somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Personal Cancer Vaccine: আশার আলো দেখাচ্ছে

২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আপনি কি কখনও চিন্তা করে দেখেছেন যে ক্যান্সার টিউমারকে কেন শরীর এর রোগ প্রতিরোগ করা ইমিউন সেল (যেমন টি সেল) একেবারে ধ্বংস করতে পারে না!!! যেখানে টি সেল এর কাজই হল এবনরমাল সেলকে (যেমন ইনফেকটেড সেল, ক্যানসার সেল) ধংস করা, সেখানে সে ক্যান্সার সেল কে ধ্বংস করতে ফেইল। টি সেল এর বাইরের আবরন PD-1 নামের 'প্রোটিন' থাকে যেটা আপনার নরমাল কোষগুলিকে টি সেল এর ধ্বংসাত্মক একশান থেকে সুরক্ষা করে, নাহলে টি-সেল অটোইমিউন মোডে নরমাল সেল কেও ধ্বংস করে দেয়। যাতে টি সেল নরমাল সেল কে ধ্বংস করতে না পারে, আপনার ইনফেকশান বিহীন নরমাল সেল PD-L1 নামের প্রোটিন বানায় আর তা টি-সেল এর PD-1 প্রোটিন এর সাথে বাইন্ড করে টি সেল কে 'নিস্কৃিয়' করে দেয়।
ক্যান্সার কোষের ডিএনএ তে প্রচুর মিউটেশন এর ফলে তার মাঝে নতুন ধরন এর নানা রকম 'এবনরমাল' প্রোটিন তৈরী হয় (যে টাকে neoantigen বলে), আর টি সেল সেই neoantigen কে চিনতে পারে যে এটা ক্যান্সার কোষ কিন্তু যখনই টি সেল ক্যান্সার কোষ কে ধ্বংস করতে যায়, ধূর্ত ক্যান্সার সেল নরমাল সেল এর মত PD-L1 প্রোটিন বানায় আর তা টি-সেল এর PD-1 প্রোটিন এর সাথে বাইন্ড করে টি সেল কে 'নিস্কৃিয়' করে দেয়। আর ক্যান্সার সেল বিজয়ী এর হাসি হেসে বাড়তে থাকে.....
বিজ্ঞানীরা নতুন ড্রাগ বানালো....যেটা টি সেল এর PD-1 নামের প্রোটিন এর সাথে বাইন্ড করে (নাম Keytruda: এক ইনজেক্শান এর দাম $15,000)। ক্যান্সার সেল এর তখন ত্রাহি অবস্হা ...আতি-পাতি করে টি-সেল এর PD-1 প্রোটিন কে খুজতে থাকে বাইন্ড করে নিস্কৃিয় করা জন্য কিন্তু PD-1 এর সাথে Keytruda বাইন্ড করে থাকাতে ক্যান্সার সেল আর টি সেলকে কে 'নিস্কৃিয়' করতে পারে না; এতে টি সেল ক্যান্সার সেল এর neoantigen কে চিনতে পারে 'শত্রু' (not own cells) হিসাবে এবং খুব সহজেই ক্যান্সার সেলকে ধ্বংস করে দিতে পারে। এই পদ্ধতি বিভিন্ন ক্যান্সার এ কাজ করছে তবে ১০০% সাকসেসফুল না....।এবং সব ক্যান্সার এ কাজ ও করে না।
এখন আসলো পারসোনাল ক্যান্সার ভ্যাকসিন। টি সেল এর সাথে ক্যান্সার সেল যে হাইড এন্ড সিক গেইম খেলে, তার একটা হল ক্যান্সার সেল বিভিন্ন পদ্ধতি ইউজ করে তার মাঝে যে neoantigen আছে সেগুলিকে লুকিয়ে রাখতে টি সেল থেকে যাতে টি সেল ক্যান্সার কোষ কে 'বিদেশী' সেল হিসাবে সনাক্ত না করতে পারে। ক্যান্সার ভাকসিন সেই neoantigen কে ইনজেকশান হিসাবে শরীরে প্রবেশ করায় যাতে টি সেল খুব সহজেই শরীর এর ক্যান্সার সেল এর প্রতিক এই neoantigen কে চিনতে পারে, আর তাতেই সে ক্যান্সার সেল কে সনাক্ত করতে পারে এবং ক্যান্সার সেল এখানেই কাবু....Keytruda তার ধূর্ত পদ্ধতি ( PD-1 কে বাইন্ড করে টি সেল কে নিস্কৃিয় করা) বন্ধ করে আর পারসোনাল ভ্যাকসিন ক্যান্সার সেল এর লুকানো neoantigen কে চিনতে সাহায্য করে। আর এই দুই পদ্ধতি একসাথে ক্যান্সার সেল কে ধরাশায়ী করে দেয়।

গতকাল মডার্নরা কোম্পানী প্রায় ১২০০ লোকে স্কিন ক্যান্সার এর উপর পরীক্ষা করে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এর ফল প্রকাশ করেছে। ক্যান্সার ভ্যাকসিন এবং Keytruda এক সাথে ব্যবহার করে দেখা গিয়েছে যে একলা Keytruda ইউজ করার চেয়ে অলমোস্ট ৫০% বেশী ইফেক্টিভ ক্যান্সার নিরাময়ে (নিরাময় মানে শরীরে কোন ক্যান্সার না থাকা) যখন দুইটা একসাথে ইউজ করা হয়...। এটা বিশাল খবর.... আমার মতে হয়ত বেশী বয়স্ক লোকেরা তত উপকার পাবে না তবে অল্প বয়সে ক্যান্সার ধরা পড়লে, এত দুই পদ্ধতি যে ভাবে আগাচ্ছে হয়ত সেদিন বেশী দুরে না যে ক্যান্সার ডায়াবেটিস এর মতই ম্যানেজএবল পর্যায়ে যাবে।

পারসোনাল ক্যান্সার ভ্যাকশিন মানে কাস্টম মেইড ভ্যাকসিন.. একেক জনের একেক রকম এর ভ্যাকসিন কাস্টম মেইড হবে। কারন প্রায় সবার ক্যান্সার এর neoantigen ডিফারেন্ট ফ্রম আদার্স। সবার ক্যান্সার সেল এর মিউটেশান ও ডিফারেন্ট, তাই neoantigen ও ডিফারেন্ট। তাই টিউমার এর ডিএনএ সিকোয়েন্স করে নরমাল সেল (যেমন আপনার থুথু থেকে) ডিএনএ সিকোয়েন্স এর সাথে কমপেয়ার করে দেখা হয় কোন কোন ডিএনএ মিউটেশান ক্যান্সার সেল এ আছে। তা জানার পর ই, ল্যাবে আপনার ক্যান্সার মিউটেশান স্পেসিফিক neoantigen বানিয়ে শরীরে ইনজেকশান দেওয়া হয় আর এতে টি সেল খুব সহজেই ক্যান্সার সেল এর লুকিয়ে রাখা neoantigen কেভ্যাকসিন এর দ্বারা চিনতে পারে।

এই সাফল্য ই এখন অন্যান্য ক্যান্সার ও ট্রায়াল হচ্ছে এই দুই পদ্ধতি কে এক সাথে করে এবং আমি মনে করি সেগুলিও সাকসেসফুল হবে..অচিরেই মানব জাতি ক্যান্সার 'বিজয়' এর আশা করতেই পারে।

লিখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সুবিধার জন্য চ্যাট জিপিটি দ্বারা একটা ছবি আকালাম নিচে


আমার এই লিখা হয়ত যারা 'বৈজ্ঞানিক' মুফতি ইবরাহিমের ফলোয়ার তাদের কাছে ভাল লাগবে না...তারা তাদের স্বপ্নে পাওয়াঔষুধ অথবা তাবিজ/জিন এসব দিয়েই ক্যান্সার নিরাময়ে ব্যস্ত থাকুক ..এত কস্ট করে ঔষুধ বানানো বোকামি...








সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০১
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্লগের পরিবেশ এখন যথেষ্ট ভালো

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫




ব্লগে মাঝে মাঝে কোন লোক থাকে না। মাঝে মাঝে কম লোক থাকে। সাইলেন্স ইজ গোল্ডেন-নিস্তব্ধতা হিরম্ময়।এ অবস্থা বিরাজমান হওয়াতে ব্লগের পরিবেশ এখন যথেষ্ট ভালো। কোখাও কেউ নেই। ব্লগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

একলা বিকেল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৫

-একা থাকো?
-না।
-কে থাকে সাথে?
-কেউ না।
-তাহলে কিভাবে বলছো একা থাকো না?
-থাকি না তো।
-কিভাবে?
-তুমি থাকো যে পাশে।
-বাহ! ………কতক্ষণ থাকি?
-সারাক্ষণ। টেবিলে বসে খাচ্ছি, তুমি সামনে। রান্না করছি, তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

না ফেরার দেশে চলে গেলেন রথো রাফি

লিখেছেন ফেনা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩



আজ অনেক দিন পর ব্লগে আসলাম। আসলে চাকুরী জীবনের প্রেসার সামলাতে সামলাতেই সময় চলে আয়, নেটে আর তেমন আসা হয় না। আজ আসলাম রাফি ভাই এর মৃত্যু সংবাদটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার পোষ্টে ব্লগার অপু তানভীরের এআই আপত্তি এবং এর এআই জবাব

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০





কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

অপুতারভীরের এআই আপত্তি-
আপনার লেখা সম্পর্কে এআই মূল্যায়ন নিচে দিলামঃ
১. শূন্যতা ও উদ্ভবের ভুল ব্যাখ্যা (Misinterpretation of Void and... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫১

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

একজন বাবা তাঁর ছয় বছরের কন্যাকে মাদ্রাসায় পাঠিয়েছিলেন দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিকতা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায়। তিনি কি কখনো কল্পনা করেছিলেন, ধর্মীয় শিক্ষকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×