কিছুক্ষণ পর পর বিশ্রাম নিয়ে নিচ্ছিলাম আমরা। এ সময় আমার ব্যাগ খুলে দেখি ঝাকিতে কয়েকটা ডিম ভেঙ্গে গেছে। ডিমের কেসটি ভালো না। ভাঙ্গা ডিমের কুসুমে আমার ব্যাগের কাপড় চোপড়ের 12টা বেজে গেছে। হাটার পথে আমরা একটা বড় পাহাড়ি গ্রাম খুজে পেলাম। অধিবাসিরা সবাই বৌদ্ধ বলে জানতে পারলাম। প্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বেশ বড় একটা পাহাড়ি ঝর্ণা। আমরা শুকনো ডালপালা সংগ্রহ করে ব্যাগের ডিমগুলো সিদ্ধ করে ফেললাম। এ সময় সবাইকে 5-6টা করে ডিম খেয়ে ফেলতে হলো। পাশের ঝর্ণায় ধুয়ে ফেললাম ডিমের কুসুমে নষ্ট হওয়া কাপড়গুলো। ভেজা কাপড়ে ব্যাগের ওজন দ্্বিগুণ বেড়ে গেল (ডিমগুলো খেয়ে ফেলায় কিছু ওজন কমেছিল কিন্তু বন্ধুদের কিছু জিনিস আমার পিঠে নিতে হলো)।
দুপুর দুইটার দিকে আমরা আরেকটা পাহাড়ি গ্রামে এসে পৌছলাম। জানতে পারলাম সামনের রাস্তাটা খাড়া পাহাড়ের উপর উঠে গেছে। রাস্তাটির শেষ মাথাতেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ লেক- বগা লেক। বগা লেকের পাশে আছে পাহাড়ি গ্রাম- বগা লেক পাড়া। সেখানে একটা আর্মি ক্যাম্পও আছে।
আমরা দ্্বিগুণ উৎসাহে হাটতে শুরু করলাম। এদিকে পথ খুবই বন্ধুর। চারপাশে পাহাড় আর জঙ্গল। পায়ে হাটা পথটিও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রায় দুই ঘন্টা টানা হাটার পরও কোনো মানুষের দেখা পাওয়া গেল না। কিছুক্ষণ পর পর অবশ্য পাহাড়ি ঝর্ণা ছিল। একটা ঝর্ণাতে নাম না জানা খুব সুন্দর একটা সাপ দেখলাম। ক্যামেরা নিয়ে কাছ থেকে সেটার ছবি তোলার চেষ্টা করছিলাম। শীতকালে সাপের শক্তি থাকে না। এ সময় কামড়ায় না বললেই চলে। আমরা তার কোনো ক্ষতি করলাম না, সেও আমাদের কোনো ক্ষতি করলো না।
এভাবে হাটতে হাটতে বিকাল পেরিয়ে সন্ধ্যা হতে চললো। কিন্তু বগা লেক পাড়ার দেখা পেলাম না। সন্দেহ হল, আমরা কি পথ হারিয়েছি!
গাইড সাং লিয়েনকে ব্যাপারটা জিজ্ঞাসা করলাম। সে জানালো যে, আমরা পথ হারিয়ে ফেলেছি। সন্ধ্যা হয়ে আসছে। জঙ্গল আর পাহাড়ের মাঝে আমরা 10 জন। আশপাশে কোনো মানুষ কিংবা বাড়িঘর নাই। তবে বন্য জীব জন্তু নিশ্চয়ই আছে। চোখে অন্ধকার দেখা শুরু করলাম।
(ছবি: বগা লেক যাবার পথে পাহাড়ি ঝর্ণাতে ঝিনুক কুড়াতে ব্যস্ত কয়েকজন পাহাড়ি)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






