somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে-7

২৭ শে মার্চ, ২০০৬ বিকাল ৫:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার দূরবতর্ী পাকুরিয়া গ্রামে '71-এর আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে সংঘটিত হয় ভয়াবহ এক গণহত্যা। দিনটি ছিল শনিবার, তারিখ 28 আগস্ট। হানাদার পাকবাহিনী ও রাজাকাররা প্রথমে চারদিকে থেকে পাকুরিয়া গ্রামটি ঘিরে ফেলে এবং গান পাউডার ছিটিয়ে বেশ কিছু বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনায় অগি্নদগ্ধ হয়ে মারা যান বুলন খেওয়া নামক এক বৃদ্ধা। আরো অনেকেই আহত হন।
অগি্নসংযোগের মহোৎসবের পর শুরু হয় বর্বর পাকহানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের গুলিবর্ষণের পালা। হামলাকারীরা নর্িির্বচারে গুলিবর্ষণ করতে থাকে। জীবন বাঁচাতে গ্রামবাসী দৌড়ে পালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ পাখির মতো ছটফটিয়ে মৃতু্যর কোলে ঢলে পড়ে। অনেককে আবার লাইন ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। বহুসংখ্যক গবাদিপশুও হামলাকারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে মৃতু্যবরণ করে।
পাকুরিয়া অপারেশন শেষ করে পাকহানাদার বাহিনী চলে যাওয়ার পর বেঁচে যাওয়া গ্রামবাসী 128টি মৃতু্যদেহ উদ্ধার করে 20 শতাংশ জমিতে সমাহিত করে। স্থানীয় জনগণ এই বধ্যভূমিটি চিহ্নিত করে রাখার জন্য ইট দিয়ে একটি বাউন্ডারি নির্মাণ করেছে। এখানে অবাধে গবাদিপশু বিচরণ করে। বধ্যভূমিটির গেটে স্থানীয় উদ্যোগে একটি তোরণও নির্মিত হয়েছে। তোরণের দুধারে লেখা রয়েছে 73 শহীদ ও 18 আহতের নাম। পাকুরিয়ায় এই বধ্যভূমিকে ঘিরে যা-ই কিছু ঘটেছে তার সবটাই স্থানীয় গ্রামবাসীর উদ্যোগ ও সহায়তায় সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি সহায়তার কোনো ছিটেফোঁটাও পেঁৗছেনি পাকুরিয়ার বধ্যভূমিতে। এলাকাবাসীর এ জন্য কোনো আক্ষেপ নেই। তাদের ক্ষোভটা অন্যত্র।
নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার এই পাকুরিয়া গ্রামটি বেশ দুর্গম অঞ্চলে অবস্থিত। রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের মান্দা উপজেলার দেলুয়াবাড়ি হয়ে পশ্চিমদিকে 3 কিলোমিটার উঁচুনিচু কাঁচা-ভাঙা পথ পেরিয়ে তবে পেঁৗছানো যায় পাকুরিয়া গ্রামের বধ্যভূমিতে। পাকুরিয়াতো বটেই, মান্দা উপজেলাবাসী তথা নওগাঁর জনগণ 3 কিলোমিটারের এই দুর্গম পথটি পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছে বহুদিন যাবৎ। কিন' সরকারের কোনো মহলেই এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে না দীর্ঘদিন যাবৎ। যাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে দেশ, তাদের সমাধিতে যাওয়ার একটা রাসত্দা পর্যনত্দ নেই। অথচ এই দেশেরই রাজধানী ঢাকাকে বিউটিফিকেশনের নামে খরচ করা হয় কোটি কোটি টাকা। একই রাসত্দা ভেঙে বছরে একাধিকবার নানা আঙ্গিকে নির্মাণ করা হয়। রাসত্দার ওপর নানা ডিজাইনের আইল্যান্ড ভাঙাগড়া হয়। অথচ এ দেশেরই বধ্যভূমিতে যাওয়ার একটি রাসত্দা পর্যনত্দ নেই। হায়রে দুর্ভাগা জাতি!

গবেষণা: ড. আবুল আজাদ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×