somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সালাহ উদ্দিন শুভ
বইসমূহঃ আকুতি(২০১৪), এবং গল্প (২০১৮) ফেসবুকঃ https://www.facebook.com/EndShuvo ওয়েবসাইটঃ https://endshuvo.blogspot.com

কেন আমি পাকিস্তানকে ঘৃণা করি

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুটো দেশ, যুদ্ধ চলছে। এক এক দেশের যুদ্ধনীতি এক এক ধরনের হয়। যুদ্ধের অঘোষিত একটা নীতি হল সিভিলিয়ানদের হত্যা এবং ধর্ষন করা। এযাবৎকাল পর্যন্ত যতটা সামরিক যুদ্ধ হয়েছে তার প্রত্যেকটা যুদ্ধই শুধু সামরিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সোলজারদের খায়েশ মেটানোর জন্যে তরতাজা ব্যাবস্থা থাকা চাই।
পাকিরা কতজন বাঙ্গালীকে হত্যা করেছে জানিনা, সাথে হাজার হাজার মা-বোনদের ইজ্জত। সত্যিকারের জাস্টিসের কথা বললে সেই জাস্টিস দেয়াটা এখন অসম্ভব। আত্মসমার্পন, কাহিনীর ওখানেই খতম। তখন আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম এটাই অনেক, আনন্দক্ষনে আর বিচার-সালিশের ঝামেলা মনে রাখে কে?

পাকিস্তানকে আমি ঘৃণা করি।
কেন? তার শরীর থেকে দুর্গন্ধ আসে?
না।
পাকিস্তানের জনপদে মনুষের মল ভাসে?
না।
পাকিস্তানীর সব মানুষ জাতীয়গতভাবে ডাকাত?
না।
তাহলে কি?

মূলত সমস্যা হল এই প্রশ্নটাতেই। পাকিস্তানের কোন মানুষের সাথে আমাদের কোন আর্গুমেন্ট নেই, তারা আমাদের কিছু করেনি, করেছিল তাদের প্রতনিধিরা। তারপরেও আমরা তাদের ঘৃণা করি। কারন পাকিস্তানের মানুষগুলোই তাদের প্রতিনিধিত্বের আসনে বসিয়েছিল। আমরা হারিয়েছি আমাদের সবচেয়ে বড় দানটাকে। না, হাজার-লক্ষ সিভিলিয়ানরা নয়। বরং আমরা হারিয়েছিলাম আমাদের দেশের মাথাগুলোকে। ওরা আমাদের কখনোই দেশ হিসেবে দেখতে চায়নি। তাই হার নিশ্চিত জেনেও আমাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল। তার বিচার বাংলার ইতিহাসে কোনদিনও হয়নি, হবেওনা।

একটা দেশকে পরিচালনার জন্যে যে মাথাগুলোর প্রয়োজন ছিল সেগুলোকে তারা মাটির তলায় মিশিয়ে দিয়েছে আত্মসমার্পনের দুদিন আগেই। যার ফলাফল আমরা আজও মাথা উচু করে দাড়াতে পারছিনা। সেই মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালীন দুর্ভিক্ষ থেকে শুরু করে আজকের বাংলার এই দুধর্ষ চিত্র, সবকিছু হয়েছে শুধু ওই মাথাগুলোর অনুপস্থিতির জন্যে।

আমরা আজো রাস্তার পাশে একটু জায়গা পেলে বাড়ি বানিয়ে ফেলি কোন পরিকল্পনা ছাড়াই। রাস্তায় ময়লা ফেলি এই ভেবে যে আমার নিজের ঘর, নিজের শরীর ঠিক থাকুক। রাস্তাটা আমার না, ওটা অপরিষ্কার থাক। আরো হাজারো অমানুষিক কাজের কথা মুখে তুলতে ইচ্ছে করছেনা এখন। ঘুস, চুরি এখন সহজলভ্য ঘটনা হয়ে গেছে। আসলেই পাকিরা সফল। ওরা আসলেই পেয়েছে যা ওরা চেয়েছিল। আজকে যখন দেখি অযোগ্যরা চালাচ্ছেন দেশ, বানাচ্ছেন রাস্তা ঘাট, করছেন অর্থনৈতিক অবস্থা সমৃদ্ধ। তখন অজানা এক কষ্টে মনটা নাড়া দিয়ে ওঠে। আমরা এখনো তাদের অনুপস্থিতিকে ভীষণভাবে মিস করি।

আজ তাদের মত হাজারো বুদ্ধিজীবী তৈরি হয়েছে এ গৌড়ের বুকে। তবে সেই বুদ্ধিজীবীদের কথায় দেশ চলেনা। দেশ চলে পাড়ার গুন্ডা-মাস্তান, মাছের বাজারের আড়ৎদারদের হাতে। তাদের হাতে বেশ ভালভাবেই চলছে দেশ। আমরা আমাদের প্রতিদিনের রুটিনের মত এটাকেও গ্রহণ করে নিয়েছি। তবে আসলেই অনেক অনেক সমৃদ্ধ হতে পারত আমাদের দেশটা। শুধু আইসিটি ডিভিশন কিংবা গার্মেন্টস শিল্পের দিকে তাকিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ ভাবতে ভাবতে এখন আমি ক্লান্ত। আইসিটি আর গার্মেন্টস পুরো বাংলার চিত্র না, পুরো বাংলা এটাকে ডিফাইন করেনা।

আমি পাকিস্তানকে ঘৃণা করি। আমার দেশটাকে পঙ্গু করে রেখে যাওয়ার জন্যে। আমার দেশটাকে ময়লা আবর্জনার শহরে পরিণত করার কারনে। আমার দেশটাকে তৃতীয় শ্রেণীর একটা দেশে পরিণত করার জন্যে সর্বপ্রথম তুমিই দায়ী পাকিস্তান।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:০১
৭টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৩৬



ফেসবুক মেমোরিঃ
৩২ জুলাই এই পোস্ট লিখেছিলাম.....

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

ভালো থাকার চেষ্টা সবসময় করি, বেঁচে থাকার উপাদান খুঁজে নিতে চেষ্টা করি- পুঞ্জিভূত ক্ষোভ আর কিছু করতে না পারার আফসোস... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা সীমানা পেরিয়ে - বালির দাগে রাজনীতি

লিখেছেন রাজসোহান, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:০২



১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর রাতে পৃথিবীর ইতিহাসে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। ভোলা সাইক্লোন। দশ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস উঠে আসে ব-দ্বীপের নিচু চরে। মৃতের সংখ্যা তিন থেকে পাঁচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কথার বুলেট ছুড়ি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



ভাবতে তোমার দোষটা কোথায়?
ভেবে দেখো পাপ করোছো নাকি
সংসারে কেনো জাহান্নামে পুড়ো-
ভাবতে তোমার দোষটা কোথায়?

দোষটা তোমার নিজের ভুলগাড়ি
কেমনে চালাও ব্রেক ফেল হয় আড়ি
অহমিকার ভুলটা তোমার নয় কি
দোষটা তোমার নিজের ভুলগাড়ি।

এক্সিডেন্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরি - ১৯৫

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১২



আজ সকালে হোটেলে নাস্তা করেছি।
ইচ্ছা ছিলো ঘুম থেকে উঠবো ১২ টায়। কিন্তু এক ছাগলে অকারণে ফোন করে ঘুমটা নষ্ট করে দিয়েছে। রাতে যে মোবাইলের সাউন্ড বন্ধ করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ ভ্রমনঃ মেহেন্দীগঞ্জ উলানিয়া_জমিদার বাড়ি

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, তবে কোনো এক বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় চলে যান সদরঘাটে। সেখান থেকে উলানিয়াগামী কোনো একটি লঞ্চে উঠে পড়ুন। লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে এক পাশের একটি কেবিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×