somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বর্ষাকাল না ছেলেটা একটা শীতের বৃষ্টির দিনের অপেক্ষায় ছিলো... !!

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছেলেটা তার সিল্কি চুলের খুব বড়াই করে...
মেয়েটা সেই চুল এলোমেলো করে দিয়ে বলে- কচুর চুল...
ছেলেটার মাথায় পাকা চুল নাই তবু মেয়েটা পটপট করে
কাঁচা চুল তুলে বলে এই দেখ তুই বুড়ো হয়ে গেছিস...
যা বুড়া ভাগ তোর সাথে প্রেম পিরিতি করবো না...হু...
বলেই হাসতে হাসতে ঢলে পড়ে...
মেয়েটার চোখে কাজলের একটু রেখা দেখলেই ছেলেটা তা
ছুঁয়ে দেখার নাম করে ধ্যাব্রে দেয় আর চিল্লিয়ে বলে- পেত্নী পেত্নী...
এরপর বিটকেলে হাসি দিয়ে মেয়েটাকে রাগিয়ে দেয়...
ওদের ভালোবাসা ঝড়ে এলোমেলো হয়... বৃষ্টিতে ভিজে আবার এক হয়...
বর্ষাকাল না ছেলেটা একটা শীতের বৃষ্টির দিনের অপেক্ষায় ছিলো...
শীতের বৃষ্টিতে একটা অদ্ভুদ মাদকতা আছে...
শীতে ঠক ঠক করে কেঁপে বৃষ্টিতে ভেজা আর
ঠক ঠক করে কেঁপে আইসক্রিম খাওয়া ...
এই অদ্ভুদ পাগলামি ছেলেটার মেয়েটার দু’জনের-ই আছে...!
আজ মনে হয় সেদিন... আকাশে মেঘ জমেছে... গুর গুর শব্দ হচ্ছে...
অদ্ভুদ একটা শিহরণ শীতল বাতাসের... কেমন যেন কাঁপুনি লাগছে...
ছেলেটা মেয়েটাকে টেক্সট করে ফোনে... এফবিতে আয়...
মেয়েটা এফবিতে এসেই নক করে... ছেলেটা একটা চাবির ছবি পাঠায় ইনবক্সে...
মেয়েটা অবাক হয়...? রিপ্লাই দেয়- কিসের চাবি রে...?
ছেলেটা এবার তার ওয়ারড্রবের প্রথম ড্রুয়ায়ের ছবি দেয়...
মেয়েটা লিখে- কি হচ্ছে এসব...?
ছেলেটা এবার বলে- চাবিটা নিয়ে ড্রুয়ার টা খুল গাধি...
মেয়েটা লিখে ওকে এই দেখ খুলছি... মানে মেয়েটা এই কথাটা লিখে পাঠায়...
এবার ছেলেটা ড্রুয়ার খুলে থাকার একটা ছবি দেয়---
মেয়েটা দেখে সেখানে একটা প্যাকেট... রিপ্লাইয়ে মেয়েটা লিখে কি আছে রে এতে...?
ছেলেটে লিখে- খুলে দেখ একবার... ! মেয়েটা লিখে ওকে খুলছি...
এরপর ছেলেটা প্যাকেট খোলা একটা ছবি পাঠায় সেই প্যাকেটে দেখা যাচ্ছে
নীল/লালের মিশ্রনে একটা দারুন শাড়ী... !
মেয়েটা মনে হয় চেয়ার থেকে পড়ে যাচ্ছিলো...
চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ছিলো...
ছেলেটার মেসেজ আসে আবার... কি রে চেয়ার থেকে পড়ে গেলি না কি... ?
অই অই কাঁদছিস তুই... ?
মেয়েটা লিখে- এসব কি করেছিস কিপ্টাটা...?
ছেলেটা লিখে অই অই একদম কথা না... তাড়াতাড়ি শাড়ী পড়ে নে...
বৃষ্টি পড়বে এখুনি... আমি আইস্ক্রিম আনছি ... তুই শাড়ী পড়...
মেয়েটা হতবিহবলতা কাটিয়ে শুধু লিখে ওকে---
এরপর চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে নিজের ওয়ারড্রবের
একটা ড্রয়ার খুলে নীল/লাল ওড়না দু’টো বের করে এরপর ঠিক
শাড়ীর মত করে পড়ে... পড়ে আগে আয়নায় দাঁড়িয়ে একটা সেলফি তুলে...
এরপর ওয়াশ রুমে গিয়ে ঝর্নার নীচে দাঁড়ায় ... চুল ছেড়ে দেয়...
একটু পানি শরীরে পড়তেই ঝর্না বন্ধ করে ভেজা চুল সহ
আর একটা ছবি তুলে কম এ বসে... ছেলেটাকে ছবি পাঠায়...
লিখে এই দেখ তোর দেয়া নীল/লাল শাড়ী পড়েছি... বৃষ্টিতে ভিজে এসেছি...
এইবার তোর পালা... ছেলেটা সাথে সাথেই একটা ছবি পাঠায়...
দেখা যায় সেই ছবিতে ছেলেটা হাঁটু গেড়ে বসে আছে হাতে একটা আইস্ক্রিম নিয়ে...
মেয়েটা লিখে- কি রে হাব্লা- আইস্ক্রিম দিয়ে বুঝি আবার আজ প্রপোজ করবি হু...?
ছেলেটা লিখে একটু ওয়েট কর পাগলী...
এরপর ৫/৭মিনিটের মধ্যেই ছেলেটা একটা ছবি পাঠায়-
দেখা যায় নীল/লাল ওড়না শাড়ীতে একটা অদ্ভুদ সুন্দর মেয়ের সামনে
একটা ছেলে হাঁটু গেড়ে বসে আইস্ক্রিম ধরে আছে তার সামনে...
মেয়েটার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে...
বুঝতে পারছে ছেলেটার গলায় কিছু একটা দলা পাকাচ্ছে...
দু’প্রান্তে থাকা দু’জন মানুষ তখন সুখ সুখ কষ্টে ভিজছে...
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৪৪
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ফোনে কয়টি গান সেভ করা আছে? #:-S

লিখেছেন অপু তানভীর, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



কদিন আগে একটা ফোন নিতে হয়েছে। আগের ফোনটা তিন বছরের মত সার্ভিস দিয়েছে। তবে টাচস্ক্রিনে সমস্যা দেখার কারণে সেটা ঠিক মত ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। নতুন ফোন বলে সেটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×