somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই একটা ঈদ তো এমন ও হতে পারতো... (ঈদ চিঠি)

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি জানি চান্দু, আমার চিঠি না পরে তুই ঘুমাবি না...
কিন্তু কেন যেন এবার ইচ্ছে করছে তোকে এই চিঠি পড়তে দিবো না... কেন যে এত রাগ উঠছে, জানি না...!
যদিও আমি জানি আমার থেকে তোর মন খারাপ বেশি... আর তোকে দুঃখী আমি দেখতে পারি না...!
যাক, কি করছিস বল তো? চুপ চাপ বসে আছিস... হু? না কি কিছু ভাবছিস?
অই থাক থাক বাদ দিলাম... দেখ তুই এই চিঠি, জানি উত্তর পাবো না,
আর উত্তর আসলেও আসবে দুই লাইনের- “ আমি যদি আজ থাকতাম অইখানে তাহলে তোকে নিয়ে আজ-ই...”
হাহ্‌ আমি বুঝি এসব মন ভোলানো কথা...! তুই তো আছিস -ই আজ এখানে...
বলযে কথাটা বলেছিস তা করে দেখানোর সাহস তোর আছে? তোর সময় কই আমাকে ভালোবাসার...?
তুই নিজেকেই না কি এখন বেশি ভালোবাসিস...! ধ্যাত যত ভাবছি কিছু বলবো না তত কি সব লিখছি...!
বাদ দিলাম... এবার আমাদের একটা ঈদ... অনেক বেশি আনন্দের আবার অনেক বেশিদুঃখের ...
হয়ত তোর কাছে না... কিন্তু আমার কাছে অনেক কষ্টের ... অইঅই থাক এসব...
শোন, অই দেখ তোর বিছানার পাশে সাদা পাঞ্জাবিটা/ পাজামা সহ,সাথে আছে নীল ওড়নাটা,
এবার নীল দিলাম, কেন দিলাম জানি না, আর টিশার্ট/ প্যান্ট,তোর পছন্দের পারফিউম...
ওয়ালেট/ ঘড়ি সব রেখে দিয়েছি! সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফ্রেশ হয়ে পাজামা/ পাঞ্জাবি পড়ে নামায পড়তে যাবি কেমন?
আজ তোর মন খারাপ থাকবে না, আজ তুই সবার সাথে আছিস... তোর প্রিয়জনদের সাথে আছিস, আমি নেই তো কি হয়েছে... !
শোন, নামায পড়ে তাড়াতাড়ি বাসায় আসিস, আমি অপেক্ষায় থাকবো, তোকে সালাম করবো, সালামী নেবো...হু!
জানি তো কিপ্টার কিপটা, সালামী দেবার বেলায় তুই ২ টাকাই দিবি,
মনে রাখিস আমিও তোকে সালাম করতে গিয়ে খামচামী করতে ছাড়বো না হু...!
এমন জোড়ে চিমটি দেবো পায়ে যে তুই চিল্লিয়ে পাড়া মাত করবি...
এরপর কোলাকুলি করবো, তোর বুকের সাথে লেপ্টে গিয়ে অনুভব করবো- “তুই আমার পাগলা” !
আমি জানি তুই তখন ছাড়তে চাইবি না, প্রতিশোধের নেশা থাকবে তোর দু’চোখে,
হাহহহা কিন্তু আমি তোকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেবোবিছানায়... এরপর দৌড়ে পালাবো রান্নাঘরে...!
তোর জন্য রান্না করেছি কত কিছু, সবটেবিলে এনে নিজ হাতে খাইয়ে দেবো...
আমি জানি টপ টপ করে তোর চোখের জল পড়ছে, মনে মনে বলছিস-“হারামীটা এত ভালোবাসিস কেন আমাকে”?
... অঅই চোখের পানি বন্ধ কর, নে এবার খা, খেয়ে দেখ তোর চাদনী কেমন রান্না করেছে...
অই শোন আঙ্গুলে কামড় দিলে কিন্তু ঈদের দিন ও তোকে জুতা দিয়ে পিটাইতে ছাড়বোনা হু... !
অই অই অনেক খাইছিস... এবার আমার গিফট দে বদের ডিব্বা...! আমার চুড়ি/ পায়েল কই রে...?
এগুলো তো কাল রাতেই দেয়ার কথা ছিলো... দিস নাই...
খুব ঢং করে বলেছিলি নিজ হাতে পড়িয়ে দিবি... দেখেছিস আমার হাত পা একদম খালি...!
হইছে হইছে ভুলে গেলে ভুলে যা...ঈদের দিন বলে তোকে ছাইড়া দিলাম হু...
এখন মুখটা হুতুম পেঁচার মত করে না থেকে চলঘুরতে যাবো...
শোন, তুই মেহমান তাই তো তোকে আমাকেই ঘুরাতে হবে, আমি চকচকে টাকা পার্সে রেখেছি... তুই ছিনতাই করে করে সব বিল দিস কেমন...! রিকশা থেকে নেমে রিকশাওয়ালা মামাকে বেশি টাকা দিস বকশিস হিসেবে... অই অই মেলায় যাবো কিন্তু আর আমি চরকিতে উঠবো... জানি তুই চিল্লাবি... আমি শুনবো না তোকে ধরে জোড় করে উঠাবো... এরপর চরকি যখন ঘুরবে আমি আরো জোড়ে হ্যাইয়ো বলে চিল্লাবো...হিহিহি জানি তুই অদ্ভুদ মুগ্ধতায় অবাক হবি... চরকি থেকে নেমেই আইস্ক্রিম খাবো... আইস্ক্রিম সাথে নিয়ে রিকশায় উঠবো... একটু খেয়েই চুপিসারে এক আঙ্গুলে আইস্ক্রিম নিয়ে তোর নাকে ঘষে দিবো... তুই রাস্তায় চিল্লাতে পারবি না... সেই সুযোগটাই নেবো যেভাবে তুই নিস... হিহিহি! কি খাবি রে...? উহু আজ বাইরের কিছু খাবো না... আজ তো বাড়ীতেই আমি রেঁধেছি তোর জন্য... তুই সেগুলো খাবি... আমি পাশে বসে অবাক হয়ে তোর খাওয়া দেখবো... মাঝে মাঝে তুই আমাকে খাইয়ে দিবি... চোখের পানি চোখেআটকে রেখে আমি সেই খাবার মুখে নেবো... !
শোন বাইরে থেকে ফেরার পর ওড়নাটা আমাকে দিয়ে দিস রে... জানিস তোওটাতে
“ তুইতুই”গন্ধ আছে ... আর একবার আমাকে বুকে জড়িয়ে নিস... আমি অনুভব করবো- তুই আমার...!
জানিস জানিস... ভিষন ইচ্ছে করছে তোকে একটু ছুঁয়ে দিতে... কতটা অভাগী রে... এত কাছে তুই তবু একটিবার তোকে ছুঁয়ে দেয়া হলো না... এই একটা ঈদ তো এমনও হতে পারতো... সারপ্রাইজ হিসেবে চাঁদ রাতের ভোরে তোর ফোন- “ অই অই হারমী কুত্তি আমি তোর শহরে... কোথায় লুকিয়ে আছিস, বাড়ীর ঠিকানা বল, আমি আসছি...”! ... দেখ তো আমি কতটা পাগল... কি সব ভাবছি... আরে বুদ্ধু তুই যাদের সাথে আছিস তাদের অধিকার আগে... তারপর আমি... তাদের সাথে ঈদ করা বাদ দিয়ে আমি কখনোই বলতে পারি না আমার সাথে ঈদ কর... !
আরে আমার জন্য তো এই কল্পনা কল্পনা খেলাটাই অনেক...তুই শুধু সাথে থাক... খেলাটা খেল তাহলেই হবে... !
ভালো থাকিস আমার বিলুইটা...
হাম্বা মোবারক...!
বেশি বেশি হাম্বার গোশত খাস না যেন আবার,
তখন ডায়রিয়া হলে আমাকেই সেবা করতে হবে তোর... আমি পারুম না হু...হিহিহি!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:৩৭
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ভালোবাসার কাব্য=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:১১


মন পিঞ্জরে করবো বন্দি, পালাবি আর পাখি?
জানিস কী তুই তোকে নিত্য, নজরবন্দি রাখি!

স্বাধীন ডানায় উড়িস ঘুরিস, আমায় দূরে ফেলে,
আমারও তো ইচ্ছে লাগে, উড়ি ডানা মেলে!

মনের ভিতর ঘূর্ণি তুফান, বেসুরো সুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৭

" অদেখা দূরত্ব "

তুমি ছিলে আমার সেই নাম যা আমি উচ্চারণ করতে পারিনা,
তবে বুকের ভিতর হাজার বার জপ করি।
তুমি আমার সেই আলো যা আমি চোখে দেখিনা,
লুকিয়ে রাখি হৃদয়ের অভ্যন্তরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×