somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ইএম সেলিম আহমেদ
বিংশ শতাব্দীর কাদা মাটি মেখে বড় হয়েছি। ভূলে একবিংশ তে এসে পড়েছি।

আমি কি আমার বাবার খুনিকে খাওয়াচ্ছি?

২৩ শে জুলাই, ২০২৫ বিকাল ৪:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ধরুন, কেউ এসে আমার বাবাকে খুন করলো। ঠান্ডা মাথায়, নির্মমভাবে। এরপর মামলা হলো, বিচার হলো, সাক্ষী-প্রমাণে প্রমাণিত হলো যে সেই মানুষটাই খুনি। বিচারক রায় দিলেন—যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

আমি থমকে যাই। একটা মানুষের জীবন নিয়ে নিলো, আর বিনিময়ে সে কয়টা বছর জেলে থাকবে? আমার বাবা কি ফিরে আসবে?

বিচার শেষ। খুনি এখন জেলখানায়।
জেলখানায় সে খাচ্ছে, ঘুমাচ্ছে, চিকিৎসা পাচ্ছে—সবকিছু সরকারি খরচে। আর এই "সরকারি খরচ" আসে কোথা থেকে? আমাদের কাছ থেকে। আমার কাছ থেকে।
আমি প্রতিদিন বাজার করি, ভ্যাট দিই। বিদ্যুৎ বিল দিই, কর দিই। প্রতিটি লেনদেনে আমি টাকা দিচ্ছি সরকারকে, সেই টাকা দিয়ে সরকার চলছে—আর তার একটা অংশ খরচ হচ্ছে জেলখানায় থাকা কয়েদিদের পেছনে।

মানে দাঁড়ায়, আমার টাকায়—আমার বাবার খুনিকে খাওয়ানো হচ্ছে?

এই চিন্তা মাথায় এলে আমার গলা শুকিয়ে আসে। বুকের ভিতর একটা অসম্ভব যন্ত্রণা কাজ করে। এটা তো শুধু একটা দণ্ড নয়, এটা একটা তামাশা।
বাবা হারানোর পর আমি এখনো সেই কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছি, অথচ খুনি মানুষটা হয়তো এখন দুপুরে গরম ভাত আর ডাল খাচ্ছে—আমারই টাকায়।

হ্যাঁ, আমি জানি রাষ্ট্র একটা নিয়মে চলে।
রাষ্ট্র বলে, আইন সবার জন্য সমান। এমনকি খুনিরও কিছু মৌলিক অধিকার আছে।
রাষ্ট্র বলে, আমরা প্রতিশোধের সমাজে বাস করি না।
রাষ্ট্র বলে, সঠিক বিচার মানে প্রতিশোধ নয়, বরং শাস্তির মাধ্যমে সংশোধন।

আমি সব জানি।
কিন্তু আমার কষ্টগুলো কি রাষ্ট্র বোঝে?

আমার মনে হয়, এই সমাজে খুনির অধিকার আছে, কিন্তু খুন হওয়া মানুষের পরিবারের আবেগের কোনো জায়গা নেই। আমি কাঁদি, ভেঙে পড়ি, বাবার ছবি জড়িয়ে রাত কাটাই—এতেও কারো কিছু যায় আসে না।
রাষ্ট্র শুধুই বলে, “আপনার বাবা ন্যায়বিচার পেয়েছেন।”

তবে কি এটা ন্যায়?
একজন খুনিকে বাঁচিয়ে রাখা, আর খুন হওয়া মানুষের পরিবারকে ধুকে ধুকে বাঁচতে বাধ্য করা—এটাই কি সভ্যতা?

আমি চাই না কাউকে মেরে ফেলা হোক। আমি চাই না রাষ্ট্র অমানবিক হোক।
কিন্তু আমি প্রশ্ন করি, অন্তত এইটুকু কি রাষ্ট্র স্বীকার করতে পারে না যে, আমার কাছ থেকে কর নিয়ে, আমার বাবার খুনিকে খাওয়ানোটা একটা চরম মানসিক অবমাননা?

রাষ্ট্র হয়তো বলবে—এটা আবেগের কথা, বাস্তবতা না।
কিন্তু আমি বলি, এটাই তো বাস্তবতা।
কারণ প্রতিদিন আমি টাকাটা দিচ্ছি, আর প্রতিদিনই মনে পড়ছে—সেই টাকায় কেউ একজন খাচ্ছে, যে আমার বাবাকে মেরে ফেলেছে। এভাবে আমি প্রতিদিন একটু একটু মরে যাই।

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০২৫ বিকাল ৪:২৪
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'মেটিকুলাসলি ডিজাইন' করে সিলেটকে অশান্ত করে তোলার অর্থ কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:১৫

সিলেটে এন,সি,পি সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল।
দলের ভিতরে কোন্দল মারাত্মক তা ফেসবুকে দলীয় নেতা কর্মীদের পোস্ট দেখে বুঝা যায়।
অথচ, সামনে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন।
এই পরিস্থিতিতে, দলের মানুষদের 'গরম' করে তোলার একটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৮

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।
================================
ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। যে জাতি তার মানুষের কান্না, আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি ভুলে যায়, সে জাতির ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আজ এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকস্বাধীনতা নাকি বাকসন্ত্রাস?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩২

বাকস্বাধীনতা নাকি বাকসন্ত্রাস?

বাকস্বাধীনতা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক অধিকার। কিন্তু বাকস্বাধীনতা মানে যা খুশি তাই বলা নয়; অন্যের সম্মান, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে উপেক্ষা করারও নাম নয়।

কোনো ব্যক্তি, পরিবার, গোষ্ঠী বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবার সমস্যা, ব্লগ আমাকে কেন ভোগাচ্ছে?

লিখেছেন মেহবুবা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

আবার সমস্যা ব্লগ ঠিকমত দেখা যায় না। কিছুদিন আগে এমনটি হয়েছিল। ব্লগার সুলাইমান সহজ করে সমাধান বের করে দিয়েছিল। এবার একই সমস্যা হচ্ছে তবে সেই একই উপায়ে কাজ হচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি ইরানের নতুন শত্রু হতে চলেছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৬


মরুভূমির গরম বাতাস আর লোহিত সাগরের নোনা জলীয় বাষ্প যেখানে এসে মেশে, বাব এল মানদেব প্রণালীর সেই জায়গাটায় রাতের অন্ধকার নামলেই একটা অদ্ভুত নীরবতা ছেয়ে যায়। কিন্তু সেই নীরবতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×