গতবছর অর্থনীতি’তে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফরাসী অর্থনীতিবিদ জ্যা তিরোল। তিনি ফ্রান্সের টুলু’জ স্কুল অব ইকোনমিক্সের অধ্যাপক। মিঃ তিরোলকে নিয়ে গত বছর সব মিলিয়ে দু’জন ফরাসী নাগরিক নোবেল পেয়েছেন(অপরজন হচ্ছেন প্যাট্রিক মোদিয়ানো; সাহিত্যে)।
মিঃ তিরোলের গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল বাজার ক্ষমতা এবং তা নিয়ন্ত্রণ। তিনি বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে, কোম্পানীগুলো বাজার নিয়ন্ত্রকের তুলনায় বাজার সম্পর্কে বেশী ধারনা রাখে। কাজেই, নিয়ম-কানুন তৈরী করে তাদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা ফলপ্রসু নয়। কিন্তু তাই বলে পরিস্থিতি এমনটি হওয়া উচিত নয়, যেখানে কোন নিয়ন্ত্রক থাকবে না। বরং স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালাতে বাজারকেই শক্তিশালী অবস্থানে থাকতে হবে।
তিনি আরো মতামত প্রদান করেন যে, অল্প কিছু কোম্পানী মূল্যস্তরকে উর্ধ্বমুখী করে তুলতে পারে, যদি তাদের খুব সামান্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয়। এক্ষেত্রে তাদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা সাধারনত অকার্যকর। পাশাপাশি শক্তিশালী কোম্পানীগুলো সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো’র সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রচেষ্টা চালায়, যারা তাদের তদারকি করে। ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তারা এই সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দিয়ে এমন সব নিয়ম তৈরী’র পথ খোঁজে, যা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিদের অবরুদ্ধ করে রাখতে পারে। এভাবে সমভাবাপন্ন কোম্পানীগুলো নিজেদের মধ্যে এক ধরনের জোটের অস্তিত্ব সৃষ্টি করে। এই সমস্যাপূর্ণ অবস্থাকে তথা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহের অশুভ উদ্দেশ্যে গঠিত জোটকে সরকার কিভাবে মোকাবেলা করবে, মিঃ তিরোল তার উপায় নির্দেশ করে নোবেল পুরস্কার কমিটি’র দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।
নোবেল পুরস্কার প্রদান কমিটি উল্লেখ করে যে, বাজার নিম্নমুখী হওয়ার কারন গবেষনায় মিঃ তিরোল নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। পাশাপাশি একচেটিয়া কোম্পানীগুলো নিয়ন্ত্রণ করার উপায়ও তার গবেষনায় বেরিয়ে এসেছে।
পরিশেষে মিঃ তিরোল সম্পর্কে একটি মজার তথ্য। শুরুতে তিনি ছিলেন একজন ইঞ্জিনিয়ার! এই বিষয়ে তাঁর একাধিক ডিগ্রি রয়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

