কয়েক মাস আগে আমার এক স্টাফ বলতেছে, “স্যার একজন মহিলা আসছে আপনার সাথে দেখা করতে। উনি আগেও কয়েকদিন আসছিল, আপনি ব্যস্ত ছিলেন। তাই দেখা করতে পারে নাই । আমি এই কথা শুনে অনুশোচনা বোধ করলাম। আমি কি এমন এক লোক হয়েছি যে আমার সাথে দেখা করার জন্য একজন মহিলাকে কয়েকদিন এসে ফিরে যেতে হবে ! তাই তাড়াতাড়ি করে উনাকে আসতে বললাম। উনি তার পরিচয় দিল।ভদ্র মহিলা একটি মহিলা মাদ্রাসায় ছোটখাট চাকুরি করে। তার ছেলে দীর্ঘ ৫ বৎসর ধরে অসুস্থ। আমাকে দেখাতে চায়। আমি বললাম, নিয়ে আসেন। মহিলা তখন একটু লজ্জিতভাবে বলল, স্যার আমি মাদ্রাসায় দিনে ২০০ টাকা হিসেবে কাজ করি। আমি আপনাকে ২০০ টাকার বেশী দিতে পারব না। আমি বলাম, আপনার টাকাই লাগবে না, ছেলেকে নিয়ে আসেন। মহিলা হাউমাউ করে কেঁদে চেম্বার থেকে বের হয়ে গেল। ১ ঘন্টার মধ্যে ছেলেকে নিয়ে হাজির। আমি ভদ্রমহিলা এবং তার ছেলেটির সব কথা শুনে বুঝে দেখে এবং রিপোর্টগুলো নিয়ে এসেসমেন্ট সম্পূর্ন করলাম এবং বুঝতে পারলাম ছেলেটি অ্যাংকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিসে ভুগতেছে।
ছেলেটাকে দেখে খুব কষ্ট লাগল । কি সুন্দর মায়াবী চেহারা । ছেলেটার উরুসন্ধি অর্থাৎ কোমর আর পায়ের জয়েন্টগুলো শক্ত হয়ে গেছে। বসতে পারে না, দাঁড়িয়ে থাকতেও কষ্ট হয়। মাঝে মাঝে সম্পূর্ণ বিছানায় পরে যায়। রাতে ঘুমাতে পারে না। ব্যথা আর ব্যথা। টয়লেট করতে অনেক কষ্ট হয়। কোমর ভাঁজ করতে পারে না। দিন দিন অবনতি হচ্ছে। কি যে এক কষ্ট। ফিজিওথেরাপি, অ্যালোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি, কবিরাজী হেন চিকিৎসা নাই যে যা তারা নেয় নাই । চিকিৎসা করাতে করাতে সব হারিয়েছে । কিন্তু উন্নতির বেলায় মাথায় হাত।
আমরা সপ্তাহে তিন-চারদিন ফিজিওথেরাপি দিচ্ছি, ব্যথা কমতেছে এবং আস্তে আস্তে উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু কতদূর? ছেলেটার চোখের দিকে তাকালে মায়া লাগে। একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ক্লাস করে। গতকাল আমাকে বলতেছে, স্যার আমি কি ভাল করে বসতে পারব?
আমি কি বলব প্রথমে বুঝতেছিলাম না। তারপর ছেলেটার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে ফেললাম - তুমি পারবে। সৃষ্টিকর্তা দয়াময়।
ধন্যবাদ
ডা সাইফুল ইসলাম , পিটি
বি এসসি ইন ফিজিওথেরাপি (সিআরপি- ঢাবি)
প্রতিষ্ঠাতা ও কো-অর্ডিনেটর
ভিশন ফিজিওথেরাপি সেন্টার , উত্তরা , ঢাকা ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

