অই পাগলা, আমাদের না ঝুম বৃষ্টিতে ভেজার কথা ছিলো? ভুলে গেছিস?
তুই তো শরতে এসে শীতে দেখা দিয়েছিস...তাহলে ভিজবো কি করে বল?
ওকে আমরা না হয়... শীতের শিশির ভেজা ভোরেই ভিজবো... পাশাপাশি ভেজা ঘাসে...হেঁটে বেড়াবো...
ছড়িয়ে- ছিটিয়ে থাকা শিউলি ফুলগুলো কুড়াবো!
তুই কি জানিস- সেই ছোটবেলায় প্রতি শীতের ভোরে ঘুম থেকে উঠে নামায পড়েই দৌড় দিতাম শেফালী ফুল কুঁড়াতে ...
কি যে ভাল লাগা ছিলো ! শোন, ফুলগুলি কুঁড়িয়ে আমি মালা গাঁথবো আর তুই পড়িয়ে দিস তা আমার খোঁপায় ...
একটা মালা হাতে পড়িয়ে দিস.........!
দেখ, দেখ, তোর পয়সা বাঁচিয়ে দিলাম রে পাগল! চুড়ি কেনার পয়সা !
কথা ছিলো- আমাকে শাড়ী পড়তে হবে... হাত ভর্তি চুড়ি থাকবে!
চুড়ি কেনার টাকাটাও না কি আমাকে দিতে হবে! পরে সব শোধ দিয়ে দিবি!
এইতো বলেছিলি তাই না? আমি সেই কথাটা তোকে মনে করিয়ে দিলাম এভাবে-
>ভুলে গেছিস আমাকে চুড়ি কিনে দেয়ার কথা? আর আমার জন্মদিনের পার্টি ?
শোন, চুড়ির দাম মাত্র ৪০টাকা, কিনে পাঠিয়ে দে কুরিয়ারে!
> আমি বড় অভাবে আছি! টাকা ধার দে, কিইন্না পাঠামু!
>চুড়ির দাম মাত্র ৪০টাকা! ওকে বল তোকে কিভাবে টাকা পাঠাবো?
>>কথাগুলি এভাবে মেসেজে আর চ্যাটে কথা হয়েই রইলো...
কতবার প্রসঙ্গটা আসলো ... কতবার আমি অপেক্ষা করলাম...
আর শোকেসে সাজানো চুড়ির দিকে একবার, আর একবার নিজের হাতের দিকে তাকালাম...।
ইচ্ছে গুলি কেবল ইচ্ছে হয়েই থেকে গেলো রে ফকিরটা.......!
চুড়ির কথা বললেই তোর টাকা থাকে না... এই সেই কত অজুহাত !অথচ এদিক- সেদিক কতই না খরচ করছিস...!
এখন বলবি- তোর কাছে তো টাকা ধার চাইলাম, দিলি না, তাহলে দেবো ক্যামনে ?
>>আমি তো তবুও দিতে চেয়েছিলাম... তুই লাপাত্তা হয়ে চুপ্টি করে রইলি কেন রে?
সব-ই বুঝিস, তবুও বুঝলি না আমার এই ছোট্ট আবদারটিকে !
যাহ্! লাগবে না তোর চুড়ি..........!
না হয় নাই বা পড়লাম তোর দেয়া চুড়ি এই হাতে...!
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




