একজন প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক হিসেবে আমি গর্বিত। কিন্তু কখনো কখনো এ গর্ব দ্বিধার দোলাচলে ধাবিত হতে চায়। ব্যাক্তিগত জীবনে নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পর্যাপ্ত আয় আমার আছে। করছিও। তবুও সমাজ, সামাজিকতা বলতে কিছু ব্যাপার আমাদের সমাজে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে। সমাজে আমাকে মূল্যায়ন করতে আমি একজন শিক্ষক তা বিবেচনা না করে বিবেচনা করতে চায় আমি কোন শ্রেনির চাকরি করি, কত বেতন পাই ইত্যাদি। সেক্ষেত্রে মনটা বড়ই ছোট হয়ে আসে। নিজেই চিন্তা করি সত্যিই তো একজন শিক্ষকের কি তৃতীয় শ্রেনির সরকারি কর্মচারী থাকা সাজে?? এ অপমান কি শুধু আমার নাকি পুরো জাতির? এমনও দেশ আছে যেখানে আদালতের এজলাশে শুধুমাত্র শিক্ষকের জন্য আসন ব্যবস্থা থাকে, এমনও দেশ আছে যেখানে শিক্ষকেরাই দ্বিতীয় সারির ভিআইপি মর্যাদা পায়। আর আমরা হরহামেশাই টিটকারির শিকার হই!! ব্রিটেনের একজন প্রধান শিক্ষিকা তার প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও বেশি বেতন পান। আর আমরা বেতন বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছি! ! এতে কি জাতি হিসেবে আমাদের মান মর্যাদা বেড়ে যাচ্ছে?? পৃথিবী ৯০শতাংশ দেশে শিক্ষকের বেতন স্কেল উপরের দিকে রেখে বেতন স্কেল তৈরী করা হয় আর আমরা প্রাথমিক সহকারি শিক্ষকেরা এখনো তৃতীয় শ্রেনির কর্মচারী! !
আমার এই হাহাকার শুধু আমার নয়। এ হাহাকার দেশের তিন লক্ষাধিক সহকারি শিক্ষকের। আমি মনে করি দেশের প্রতিটি নাগরিকেরই আমাদের ন্যায্যতা নিয়ে সোচ্চার হওয়া উচিত। কারন দেশের প্রায় প্রত্যেকেই কোন না কোন প্রাথমিক শিক্ষকের কাছে শিক্ষায় হাতেখড়ি নিয়েছেন। সবাই কলেজ বা ভার্সসিটিতে না পড়লেও অন্তত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়েছেন।
তাই প্রথম শিক্ষাগুরুর এই ক্লান্তিলঘ্নে সবাই আওয়াজ তুলুন। সমর্থন করুন।
ধন্যবাদ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




