somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রেম করার কুফল...(সিঙ্গেলদের জন্য সান্ত্বনামূলক পোস্ট)

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এখানে কয়েকদিন আগে প্রেম বা রিলেশনের পজিটিভ দিক নিয়ে একটি লেখা দিয়েছিলাম। কিন্তু এর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে না বললে সমতা রক্ষা করা সম্ভব হবে না। হাজার হলেও নিউটন দাদুর সূত্রের বাইরে তো আর যেতে পারি না। ক্রিয়ার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করাটা নৈতিক দায়িত্ব বলেই মনে করছি। তাই, আমার অবজার্ভেশনে প্রেম করার অসুবিধাগুলো নিয়ে একটু আলোচনা করবো। একচুয়ালি, আমরা যারা সিঙ্গেল আছি তাদেরকে মানসিক সান্ত্বনা দেওয়াটাই এই লেখার মূল উদ্দেশ্য।

সময়ের অপচয়ঃ সময় অমূল্য ধন। কিন্তু প্রেমের কারণে তার যথাযথ ব্যবহার হয় না। যেই সময়টায় ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখা করার কথা/কোচিং করার কথা/টিউশনীতে যাওয়ার কথা, সেই সময়ে হয়তো তারা ফোনে কথা বলে বা ঘুরতে যায়। এমন কী, পরীক্ষার আগের রাতেও যদি ঘন্টাখানেক কথা না বলতে পারে তাহলে তাদের পরীক্ষার জন্য প্রিপারেশন সম্পূর্ণ হয় না। এইভাবেই অতিবাহিত হয় মূল্যবান সময়গুলো।

অধিক ব্যয়ঃ টাকা-পয়সা খরচ করার জন্য তৈরি হয়েছে কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় সকলের জন্যই খারাপ। প্রেমিক-প্রেমিকার বেশি টাকা ব্যয় হয় ফোনে কথা বলে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে আনুমানিক ৬-৭ ঘন্টা তারা ফোনে কথা বলে থাকে। যাদের লং ডিসটেন্স’ র রিলেশন তাদের ক্ষেত্রে সময়টা আরো বেশি। ভাবখানা এমন যেন-ফোনটা রাখলেই আমার প্রেমিক/প্রেমিকাটা কোন অপকর্ম করে ফেলবে বা আমাকে ছেড়ে চলে যাবে। এছাড়াও ডেটিংয়ে গেলে রিক্সা না নিলে কেমন হয়। আমার গার্লফ্রেন্ড কষ্ট করে হেটে যাবে, ওর পা তো ব্যথা হয়ে যাবে, ওর অনেক কষ্ট হবে, সুতরাং, রিক্সায় চড় আর টাকা ঢালো। অনেকে আবার ড্যান্সিং কারের থিওরী প্রয়োগ করার জন্যেও রিক্সা নিয়ে থাকে। অন্যদিকে, সুন্দরী গার্লফ্রেন্ড নিয়ে তো আর রাস্তায় বসে গল্প করা যায় না, তাই কোন কফিসপ/রেস্টুরেন্ট-এ বসতে হয়। রাস্তার পাশের দোকান থেকে চা খাওয়ালে তো গার্লফ্রেন্ড ভাববে আমার টাকা নাই। তাই কেএফসি/বিএফসিতে তো যেতেই হয়। এছাড়াও বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে গিফট না দিলে ইজ্জত থাকে না, প্রেমও জমে না।তাও আবার দামী হওয়া চাই। অন্যদিকে মেয়েরাও তোর বয়ফ্রেন্ডকে টি-শার্ট, জামা, বিভিন্ন গিফট, হাত খরচের টাকাও বন্দেবস্তও করে দেয়।

সার্বক্ষণিক দুঃশ্চিন্তাঃ প্রেম করলে সব সময়ের জন্য একটাই চিন্তা থাকে, আমার প্রেমিক/প্রেমিকা কী করছে, খাওয়া দাওয়া করছে কিনা/ ফোন দিচ্ছে না কেন এখনও/ মেসেজও দিল না, ১ ঘন্টা হয়ে গেল/ ফোন রিসিভ করছে না কেন- এইসব হাবিজাবি চিন্তা করতে করতেই দিন পার হয়। আর সন্দেহপবন প্রেমিক/প্রেমিকার প্রথম চিন্তাই থাকে-“আমার জানটা’ অন্য কার সাথে যেন লুকিয়ে প্রেম করছে।” এমনকি ফোন রিসিভ করতে একটু দেরী করলেই সম্মুখীন হতে হয় নানান প্রশ্নের।

মিথ্যা বলার প্রবণতাঃ রিলেশন করলে মিথ্যা বলার প্রবণতাটা একটু বেশিই বেড়ে যায়। হয়তো গার্লফ্রেন্ড/বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে ঘুরতে গেল আর তার মা ফোন দিলেই বলতে হয় মিথ্যা। আবার অনেক সময় মনের মানুষের মন রক্ষা করার জন্যও মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়। যেমনঃ তাস খেলার সময় ফোন দিলেই বলতে হয়, “জান, আমি এখন স্টাডি করছি, তোমাকে পরে কল দেব”(কারণ জান তাস খেলা পছন্দ করে না)। আবার, রাতে কথা বলতে ইচ্ছা না হলে বা অন্য কারো সাথে কথা বলার থাকলে ছেলেকে বলে, “জান, আজ আমি মায়ের সাথে ঘুমাবো, আমাকে কল দিও না। মা জানতে পারলে সমস্যা হবে আর আমার ফোন বন্ধ থাকবে।”

ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপঃ প্রেম করলে নিজস্ব স্বাধীনতা বলে কিছুই থাকে না। একজন আরেকজনের মন মত জীবনযাপন করে। কোন কিছু করার আগেই চিন্তা করতে হয়, ‘আমার জানটা এই কাজটা অপছন্দ করে কিনা।”

মন মেজাজ খিটখিটে থাকে প্রায় সময়ঃ প্রেমের একটা পর্যায় আসে যখন দুজন ঝগড়া করেই সময় পার করে। সেই সময়টাতে মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে। কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করে না, আড্ডা দিতে ইচ্ছা করে না, কিছু থেকে ইচ্ছা করে না, কাজে মন বসে না, পড়ার টেবিলের দিকে নজরই যায় না।
বন্ধু-বান্ধবের সাথে ও মা-বাবার সাথেও যোগাযোগ কমে যায়ঃ প্রেম করার সময় শুধু বিপদে পড়লেই বা হাত টান পড়লেই বন্ধুদের কথা মনে পড়ে। বাকি সময়ে গার্লফ্রেন্ড/বয়ফ্রেন্ডই তার কাছের বন্ধু। এমনকি বাবা-মায়ের সাথেও যোগাযোগ বা কথাবলার পরিমান কমে যায়।

জীবনটা হয়ে যায় এককেন্দ্রীকঃ প্রেম করা অবস্থায় চিন্তা থাকে শুধু দুইটা- ১. আমার জানটা’ ২. আমার ‘জানটা। এর বাইরে যে প্রথিবী নামের একটা গ্রহ আছে, আর ওখানে মানুষ নামের আরো অনেক প্রাণী বাস করে সে কথা তারা বেমালুম ভুলে যায়। জীবনযাত্রা হয়ে যায় ‘জান’ কেন্দ্রীক।

এতো সমস্যার মাঝে রিলেশন করার দরকারই কী !! আমরা যারা মনে প্রাণে সিঙ্গেল তারা -“একা আছি, অনেক সুখে আছি’ এই সান্ত্বনা নিয়ে জীবন পার করি। অন্য দিকে সকল প্রেমিক-প্রেমিকাকে অভিনন্দন জানাই আর মঙ্গল কামনা করি। ব্রেক-আপ হইলে আবার ফিরে আইসেন আমাদের সিঙ্গেল জগতে। আপনাদের জন্য দরজা সব সময়ই খোলা।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:৫৬
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার এআইনোক্কিও

লিখেছেন শায়মা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৪


এক জীবনে কত কিছু দেখা হয় কত কিছু জানা হয় মানুষের! আসলেই কত অজানারে! লেখক শংকরের এই নামে একটি বই আছে। কবিগুরুর আছে কবিতা কত অজানারে জানাইলে তুমি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:২২



ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে
==================================
পিঠ ছুঁয়ে নামা মেঘবরণ তার লম্বা কালো চুল,
তারই মাঝে লুকিয়ে হাসে একটি সাদা ফুল।
চোখ দুটো তার ডাগর ডাগর, অবাক করা আলো,
দুষ্টুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×