্তে আধুনিক পশ্চিমা স্যুট ও নেকটাই এবং সাথে হ্যাট পরিধান করা।

তিনি সেকালে কতটা সাহসী এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা তাঁর কিছু বিবৃতি থেকে বোঝা যায়।

১৯২৫ সালের ৩০ আগস্ট ধর্মীয় চিহ্নের উপর কামালের দৃষ্টিভঙ্গি তার কাস্তামনু বক্তৃতায় বিবৃত হয়। তিনি বলেন:

জ্ঞান, বিজ্ঞান ও সভ্যতার সামনে দাঁড়িয়ে আমি তুরস্কের সভ্য সমাজের জনগণকে জাগতিক ও আধ্যাত্মিক লাভের জন্য শেখদের নির্দেশনায় চলতে দিতে পারি না। তুর্কি প্রজাতন্ত্র শেখ, দরবেশ ও অনুসারীদের দেশ হতে পারে না। সর্বোৎকৃষ্ট রীতি হল সভ্যতার রীতি। মানুষ হওয়ার জন্য সভ্যতার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করাই যথেষ্ঠ। দরবেশ প্রথার নেতৃবৃন্দ আমার কথার সত্যতা বুঝতে পারবেন এবং তাদের খানকাহগুলো গুটিয়ে নেবেন ও স্বীকার করবেন যে তাদের রীতিগুলো পুরনো হয়ে গিয়েছে।
—Mustafa Kemal, Kastamonu Nutku

একই বছরের ২ সেপ্টেম্বর সরকার দেশের সকল সূফি কার্যক্রম ও খানকাহসমূহ বন্ধের আদেশ জারি করে। মোস্তফা কামাল খানকাহগুলোকে জাদুঘরে রূপান্তরের আদেশ দেন। সূফিবাদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রদর্শন তুরস্কে বেআইনি ঘোষিত হয়। রাজনীতি নিরপেক্ষ সূফিবাদ যা শুধুমাত্র সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকবে, তার অনুমোদন দেয়া হয়।

এরপর থেকে রক্ষণশীল তুরস্কে বহু প্রতিবাদী গ্রুপ তৈরি হয়। এবং আতাতুর্ককে হত্যা চেষ্টা হয়। এ প্রেক্ষিতে মোস্তফা কামাল বলেন,
“আমার নশ্বর দেহ ধুলো হয়ে যাবে, কিন্তু তুর্কি প্রজাতন্ত্র চিরকাল টিকে থাকবে”।

১৯২৬ সালে পরের কয়েক বছরে রাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থায় তিনি দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তন আনতে সক্ষম হন। প্রথমবারের মত ইসলামী আইন সেক্যুলার আইন থেকে পৃথক হয়ে যায় এবং ধর্মীয় আইন শুধু ধর্মীয় ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে মোস্তফা কামাল বলেন,

আমরা অবশ্যই আমাদের ন্যায়বিচার, আইন ও আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেসব বন্ধন থেকে মুক্ত করতে হবে যা আমাদের শতাব্দীর উপযোগী নয় কিন্তু আমাদের উপর চেপে বসেছে।
—Mustafa Kemal

একই বছর অর্থাৎ ১৯২৬ সাল থেকেই ইতালীয় দন্ডবিধির উপর ভিত্তি করে গঠিত তুরস্কের দন্ডবিধি পাস হয়। একই বছরের ৪ অক্টোবর ইসলামী আদালতগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। নতুন আইন এবং আদালত প্রতিষ্ঠা এবং কার্যকর করা সময়সাপেক্ষ ছিল বলে কামাল ১৯৩৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অবলুপ্তি দীর্ঘায়িত রাখেন।

উসমানীয় রক্ষণশীল আমলে নারী পুরুষের সামাজিক মেলামেশা নিরুৎসাহিত করা হত। এবং অনেকক্ষেত্রে আইনি বাধাও ছিল। মোস্তফা কামাল ক্ষমতায় এসে সামাজিক সংস্কার কার্যক্রম খুব দ্রুত শুরু করেন। তাঁর ব্যক্তিগত জার্নাল থেকে এসব বোঝা যায়। তিনি ও তাঁর অধীনস্তরা নারীদের পর্দাপ্রথা ও বাইরের জগতের সাথে তাদের মেলামেশার বিষয়ে আলোচনা করেন। এই বিষয়ে তিনি কিভাবে অগ্রসর হচ্ছিলেন তা ১৯১৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত তাঁর জার্নালে পাওয়া যায়;

সামাজিক পরিবর্তনের উপায় হল (১) মাদেরকে শিক্ষিত করা; (২) নারীদেরকে স্বাধীনতা প্রদান; (৩) একজন পুরুষ তার নীতি চিন্তা ও অনুভূতি নারীদের সাথে একই জীবনযাপনের মাধ্যমে পরিবর্তন করতে পারে; যেহেতু তাদের ভেতর জন্মগতভাবে আকর্ষণ বিদ্যমান।
—Mustafa Kemal

নারীদের স্বাধীনতা প্রদানের জন্য মোস্তফা কামালের নতুন কিছু আইনের প্রয়োজন ছিল। তাঁর প্রথম পদক্ষেপ ছিল নারীশিক্ষা আইনে হস্তক্ষেপ। ১৯২৬ সালের ৪ অক্টোবর তুরস্কের সিভিল কোড পাশ হয়। সুইস সিভিল কোডের উপর ভিত্তি করে আইনটি প্রণীত হয়েছিল। নতুন আইনের অধীনে নারীরা উত্তরাধীকার ও তালাকের মত বিষয়গুলিতে পুরুষের সমান ক্ষমতা পায়। মোস্তফা কামালের মতে নারি ও পুরুষের একতার মাধ্যমে সমাজ তার উদ্দেশ্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। তিনি বিশ্বাস করতেন যে উসমানীয় যুগের মত নারী পুরুষের পৃথকীকরণ থাকলে আকাঙ্ক্ষিত প্রগতি অর্জন করা যাবে না।

একটি বৈঠকে তিনি বলেন,

নারীদের প্রতি: আমাদের জন্য শিক্ষার যুদ্ধ জয়লাভ কর তবে তুমি তোমার দেশের জন্য আমাদের চেয়েও বেশি কিছু করতে পারবে। আমি তোমাদেরকেই বলছি।
পুরুষদের প্রতি: নারীরা যদি জাতির সামাজিক জীবনে অংশগ্রহণ না করে তবে আমরা কখনোই আমাদের সামগ্রিক উন্নতি অর্জন করতে পারব না। এর ফলে আমাদেরকে পশ্চাৎপদ হয়ে থাকতে হবে এবং পাশ্চাত্য সভ্যতার সাথে তাল মেলানো অসম্ভব করে তুলবে।
—Mustafa Kemal

১৯২৭ সালে রাষ্ট্রীয় স্কাল্পচার মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠিত হয়। তুরস্কে ইসলামী আদর্শ সমুন্নত রাখতে ভাস্কর্যের চর্চা খুবই কম ছিল। কামাল বিশ্বাস করতেন, সংস্কৃতি হচ্ছে তুর্কি প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি।

আতাতুর্কের নির্দেশে এবং পৃষ্ঠপোশকতায় প্রাক-ইসলামী যুগের তুর্কি সংস্কৃতি গবেষণার বিষয়বস্তু হয়ে উঠে। সেলজুক ও উসমানীয় সভ্যতার পূর্বের তুর্কি সংস্কৃতির উপর জোর দেয়া হয়। একইসাথে লোকসংস্কৃতির উপর জোর দেয়া হয়।

এরপর তিনি আরবী বর্ণমালার পরিবর্তে তিনি ১৯২৮ সালে তুর্কি ভাষা লেখার জন্য ল্যাটিন বর্ণমালার উপর ভিত্তি করে নতুন বর্ণমালা গঠনের বিষয়টি সামনে আনেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এজন্য তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, সর্বোচ্চ পাঁচ মাসের মধ্যে এটি করতে হবে।

১৯২৮ সালের ১ নভেম্বর নতুন তুর্কি বর্ণমালা চালু হয় এবং আরবি বর্ণমালার ব্যবহার বিলুপ্ত করা হয়। এসময় জনগণের ১০ শতাংশ শিক্ষিত ছিল। তুর্কি ভাষায় আরবি বর্ণমালার ব্যবহার শিখতে প্রায় তিন বছর সময় লাগত।

১৯২৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর নতুন বর্ণমালা ব্যবহার করে তুরস্কে সর্বপ্রথম পত্রিকা প্রকাশিত হয়। নাগরিকদেরকে নতুন পন্থা শিক্ষাদানের জন্য কামাল নিজে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সফর করেন। নতুন এবং সহজতর বর্ণমালার কারণে তুরস্কের শিক্ষিতের হার দুই বছরের মধ্যে ১০% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭০% হয়।

১৯৩২ সালের শুরুতে দেশজুড়ে পিপলস হাউস খোলা হয় যাতে ৪ থেকে ৪০ বছর বয়সের মানুষেরা নতুন বর্ণমালা শিখতে পারে। কপিরাইট, গণশিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক প্রকাশনীর উপর সভা অনুষ্ঠিত হতে থাকে। স্বাক্ষরতা সংস্কারের জন্য নতুন কপিরাইট আইনে ব্যক্তিগত উদোগে প্রকাশনীকে সাহায্য করা হয়।

মোস্তফা কামাল প্রাথমিক স্তর থেকেই আদুনিক শিক্ষাপদ্ধতির প্রবর্তন করেন। তিনি বয়স্ক শিক্ষার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন। তুর্কি নারীদেরকে গৃহস্থালীর কাজ এবং সন্তান প্রতিপালনের পাশাপাশি বাইরের কাজে উৎসাহ দিতেন। নাগরিকদের দায়িত্ববান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তিনি দারিদ্র দূরীকরণ ও লিঙ্গ সমতার জন্য শিক্ষাকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন।

আধুনিক শিক্ষাকে বিস্তৃত করার জন্য মোস্তফা কামাল গণমাধ্যমকে ব্যবহার করেন। তিনি দুটি পাঠ্যবই প্রণয়নের সাথেও জড়িত ছিলেন। এদুটি হল “Vatandaş İçin Medeni Bilgiler (১৯৩০) ও জিওমেট্রী (১৯৩৭)।

১৯৩০ সাল পর্যন্ত তিনি মোটামুটি নির্বিঘ্ন ছিলেন। এরপর থেকে ভেতর-বাহিরে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু হয়। ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল মূলত দুর্নীতিবাজ কর্মচারীদের দুর্নীতির পথ বন্ধ হওয়ায় এবং ধর্মীয় অজ্ঞতা, মধ্যযুগীয়তা, ধর্ম ব্যবসা এবং ধর্মের অপব্যবহারের কোনো পথ খোলা না থাকায়।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০১৬ দুপুর ১:২৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গাজীপুর থেকে কক্সবাজার: চার বাইকে ছয় সহকর্মীর ১৪ ঘণ্টার নাইট রাইড অ্যাডভেঞ্চার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০২


আমি শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, থাকি সাভার এলাকায়। ভ্রমণের নেশা আর মোটরসাইকেলের প্রতি ভালোবাসা আমার দীর্ঘদিনের। আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব গাজীপুর থেকে কক্সবাজার হয়ে টেকনাফ ও শাহপরীর দ্বীপের দিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

Personal Cancer Vaccine: আশার আলো দেখাচ্ছে

লিখেছেন কলাবাগান১, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২


আপনি কি কখনও চিন্তা করে দেখেছেন যে ক্যান্সার টিউমারকে কেন শরীর এর রোগ প্রতিরোগ করা ইমিউন সেল (যেমন টি সেল) একেবারে ধ্বংস করতে পারে না!!! যেখানে টি সেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ১০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮



মাঝে মাঝে খুব অবিশ্বাস্য ব্যাপার সহজ ভাবে ঘটে যায়।
এই যে আমি শাহেদ। শাহেদ জামাল। রমিজ উদ্দীনের ছেলে। আমাকে একটা ঘরে বন্ধী করে রাখা হয়েছে। ছোট ঘর। ঘরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২



শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

গতকাল এক বাবার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল যৌন নিপীড়ন করেছেন। বাবার প্রতিক্রিয়া সঠিক ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×