somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তাজিংডং এবং কেওক্রাডং ভ্রমণ - 1

১৯ শে মার্চ, ২০০৭ রাত ৩:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

2002 সালের ডিসেম্বর মাস। আমার কয়েকজন ঘনিষ্ট বন্ধু বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কেওক্রাডং এবং তাজিংডং-এ চড়বে। আমিও আগে কয়েকটা পাহাড়ে চড়েছি। অভিজ্ঞতা এবং আগ্রহ দুটোই আছে, তাই আমিও তাদের দলে ভিড়লাম। দিন যতো এগিয়ে আসছে পাহাড় যেন আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে।
কিন্তু সমস্যা শুরু হলো, আমার ইউনিভার্সিটিতে। নির্ধারিত আট দিন সময়ে আমার মোট তিনটি টিউটোরিয়াল পরীক্ষা, তিনটি প্রাকটিক্যাল এবং অগনিত ক্লাশ আছে। ইউনিভার্সিটি জীবনে কোনো পরীক্ষা এবং প্রাকটিক্যাল বাদ দেই নাই। তাই এগুলো বাদ দিয়ে কোনোভাবেই আমার যাওয়ার উপায় নাই। দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে বন্ধুদের বললাম, তোরা যা, আমি যেতে পারছি না।
দিন যতোই এগিয়ে আসতে থাকে ততোই শুনতে পাই, ওরা তাবু কিনছে, ট্রাকিংয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম সংগ্রহ করছে ইত্যাদি।
ওদের যাত্রার দিন ইউনিভার্সিটি থেকে জানতে পারলাম, একটি পরীক্ষা পিছিয়ে গেছে। কিন্তু অন্যগুলো অপরিবর্তিত আছে। তাজিংডং যাত্রার কয়েক ঘন্টা আগে তাজিংডং যাত্রার মূল পরিকল্পনাকারী আনোয়ারের বাসায় গিয়ে জানতে পারলাম, আমার এক ক্লাসমেট গোপনে ওদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। তখনই আমার মনে চিন্তা ঢুকে গেল, ও যদি সবকিছু বাদ দিয়ে ওদের সঙ্গে যেতে পারে তাহলে আমি কেন পারব না?
বন্ধুকে বললাম, আমি যাব।
আনোয়ার খুবই অবাক হলে, তুই এখন কিভাবে যাবি? আর মাত্র কয়েক ঘন্টা পরে রওনা দিব। আমরা বাসের টিকিট কেটেছি, তাবু কিনেছি, শুকনো খাবার, ট্র্যাকিংয়ের সরঞ্জাম, ওষুধ, হাত মোজা, কান টুপি, নাক টুপি কতো কি!
আমি বললাম, তবুও আমি যাব।
বাসার ভেতর থেকে আনোয়ারের আম্মাও বলে উঠলেন, ওকে নিয়ে যা।
অগত্যা সে তাদের লিস্ট দেখিয়ে বলল, পারবি 2 ঘন্টার মধ্যে এসব জোগাড় করতে। লিস্টে ছিল 1500 টাকা, শুকনো খাবার, ওষুধ, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, পিঠে ঝোলানোর মজবুত ব্যাগ, কেডস, গরম পোশাক ইত্যাদি। আমি রাজি হয়ে গেলাম। আমার বাসাতেই কিছু সরঞ্জাম ছিল। কিছু কিনলাম। কিছু পাওয়া গেল না। সেগুলোর কথা কাউকে বললাম না।
ব্যাগটা কাধে নিয়ে বাসায় জানালাম, আমি 8 দিনের জন্য বান্দরবান যাচ্ছি।
ডলফিন বাস কাউন্টারে গিয়ে ইনজিন কভারে একজনের বসার সিট খুজছিলাম। এ সময় দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে দেখা। তারা আমাকে দেখে অবাক। জিজ্ঞাসা করলো আরে তুই, কোথায় যাচ্ছিস?
বললাম, কেন তাজিংডং!
(ছবিটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ লেক বলে পরিচিত বগা লেকের। এটি বান্দরবানের রুমা থানার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×