somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশের সবাই ভালো হয়ে গেলে কেমন হতো??? (আজগুবি গল্প)

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

- কী নাম?
- সাদ্দাম
- জেলে কতদিন হয়?
- ১ বছরের জেল দিছে, মাত্র ৩ মাস হয়।
- কেস কী?
- ছিনতাই করবার গিয়া ধরা খাইছি। বুঝবারই পারি নাই ওই হালায় নিজেই পুলিশ। এই লাইনে জীবনে কোনদিন ধরা খাইনাই। হালার, ওইদিন কপালডাই খারাপ আছিলো!
- হমম.... তোমার বাবাও মনে হয় এই লাইনেরই ছিলেন, নাকি?
- হ, বাপে গেরামে চুরি করতো। হের হাত খুব পাক্কা আছিলো। কোনদিন ধরা খায় নায়। কিন্তু তার পার্টনার তার লগে মীর জাফরী কইরা ধরা খাওয়াইয়ে দিছে। কাউরেই বিশ্বাস করা যায় না এই দুনিয়ায়। গেরামের মাতব্বর বাপেরে গ্রামছাড়া করার হুকুম দিছে। তার পর থাইকা বাপের কোন খোঁজ পাই নাই। বাধ্য হইয়া আমারই সংসার চালাইতে হয়। বাপের কাছ থ্যাইকা একটু আধটা টেরনিংও নিছিলাম। ভালোই চলতাছিলো, একটুর লাইগা ধরা খাইয়া গেলাম।
- হমম বুঝলাম.... এবার চুপ করে এর উপর শোও.........
বলেই ড. রায়হান কয়েদী সাদ্দামকে "ডিএনএ ট্রান্সফর্মারে" শুইয়ে দেয়। দীর্ঘ ৩২ বছর গবেষণা করার পর তিনি এই ট্রান্সফর্মারটি আবিষ্কার করতে সক্ষম হন। তিনি চিন্তা করে দেখলেন, যেহেতু, ডিএনএ হচ্ছে বংশ গতির একক বা বাহক । এটি আমাদের জীবন পক্রিয়া নিয়ন্ত্রন করে, তাই কোনভাবে যদি খারাপ কাজ পরিচালনা করার ডিএনএ প্রতিস্থাপন করে ভালোটা বসিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে মানুষ আর বংশ পরম্পরায় খারাপ কাজগুলো করবে না। যেই ভাবা সেই কাজ, নেমে পড়লেন গবেষণায়। প্রথমেই তিনি ভালো ভালো মানুষের চুলের গোড়া, রক্ত, বীর্জ থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করে ডি-অক্সিরাইবোজ সুগার, অজৈব ফসফেট ও অ্যাডেনিন (Adenine), গুয়ানিন ( Guanine), সাইটোসিন ( Cytosine), থায়ামিন (Thymine) নামক নাইট্রোজেন বেস-কে আলাদা আলাদা করলেন, কারণ এগুলোই হল ডিএনএ'র গাঠনিক উপাদান। অতঃপর উপাদানগুলো থেকে ইলেকট্রিক কোডেক তৈরি করলেন, যেন সহজেই মানুষের শরীরের মধ্যে কোডগুলো প্রতিস্থাপন যায়। এভাবে সবশেষে তৈরি করলেন ডিএনএ ট্রান্সফর্মার। তিনি এটাকে কেন্দ্রিয় কারাগারে স্খাপন করার চিন্তা করলেন যেন অপরাধী যারা আছে তাদের ডিএনএ প্রতিস্থাপন করে ভালো মানুষ বানাতে পারে। তাহলে একটা সময় বাংলাদেশে খারাপ মানুষ বলে কেউ থাকবে না। একজন একজন কয়েদীকে মেশিনে ঢুকান আর তারা ভালো হয়ে বের হয়ে আসে। ভালো মানুষের সার্টিফিকেট দিয়ে কয়েদীদের জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

* * *
জরুরী মন্ত্রীসভার আহবান করা হয়েছে। দেশের পরিস্থিতি খুব খারাপ। দেশে বেকারত্ব বাড়ার সাথে সাথে অর্থনৈতিক মন্দা, খাদ্য উৎপাদন কম এবং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। মাননীয় স্পীকার বলে চললেন,
- “ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার সুবাদে দেশে এখন খারাপ মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। সবাই ভালো ভালো কাজ করে, ভালো চিন্তা করে তবুও দেশের এই অবস্থা কেন? কেন দেশের উন্নতি হচ্ছে না।? আমরা মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো দিতেও ব্যর্থ হচ্ছি। এক কারণ কী?”
একে একে সবাই মুখ চাওয়া-চাওয়ি করতে লাগলো। কেউ প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে পারলো না। দেশকে রক্ষা করার জন্য এর কারণ খুঁজে বের করতেই হবে। তাই ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হল। ১ মাসের মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হল।

তদন্ত শেষে রিপোর্ট পেশ করতে সভা আহবান করা হল। রিপোর্টে বলা হল- দেশের এই অবস্থার জন্য দায়ী হলেন ড. রায়হান। উনার "ডিএনএ ট্রান্সফর্মার” আবিষ্কারের ফলে কয়েদিরা ভালো মানুষ হয়ে বেরিয়ে আসছে। দৈনিক ১০০ জন করে কয়েদি ছাড়া পাচ্ছে জেল থেকে। দীর্ঘদিন জেলে থাকার দরূন তাদের কোন চাকরীর অভিজ্ঞতো না থাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। ভালো ডিএনএ থাকার ফলে খারাপ কোন কাজেও জড়িত হতে পারছে না। ফলে তারা বেকার রয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে তাদের বাসস্থানের জন্য আবাদী জমিতেও ঘর বানানো হচ্ছে, যার কারণে ফসল উৎপাদন অনেক কমে গেছে। অন্যদিকে, দিনে দিনে খারাপ কাজের পরিমান কমে যাচ্ছে বলে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেকেরই চাকরী চলে যাচ্ছে। মানুষ পিটানো আর ঘুষ নেওয়া ছাড়া তাদের অন্য কোন অভিজ্ঞতা না থাকায় কোথাও চাকরী করতে পারছে না। আইনজীবীরাও মক্কেল না পেয়ে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। জরীপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে সর্বমোট কয়েদীর সংখ্যা আনুমানিক ৮৫,০০০ এর উপরে। দিনে দিনে এদের সবাইকে খালাস দেওয়া হলে দেশের অবস্থা আরো খারাপের দিকে ধাবিত হবে।

রিপোর্ট শোনার পর সভার সবাই দুঃচিন্তায় পড়ে গেল। স্পিকার বলে উঠলেন, “নাহ, এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশের সবাই ভালো হয়ে যাবে। খারাপ কাজ বলে কিছু থাকবে না। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী বলে কোন সেকশন থাবে না, আইনজীবীদের আয় কমে যাবে। মাদক ব্যবসায় বন্ধ হয়ে যাবে, খাদ্য উৎপাদনের জমি না থাকায় ঘাটতি পড়ে যাবে, কেউ আইন অমান্য করবে না বিধায় গণতন্ত্র স্বয়ংক্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে, ফলে মন্ত্রী পরিষদের গুরুত্ব কমে যাবে। মন্ত্রীদের দেখলে কেউ রাস্তা ফাঁকা করে দিবে না। এহেন অবস্থায় আমাদের ভবিষ্যত হুমকির মুখে। এটা হতে দেওয়া যাবে না। ড. রায়হানের বিরুদ্ধে একটা ব্যবস্থা নিতেই হবে। ”

অতঃপর ড. রায়হানের নামে মামলা করা হল। তাকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হল। “দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার” ক্ষুন্ন করার অপরাধে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হল। যেহেতু, ডিএনএ ট্রান্সফর্মেইশনের মাধ্যমে মানুষেরে প্রকৃত ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন আনা হচ্ছে, তাই “স্বকীয়তা ও ব্যক্তিস্বাধীনতায় বাধা দানের” জন্য অভিযুক্ত করা হল। সমস্ত স্বাক্ষী, প্রমাণ ও পরিস্থির কথা বিবেচনা করে ড. রায়হানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় এবং তার আবিষ্কৃত ডিএনএ ট্রান্সফর্মার বিনষ্ট করে দেওয়ার আদেশ দেয়।

“‘কেউ যেন জেলে না থাকে আর খারাপ পথে না চলে’ এই নিয়ে চিন্তা করে যেই আমি এতো গবেষণা করলাম, সেই আমাকেই কিনা সারাজীবন জেলখানায় কয়েদী হয়ে কাটাতে হবে।!!! এটাই আমার দেশকে নিয়ে ভালো চিন্তা করার নিয়তি!!! কেউ বুঝলো না যে, এই মানুষগুলোকে জনশক্তিতে রূপান্তর করা যেত, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারতো। সবাই নিজের স্বার্থ নিয়ে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, যার ফলে বৃহৎ কল্যাণের কথা কারো মাথায় আসে না। যন্ত্রটা জেলখানায় ব্যবহান না করে মন্ত্রী পরিষদে ব্যবহার করলেই বেশি ভালো হতো। ” মনে মনে কথাগুলো বলে দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস ছাড়লেন ড. রায়হান।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:৫৪
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×