somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিন্তু... সেই অন্ধকারে কাউকে খুঁজে পেলাম না... !

২৯ শে আগস্ট, ২০১৪ দুপুর ২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা প্রশ্নের উত্তর চেয়েছিলাম- হ্যাঁ / না! তার উত্তর ছিলো - হ্যাঁ ! আমি চমকে গিয়ে থমকে গিয়েছিলাম... কিচ্ছু বলতে পারিনি...ভেবেছিলাম ও ফিরে আসবে... আমার নীরবতা ও বুঝতে পারবে কিন্তু না দূর থেকে হলেও আমি বুঝতে পারছিলাম ও ঠোঁটে সিগারেট নিয়ে নির্বাক ভাবে কথা বলছে... ! আহ্‌! যেন এতদিন আমি ওর কেউ ছিলাম না... ওর পৃথিবী জুড়ে আমি এই মেয়েটা বলে মেয়েটার কোন অস্তিত্বই - কিছুই ছিলো না...। বুক ফেটে আর্তনাদ আসছিলো আমার, নিজেকে সামলে নিয়ে বলেছিলাম- তুই আমাকে ব্লক করবি না কি আমি? ও সিগারেট ঠোঁটে নিয়ে টানছে - কোন রিপ্লাই নেই! এরপর আর কিছু বলার থাকে না... ব্লক করলাম...জানতাম এরকম একটা ঝড় আসবে তাই নিজেকে কিছুটা প্রস্তুত রেখেছিলাম... কিন্তু সত্যি যে সে এমনটা করবে তা ভাবতে পারিনি! তীব্র অভিমানে বুকের ভেতরটা মোচর দিয়ে উঠলো... ওকে কিছু বুঝতে দিলাম না... শুধু বললাম- ওকে বাই! বুঝতে পারছিলাম- ও ঠোঁটে ঠোঁট চেপে কথা বলছে... ! আরো কিছু বলতে চাইছে... আবার থমকে যাচ্ছে... আমি আর কিছু শুনলাম না...! একটা সুতীক্ষ্ণ অপমানবোধ... অসহায়ত্ব ... কেমন যেন একটা অবস্থার সৃষ্টি হয়ে মরে যেতে ইচ্ছে হল... ! মনে মনে চাইলাম... আমার যেন ক্যানসার হয়... আর ও আমার শেষ সময়ে খবর পেয়ে পুরাই বিধ্বস্ত অবস্থায় যেন ছুটে আসে... আমি মরে যাবো ওর চোখের সামনে আর ও তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবে... কিন্তু পরক্ষনেই মনে হল- আমাকে মৃত্যুশয্যায় দেখলে কি অই হারামীটার কোন কষ্ট হবে? ও তো কাঁদবে না... দাঁত কেলাইতে কেলাইতে বলবে- মরিস নাই এখনো? চল্লিশা খাবো তো?!? এইতো মাত্র কদিন আগেই সম্পর্কের শুরুটা হল- এরপর থেকেই ওর উদাসীনতা ...অবহেলা... যাচ্ছেতাই ব্যবহার চোখে পড়তে লাগলো ... আমি মানিয়ে নিয়ে আমার মত করেই ওকে ভালবাসতে লাগলাম ... কতবার ও বলেছে-- তোকে ভালবাসার মরন দেবো হারামী! আর সত্যি সত্যি ও তাই দিয়েছে...। বোকা আর অবোধের মত ওকে ভালবেসে গেছি... ওর প্রতিটি পদক্ষেপে আমার বিচরণ ছিল... ও কি করছে...কি খাচ্ছে... কোথায় যাচ্ছে... কি সমস্যা এইসব নিয়েই সারাদিন আমি ওর সাথে হুড়োহুড়ি করতাম... খোঁজ নিতে নিতে ওকে ব্যাকুল করে দিতাম।। আর হাঁদারামটা আমার বেলায় সব ভুলে যেত... সকালে যা বলে বিকেলে তা ভুলে যায়... ! ওর অপেক্ষায় রাত/দিন বসে থাকতাম... কখন ও ফোন করবে... কখন ওর ঘুম ভাঙ্গবে ... কখন চ্যাটে সবুজ বাতিতা জ্বলজ্বল করবে ... কখন আমরা খুনসুটিতে মেতে উঠবো... আর ও কি করতো? ও প্রায়-ই লাপাত্তা থাকতো ... ইচ্ছে করে ফোন করতো না/ মেসেজের উত্তর দিতো না... চ্যাটে রিপ্লাই দিতো না... আর মেইলের উত্তর তো নাইইইই! অভিমানে চোখের কোনে জমে ঊঠা পানি ঝরতে ঝরতে চোখের নীচে যে কালি পড়েছে... আর ঘরের দেয়াল ঘড়িটার টিকটিক... আশেপাশের সবকিছু চ্যাটে থাকা মেসেজ, মোবাইলের ইনবক্স এ থাকা মেসেজ/ মেইল... ওরা সবাই জানে হারামীটা আমার কতটা জুড়ে আছে... মাঝে মাঝে এমন সব কথা বলতো--- আমার ভেতরটা ঝাজড়া হয়ে যেত... আবার ও তো এমন-ই এটা মনে করেই সব ভুলে যেতাম... ! কিন্তু এবার ও আর ফিরলো না... তবু অপেক্ষায় থাকলাম...ক্লান্ত...হতাম না...শুধু দিন দিন অসুখটা বেড়ে চলছিলো--- ! ও নেই ও নেই এই অসুখটা! ইচ্ছে করেই মরতে চাইলাম... মরি না-- কি হবে তাতে? ওর এত শখ চল্লিশা খাওয়ার এসে না হয় আমার চল্লিশা খাবে...কিন্তু তার আগেই আমি কি আধো ঘুমে তলিয়ে গিয়েছিলাম - ফোনটা বেজে ঊঠলো- রিসিভ করতেই কেউ একজন বলল- - এই দেখ এসে গেছি... কাল-ই কবুল বলার জন্য প্রস্তুত থাকিস... ? কন্ঠটা শুনে বুকের ভেতর দ্রিম দ্রিম শব্দ হতে লাগলো ... ! হারামীটা বলে চলেছে- এবার দেখিস তোকে কি করি? সব সুধে-আসলে শোধ নেবো! তোরে পিটাইতে পিটাইতে ভর্তা বানাবো... তোর অভিমান আদুরে আদুরে ভাঙ্গাবো... এরপর তোকে সিগারেট খাওয়াবো ...হাহহহা! আমি ভাবলাম ... কি আবোল- তাবোল ভাবাছি...? হারামীটা অই অই কথা কস না কেন? বলে চিল্লাইতে লাগলো ...।। অই বৃষ্টি হচ্ছে -- আয় সেই রাতের মত বৃষ্টিতে দুজনে ডুব দেই... আয় কাছে আয়... হাত টা ধর, না কি আমি কোলে নিয়ে ছাদে যাবো? ঠিক আছে আইস্ক্রিম ও খাওয়াবো ... কথা বল একবার? অই কুত্তা... কি রে বয়রা হয়ে গেছিস না কি? তোর জন্য আনা চুড়িগুলা কিন্তু এইবার সত্যি সব শাকচুন্নিদের দিয়ে দেবো... তখন ভ্যা ভ্যা করে কাঁদিস হারামী...! কথা বলিস না কেন রে? আমার বুক ফেটে আর্তনাদ বের হচ্ছে... চোখ দিয়ে পানি ছল্কে ছল্কে পড়ছে... ইচ্ছে করছে ফোনের ওপাশে থাকা মানুষটার শার্ট খামচি দিয়ে ধরে ওর বুকে লেপ্টে গিয়ে ভেঙ্গে পড়ি! কিন্তু কিছুই বলতে পারলাম না... শুধু বললাম ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায়-- করুনা... দয়া... না কি তামশা করতে এসেছিস...? তোর করুনা/ দয়া/ তামশার গুষ্টি কিলাই... যা ভাগ এখান থেকে... দূরে গিয়ে তেলাপোকা / টিকটিকি/ ঘাস/ লতাপাতা দিয়ে মুড়ি খা গা... ! ও ভয়ঙ্কর শব্দে হেসে ঊঠলো... আর বলল- হারামী এইবার দেখিস তোকে এইগুলা ক্যামনে খাওয়াই !
তারপর-ই একটু নীরবতা... ও গভীর মমতায় শুধু একটা কথাই বলল ...
কাছে আয়, আর অভিমান করে থাকিস না... এবারের মত মাফ করে দে...
এই দেখ কান ধরছি! সত্যি কইতাছি- কান ধরছি!
চোখ দিয়ে পানি পড়ছে হারামী! তুই একটা আস্ত হারামী!
ছেলে হয়েও আমাকে কাঁদাচ্ছিস ... !
আমি হতবাক হয়ে গেলাম...
ওকে জড়িয়ে ধরতে গেলাম আবার...
কিন্তু... সেই অন্ধকারে কাউকে খুঁজে পেলাম না... !
তবে কি এসব কিছুই .........।।
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এইচ এস সি রেজাল্ট ২০২৬ -ঢাকা বোর্ড

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৯

খুব অদ্ভুত ব্যাপার। আমাদের সময়ে চলে এলো নাকি? সেই চার দশক আগের মতন !
যা তথ্য পেলামঃ

In the 2026 HSC examinations, a total of 297,621 candidates appeared... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেখে শূন্য চাকত

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


কেমন করে সাজাও তুমি?
কলমের সাথে- খাতার প্রেম,
মাটির সাথে মৃত্যুর লাশ,
ঘাসের গায়ে ঘাসফড়িংর কাশ।
শেষ বিকালে ভাবনার সাথে
চিন্তার হয় রে অবকাশ-
সবিই যেনো শূন্যে প্রেমে আশ
হাত গুটানো-জীবনের নাশ;
বাস্তবতার হয় নির্দয় স্বার্থপর
সময়ের শুধুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×