সেই ধরনের লোককে আমি প্রচণ্ডরকম পছন্দ করি, যারা তাদের দেশকে নিয়ে আশাবাদী। প্রভূত সমস্যার মাঝেও যারা অমিত সম্ভাবনার আলো দেখতে পান। এধরনের মানুষেরা উন্নয়নের পথে অন্তরায়গুলো ঢেকে না রেখে স্বীকার করেন। পাশাপাশি বিশ্বাস রাখেন, পুরোটা সময় একইরকম যাবে না। ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই চমৎকার কিছু অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।
একপ্রকার অন্ধ বলেই আমার চোখে এসব ইতিবাচক ব্যপার ধরা পড়ে না। আমি বুঝতেই পারি না, আমাদের বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বেশ ভালোভাবেই যাচ্ছে। আমাদের রয়েছে বিপুলসংখ্যক দক্ষ-অদক্ষ মানবসম্পদ, অস্বাভাবিক উর্বর মাটি, সবুজে ভরা মায়াময় পরিবেশ, সম্পদের আধার নদী-সাগর, অকৃত্রিম সোন্দর্যের উৎস পার্বত্য এলাকা। এসবের অধিকাংশই আমাদের জানার বাইরে।
অর্থনীতির ছাত্র হয়েও আমি জানি না, আমাদের দেশে অসংখ্য প্রতিভাবান অর্থনীতিবিদ আছেন, কার্যকরী কিছু অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিশ্বের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপণা ছেড়ে, আন্তর্জাতিক আর্থিক সংগঠনগুলোর উচ্চপদের চাকুরি পরিত্যাগ করে তারা দেশে ফিরে আসছেন, দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অর্থনীতি পড়াচ্ছেন, অর্থনীতি নিয়ে কাজ করছেন।
অস্বাভাবিক রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের প্রবৃদ্ধি ৬-৬.৫ শতাংশ, অর্থনীতি’র মানদণ্ডে যা High-Medium Growth. (বর্তমানে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের কম)। কয়েকটি বিশাল সাইজের অর্থনৈতিক প্রকল্প চলমান রয়েছে। এগুলো’র বাস্তবায়ন শেষে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরো অধিক হারে বাড়বে। আশি’র দশকের শুরুতে আমাদের দেশে দারিদ্রের হার ছিল ৭০ শতাংশ। এখন এটি নেমে এসেছে ২৭ শতাংশে। বিশ্বাস হয়! এটা আরো নিচে নামবে।
বেশ কয়েক বছর ধরে আমাদের আমদানী-রপ্তানি’র মধ্যকার ব্যবধান কমে আসছে। ইউরোজোনের অবস্থা পুরোপুরি ভালো হয়ে গেলে রপ্তানি আরো বাড়বে। অধিক রপ্তানি’র পূর্বশর্ত অধিক উৎপাদন, অধিক উৎপাদনের পূর্বশর্ত হলো অধিক কর্মসংস্থান! আর আমাদের রপ্তানিখাত মূলত গার্মেন্টস নির্ভর হলেও এই গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংস করতে পারে, পৃথিবীতে এমন কোন শক্তি নেই।
আমাদের প্রায় পৌনে এক কোটি লোক দেশের বাইরে কাজ করছে। বৈধ-অবৈধ পথে প্রতিবছর আরো প্রায় ৫-৭ লাখ মানুষ বিদেশে যাচ্ছে। আমরা গত অর্থবছরে ১৪.২ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পেয়েছি, যা সারা বিশ্বের মধ্যে অস্টম। আরো সুখের বিষয়, মেশিনারি এবং পুঁজিপণ্যের আমদানী’র হার বেশ দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে, নিকট ভবিষ্যতে যা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর কাজে ব্যবহ্নত হবে।
আমাদের ২২.৫ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা’র রিজার্ভ রয়েছে। এই রিজার্ভ নিয়মিত হারে বাড়ছে। তাছাড়া, ক্রমান্বয়ে আমাদের দেশে দক্ষ শ্রমিক এবং শিক্ষিত জনসাধারণের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই মানবসম্পদ শ্রমশক্তিতে যুক্ত হয়ে অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
আমাদের ব্যাংক ব্যবস্থাও খুব শক্তিশালী। প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়মিত হারে শাখা স্থাপণ এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা আমাদের আর্থিক সক্ষমতাই নির্দেশ করে। ই-কমার্স, মোবাইল ব্যাংকিং, অধিকতর কৃষিঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলো রেকর্ড সৃষ্টি করে চলেছে। সংবাদমাধ্যমগুলো ক্রমান্বয়ে দক্ষ হয়ে উঠছে বলে বড়ো-সড়ো দূর্নীতি করে আর লুকোছাপা দেয়ার কোন উপায় নেই, ধরা পড়তেই হবে।
এসব অর্থনৈতিক সূচকের উন্নয়নে সরকারের ভূমিকা খুব অল্পই। যে কোন ধরনের সরকার ক্ষমতায় আসলেও জনগণের এসকল অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততামূলক কর্মকাণ্ড থেমে থাকবে না। অর্থ্যাৎ, আমাদের অর্থনীতি স্থিতিশীল।
আমার এই লেখার মূল বক্তব্য হলো, আমাদের নিরাশাবাদী হওয়ার কোন কারন নেই। আমাদের দেশটাকে ‘Green Field’ আখ্যায়িত করা যেতে পারে, যা অমিত সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং যাকে সামান্য পরিচর্যা করলেই আমরা অবিশ্বাস্য রকম ভালো ফলাফল আশা করতে পারি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

