somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুপারসনিক স্পিডে তারাবীহ নামাজ পড়ানো হাফেজদের উদ্দেশে খোলা কথা

১০ ই মে, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রথম তারাবীহ আদায় করতে গিয়ে একপ্রকার বিব্রত অবস্থায় পরে গেলাম। হাফেজ সাহেব মাত্র ২৬ মিনিটে ১০ রাকাত নামাজ সম্পন্ন করেছেন। এটা আমার কাছে সুপারসনিক স্পিডই মনে হয়েছে। আমি জানি হাফেজদের নিয়ে কথা বলা আমার কাছে ধৃষ্টতা দেখানোর মতই, কিন্তু তারপরেও না বলে পারছিনা। কাউকে না কাউকে মুখ খুলতেই হচ্ছে।

একসময় প্রচুর মানুষ তারাবীহ নামাজ পড়ত। এখনো পড়ছে তবে জনসংখ্যার হিসেব অনুযায়ী গড় হিসেব করলে অনেক মুসলমানই এই নামাজকে এড়িয়ে যাচ্ছেন। কারন অধিকাংশ তরুনরাই এখন এসব ধর্ম কর্মের ব্যাপারে ততটা ভাবেন না বা সিরিয়াস না। এটা একান্ত তাদের ব্যাক্তিগত ব্যাপার। আমি নিজেও ঠিকমত নামাজ পড়িনা, আমার পক্ষেও কথাগুলো বলা একপ্রকার হাস্যরসের খোরাক যোগাবার মতই।

এখন এই তারাবীহ নামাজ আদায় করা জনসংখ্যার জন্যে বেশ কিছু হাফেজ (সবাই নয়) অতি দ্রুতগতিতে নামাজ সম্পন্ন করেন যা দৃষ্টিকটু লাগে। এলাকার বয়স্ক মানুষরা আবার এই দ্রুত গতিতে সমর্থন করেন সময় বেচে যায় বলে। আমার কথা হচ্ছে আপনারা কুরআন থেকে তিলওয়াত করছেন যার একটা শব্দও স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছেনা। শুধু শোনা যাচ্ছে কিছু একটা আওড়াচ্ছেন সুপারসনিক স্পিডে। সুরা মুজাম্মিলের ৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহর নির্দেশ হচ্ছে- ‘ধীরস্থিরভাবে স্পষ্টরূপে কোরআন তেলাওয়াত কর।’ এখন কুরআন এমনভাবে তেলওয়াত করা হয় যে সামান্যতম স্পষ্টতা নেই তাতে। তাহলে এই রহমত, মাগফিরাত, নাজাতের মাসে কি কাজে লাগাতে পারলাম আমরা!

আসলে সমস্যাটা হাফেজদের নয়, সমস্যাটা আমাদের নিজেদেরই। আমরা যে মসজিদে নামাজ আদায় করি তার সাথে পাশ্ববর্তী মসজিদের সময়ের তুলনা করি। কে বেশি ফার্স্ট পড়াতে পারে এজন্যে আমরা হাফেজদের অনুরোধ করি যেন তারা দ্রুত নামাজ সম্পন্ন করতে পারে। আর এই চক্করে গিয়ে আমাদের সম্মুখীন হতে হয় সুপারসনিক স্পিডের।

বড় আফসোসের বিষয় যে আমরা ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানরা ইসলামকে নিজেদের ইচ্ছেমত বানিয়ে নিয়েছি। নিজেদের ইচ্ছেমতো নিয়ম পালন করছি, ইচ্ছেমতো নিয়ম পালন করছিনা আবার ইচ্ছেমতো নিয়ম বানাচ্ছিও বটে। দেখা যাচ্ছে আমরা শেকড় থেকে বহুদুরে পরে আছি।

আগামীর সময়টা মুসলমান হিসেবে থাকাটা একটা পরীক্ষা বটে। আমি সকল মুসল্লী এবং হাফেজদের অনুরোধ করছি যেন এই একটি মাস সহীহ এবং শুদ্ধভাবে মনমুগ্ধকর তেলওয়াতের মাধ্যমে রোজাদারদের আত্মার খোরাক জোগাবেন। দয়া করে দ্রুতগতিতে নামাজ পড়াবেন না বা পড়াতে অনুরোধ করবেন না

বিঃদ্রঃ যারা মনে করছেন আমি ফেতনা ছড়াচ্ছি তাদের জন্যে এই লেখাটি নয়, কারো ঈমানে আঘাত হানলে ক্ষমাপ্রার্থী। আমার কাছে মনে হয়েছে আলোচনার মাধ্যমে এই অবস্থার সমাধান করা উচিৎ, এর বাইরে আমার কোন অভিপ্রায় নেই।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০১৯ বিকাল ৫:২৫
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আম্রকাননের আগুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২১


আম্রকাননের আগুন

এপ্রিলের এক দুপুর।
বাতাসে বারুদের গন্ধ, আকাশে অনিশ্চয়তার মেঘ।
মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আমগাছের ছায়ায় এসে দাঁড়ালেন কয়েকজন মানুষ।
দূরে চুয়াডাঙ্গা জ্বলছে, তবু এখানে শপথ।
একটি আমবাগান সেদিন হয়ে উঠল একটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৮ ভগ্ন শাখা- ভগ্ন জীবন

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

জীবনের ভগ্নদশা অনেকটা এমন এক বৃক্ষের মতো, যার ডালপালা একে একে বিলুপ্ত হয়েছে।

একসময় যে শাখাগুলোতে স্বপ্ন, সম্পর্ক ও সম্ভাবনার পাতা দুলত, আজ সেখানে শূন্যতা ও নীরবতা। তবু কাণ্ডটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×