somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বই রিভিউ - এপিলেপটিক হায়দার

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৩:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বই রিভিউ
এপিলেপটিক হায়দার
লেখকঃ তকিব তৌফিক
প্রকাশকঃ নালন্দা
পৃষ্ঠাঃ ৮০
মূল্যঃ ২০০টাকা

বইয়ের শুরুতেই হায়দার নিজের সম্পর্কে যা ভাবে এটা জানিয়ে লেখক প্রথমেই পাঠকের সেন্টিমেন্টালে টাচ করে। এপিলেপসি একটা রোগ, অভিশাপ না। আমাদের সমাজে আমরা এপিলেপসি বা মৃগী রোগীকে অভিশপ্ত বলেই জেনে এসেছি। এপিলেপটিকদের নিয়ে সামনে পেছনে শত বাজে কথা কিংবা উপহাসের মাধ্যমে তাদের হেয় করে আমরা একপ্রকার পৈচাশিক আনন্দ পেয়ে থাকি। কেন পেয়ে থাকি জানিনা, আমার মনে হয় আমাদের জ্বীনগত সমস্যার কারনে। আমাদের পূর্বপুরুষদের পূর্বপুরুষরা খুব একটা ভাল শ্রেণীর ছিল না, পোষাক বদলালেও তাদের চিন্তাচেতনা অবচেতনভাবে আমাদের মাঝে রয়ে গেছে। তাই এপিলেপটিকদের নিয়ে রষবোধে মেতে ওঠাটা খুব স্বাভাবিক আমাদের কাছে। তো এই এপিলেপটিক হায়দারই আমাদের উপাখ্যানের নায়ক।

পুরো বই জুড়ে এত এত ডোমেন নলেজে ভরপুর যা সত্যিই অসাধারণ লেগেছে। যারা হুমায়ন পড়ে তারা বুঝবে অন্যান্য লেখক আর হুমায়নের পার্থাক্য কি। তিনি প্রাসঙ্গিক লেখার মধ্যে এত ছোট ছোট কিছু ইনফরমেশন দিয়ে থাকেন যে পাঠক মোহ হয়ে সেই কথাগুলো নিতে থাকে ভেতরে। এই ইনফরমেশনগুলো যেন উপন্যাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। লেখক তকিব তৌফিক এনালাইটিকাল সিগমেন্ট, নলেজবেজড, ক্রিটিকাল এনালাইসিসসহ প্রচুর ইনফরমেশন দিয়ে সাজিয়েছেন বইটিকে যা সত্যিই অসাধারণ। হায়দারের ছোট খালাতো বোনের ভেন্ট্রিলোকুইজম নিয়ে জানতে চাওয়া এবং খাস্তা বিস্কুটে মুখের ভেতরে শব্দ হওয়ার মত অনবদ্য কিছু ইনফরমেশন রয়েছে বইটিতে।

বইটির সব থেকে বেষ্ট পার্ট হল দুইটি। প্লট এবং আনপ্রেডিক্টেবিলিটি। হায়দার চরিত্রটিকে লেখক ফুললি আনপ্রেডিক্টেবল রেখেছেন। পাঠকমন প্রতিটি পরিচ্ছদে পরিচ্ছদে তার প্রেডিক্টেবিলিটি চেঞ্জ করতে বাধ্য হবেন। সর্বপ্রথম হায়দারের ফ্যামিলিচিত্র চিত্রের বর্ণনা শুনে মনে মনে যে চিত্র সাজিয়েছিলাম কিছুক্ষণ পরই মহুয়ার সাথে বর্ষার মুহুর্তে রোমাঞ্চিত হয়ে ধরেই নিয়েছিলাম এটা রোমান্টিক বেজড কাহিনী। উপাখ্যানের শুরু এবং শেষ বিষদ ফারাক। এত সুনিপুণভাবে লেখক কাহিনী বুঝেছেন তার জন্যে তিনি পাঠকদের অসীম ভালবাসা পাবেন।

সর্বশেষ হল মেসেজ, আমরা মুসলিম কিংবা হিন্দু, খৃষ্টান কিংবা বৌদ্ধ। সবাই সম্ভবত মহাকালে বিশ্বাসী। মহাপ্রলয়ের দিনের খুব সুন্দর মজার বর্ননা হয়ত কোন ধর্মেই দেইনি। সেদিন বিচার হবে সকল পাপ পূন্যের। হায়দারকে নরকের প্রথম স্তরে পাঠানো হল সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাস করার কারনে। কিন্তু হায়দার কিন্তু সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী ছিল। সে ছিল সেইসকল বিশ্বাসীদের একজন যারা ধর্মকে শুধু ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করেছে, যার কর্মফল হয় নরকের প্রথম এবং সবচেয়ে ভয়ংকর স্তর। প্রাকটিসিং না হলে কোন ধর্মেই থাকার কোন মানে হয়না। এর থেকে অবিশ্বাসী হয়ে যাওয়াই ভাল। নামের ট্যাগলাইনে মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম কিংবা শ্রী গোপাল চন্দ্র রায় লাগানো কিংবা শুক্রবারদিন মসজিদে গিয়ে কপাল ঠেকালেই ধর্মপালনকারী হওয়া যায়না। যারা চর্চা করেনা, নরম হয়ে যায় তাদের ভীত, সেই ভীত জুরে স্থান দখল করে শয়তান। যার ফলাফল অবিশ্বাসীদের একজন।

লেখকের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবো অনেকগুলো মেসেজের পাশাপাশি এত সুন্দর একটা মেসেজ দেয়ার জন্যে। আমাদের জেনারেশন সত্যিই অনেক বেশি দূরে সরে গেছে এসব থেকে। তারা নিজেকে একপ্রকার এক্ট অব গড মনে করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। তাদের কাছে ধর্মচর্চা ওল্ড ফ্যাশন ছাড়া আর কিছুই না। এজন্যেই ননপ্রাক্টিসিংদের মধ্য থেকেই খুব সহজেই তৈরি হয় অবিশ্বাসী।

এপিলেপটিক হায়দার এমন একটা অভিজ্ঞতা ছিল, যেটা পড়ার পর অন্ধকার রুমে বিছানায় শুয়ে এপাশওপাশ করতে করতে রাত কেটে যায়। যে অভিজ্ঞতা নেয়ার পর মনের ভেতরে তৈরি হয় অদৃশ্য এক অনুরোননা, অনুশোচনা। যে অভিজ্ঞতা নেয়ার পর হায়দারদের জন্যে তৈরি হয় মমতা আর একরাশ ভালবাসা। এই সমাজের আনাচেকানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে লক্ষ এপিলেপটিকদের প্রতিচ্ছবি এপিলেপটিক হায়দার...

বিঃদ্রঃ এটা ছিল আমার জীবনের সর্বপ্রথম কোন বইয়ের রিভিউ। জানিনা এটা রিভিউ হল নাকি স্পয়লার। তবে লেখক এবং পাঠকদের কাছে আগে থেকেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। ভুলত্রুটি মার্জনীয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৩:৪০
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

never give up!!! চেষ্টাটা যেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত হয়....

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১০



অনেকেই নিজের ভাগ্যকে দোষ দেন। বলেন- ''ভাই, ভাগ্য বিড়ম্বনায় আজ আমার এই অবস্থা।'' অনেককে এও বলতে শুনেছি- ''আজ ভাগ্য সহায় থাকলে অনেক দূর এগিয়ে যেতাম।''
.
এইসব মানুষদের আমি বলি- ''শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নেভার গিভ আপ!!!: দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের পিছনে বিনিয়োগ করুন, প্রধানমন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার খুব খুশির দিন হওয়ার কথা ছিলো। ব্রিটিশ একটি ভার্সিটিতে ৩য় বারের মতো মেন্টর হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছি। এই আনন্দে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পার্টি দেওয়ার কথা ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×