somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপনার ফোনে কয়টি গান সেভ করা আছে? #:-S

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কদিন আগে একটা ফোন নিতে হয়েছে। আগের ফোনটা তিন বছরের মত সার্ভিস দিয়েছে। তবে টাচস্ক্রিনে সমস্যা দেখার কারণে সেটা ঠিক মত ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। নতুন ফোন বলে সেটা ব্যব হারও বেশি বেশি হচ্ছে। গান শোনা, ভিডিও এবং গেম সব চলছে একভাবে। গতকাল ছুটির দুপুরের দিকে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর কোনো কাজ করার মতো ছিল না। বিদ্যুৎ গেলে ওয়াইফাই বন্ধ হয়ে যায়, তখন সময় চলে অতি ধীরে। যদিও কিছু ডাটা প্যাক কেনা আছে, তবে বাসায় বসে সেই ডাটা খরচ করে গান শোনার মতো ইচ্ছে জাগে না মনে। কিন্তু আমার তখন হঠাৎই গান শুনতে ইচ্ছে হলো। ফোন নেড়েচেড়ে বিস্ময়ের সাথে আবিষ্কার করলাম যে আমার ফোনে কোনো গান সেভ নেই। আমি চটজলদি আমার আগের ফোনটা সার্চ করে দেখলাম এবং একইভাবে আবিষ্কার করলাম যে সেই ফোনটাতেও কোনো অডিও এমপিথ্রি গান সেভ করা নেই। অর্থাৎ প্রায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে আমি কোনো অডিও গান আমার ফোনে রাখি নি। ব্যাপারটা দুই কারণে আমার মনে বিস্ময় জাগাল। এক, আমি নিয়মিত গান শুনি, কিন্তু আমার ফোনে কোনো গান সেভ নেই। আমি যে নিয়মিত গান শুনছি সেটার সম্পূর্ণটাই অনলাইনে। আর দুই, আমি যে আমার অফলাইনের গান শোনা থেকে পুরোপুরিভাবে অনলাইনভিত্তিক গানের ওপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি, এটা আমি টের পর্যন্ত পাই নি। বিদ্যুৎ আসার পরে পিসির হার্ডডিস্ক সার্চ করে দেখলাম, সেখানে একটা অডিও গান নেই। এমন কি একটা ভিডিও গান পর্যন্ত নেই। কোনো মুভি নেই। কিছু না! কিন্তু আমি নিয়মিত গান শুনি, মিউজিক ভিডিও দেখি, মুভি সিরিজ দেখি। ইভেন এখন যে এটা লিখছি, তখনও একটা গান বাজছে।
একেবারে ছোটবেলা থেকেই আমাদের বাসায় একটা মাঝারি ক্যাসেট প্লেয়ার ছিল। আমার আব্বা একসময়ে গান শোনার ব্যাপারে বেশ সৌখিন মানুষ ছিলেন। এরপর বাসায় একটা বড় মাপের ডেসসেট প্লেয়ার এল। গান শোনার পরিমাণটা আরও বাড়ল। সেই ছোটবেলাতেই আমি দেখতাম আমাদের শোকেজের বড় একটা ড্রয়ারভর্তি ফিতার গানের ক্যাসেট ছিল। একটু বড় হলে গানের ক্যাসেট আমি নিজেই কিনে আনতাম। বিশেষ করে ব্যান্ড সংগীত আমার পছন্দের ছিল।
এরপর সিডি, ভিসিডি এবং ডিভিডির যুগ এল। সেই সময়ে অডিও এবং ভিডিও ডিস্ক কিনে আনতাম আমি নিজেই। নিজের কাছে বিশাল এক গানের কালেকশন ছিল। কোনো গান একবার আমার পছন্দ হলে সেই শিল্পীর অ্যালবাম আমি নিজের কাছে জমা করে রাখতাম। কলেজে ওঠার পরে ছোট এমপিথ্রি প্লেয়ারের চল এল। সেটা কেনা হলো। ছোট একটা ডিভাইসের ভেতরে কতগুলো পছন্দের গান ভরে শোনা যেত।



তারপর মাল্টিমিডিয়া ফোন এল ২০১০ সালের দিকে। তখন সব গান থাকত ফোনের মেমোরি কার্ডের ভেতরে। পিসি কেনার পর পিসির হার্ডডিস্ক ভর্তি হতে লাগল নানান ধরনের অডিও আর ভিডিও গানে, সেই সাথে নানা রকম মুভি-সিরিজ দিয়ে।
তারপর হঠাৎ করেই সবকিছু বদলাতে শুরু করল। হাই-স্পিড ব্রডব্যান্ড এবং কমদামি অ্যান্ড্রয়েড ফোন হাতে আসার পরে সবকিছু নেটে পাওয়া যেতে শুরু করল। তখন মনে হতে লাগল, যে জিনিস এক ক্লিকেই আমি শুনতে পাচ্ছি, নিজের হার্ডডিস্ক কেন আমি ভরে রাখব। আস্তে আস্তে আমার পিসি এবং ফোনের মেমোরি খালি হতে থাকল।
এখন নেটফ্লিক্স আর প্রাইমের কল্যাণে কোনো মুভি আর নামাতে হয় না। কোনো মুভি ডাউনলোড করে রাখতে হয় না আগের মতো। একইভাবে ইউটিউব আর স্পোটিফাইয়ের কল্যাণে একটা গান সেভ করে রাখার দরকার পড়ে না। এক ক্লিকেই সব শোনা যায়। কী দরকার ফোনের মেমোরি ভর্তি করে!
এই ব্যাপারটা তাহলে খেয়াল করে দেখুন। আগের থেকে আমাদের জীবন কতই সহজ হয়ে গেছে, কিন্তু আমাদের কাছ থেকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেছে। আগে একটা মুভির ডিভিডি কিনে নিয়ে আসতাম, তারপর থেকেই সেই মুভি আমি যখন ইচ্ছে তখনই দেখতে পারতাম। এখন ঠিক একইভাবে টাকা খরচ করে আমি নেটফ্লিক্সের সাবস্ক্রিপশন কিনছি। যখন ইচ্ছে তখনই আমি দেখতে পাচ্ছি মুভিটা, কিন্তু তারপরেও যেন নিয়ন্ত্রণ আমার হাতে নেই। সরকার যদি নেট বন্ধ করে দেয়, তবে আমি দেখতে পাব না। একইভাবে যদি সার্ভার সমস্যা করে, তবুও আমি দেখতে পাবো না। যদিও জানি এমনটা হবে না, নেট বন্ধ হবে না বা সার্ভার সমস্যা দেখা দিলেও সেটা ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু তারপরেও নিয়ন্ত্রণ কিন্তু আগের মতো আর নেই। গান শোনার ব্যাপারেও ঠিক তাই।



সামনে যত সময় যাবে, আমরা সম্ভবত একইভাবে এই প্রযুক্তির ওপরে আরও নির্ভরশীল হয়ে পড়ব, আমাদের নিজেদের হাতে থাকা নিয়ন্ত্রণ আরও কমে যাবে। যেমন—এর একটা উদাহরণ দিই। আগে আমি মুভি দেখতাম মূলত আমার যেটা পছন্দ সেই মুভি। বিভিন্ন পোস্ট পড়ে কিংবা সার্চ করে যে মুভিটা ভালো মনে হতো, সেই মুভি দেখতাম; কিন্তু এখন আমার মুভি দেখার ক্ষেত্রে নেটফ্লিক্সের বিশাল প্রভাব রয়েছে। নেটফ্লিক্সে পাওয়া যায় এমন মুভিই আমি এখন বেশি পরিমাণে দেখি। অন্য মুভিও যে দেখি না তা না, তবে নেটফ্লিক্সে যেটা সহজে পাওয়া যায় সেটাই দেখি। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবারে নতুন কিছু না কিছু এসে হাজির হয়, সেটাই দেখি। অন্য কিছু কষ্ট করে আর খুঁজতে ইচ্ছে করে না!

এত প্যাঁচাল কেন পাড়লাম কে জানে! মূলত যে গানটা শুনতে গিয়েও শুনতে পারিনি বিদ্যুৎ না থাকার কারণে, সেই গানটা আপনাদের জন্য নিচে দিলাম। গানটা কদিন থেকে একটানা শুনছি। গানটা আবার এআই দিয়ে বানানো গান। শুনলে মনে হবে না।

এই সেই গান-
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৪৩
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৪৪


৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু ইতিহাসের কাঠগড়া কখনো খালি থাকে না
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নাটকীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তখন

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬

তখন
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তখন আলিফ লায়লা হতো
দেখতাম বিটিভিতে বাংলা মুভি
মিনা কাটুন, হারকিউলিস, রবিন হুড
নাটক, ইত্যাদি, বেশ আনন্দ পেতাম।
খেলাধুলা করতাম বন্ধুদের সাথে
বিবিধ রকম, সবসময় থাকতাম প্রাণবন্ত!
যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম তাদের
একটি সাদা-কালো টিভি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৭



এক বিদেশি জাহাজ মধুমতি নদীতে একটু একটু করে ডুবে যাচ্ছে।
সেই ডুবে যাওয়া জাহাজ দেখার জন্য শাহেদ জামাল ছুটে চলেছেন- মধুমতি নদীতে। জাহাজ এর নাম স্টিব অস্টিন। শাহেদ জাহাজটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওকে নিয়ে চীনের আবেগ, শেখ মুজিবকে নিয়ে আমাদের বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২


ফরাসি ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তাঁকে নিয়ে কোন মিমটি দেখে সবচেয়ে বেশি হাসি পেয়েছিল। ফরাসি অনুষ্ঠান The Bridge এর ব্যাকস্টেজ ভিডিওতে তিনি বলেন, একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্প - চক্ষুহীন লোকটি

লিখেছেন ফাহমিদা বারী, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩




মি পারসনস যখন হোটেল থেকে বের হলেন, ভিক্ষুকটি তখন রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে।

সে ছিল একজন অন্ধ ভিক্ষুক। অন্ধদের চিরাচরিত সাদা ছড়ি ছিল তার হাতে। সেটা দিয়ে সামনের পথটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×