somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

A Journey By Cycle - 2

১০ ই অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি সাইকেল চালানো শিখে ফেলেছি। আবারো গ্রামে গেলাম , সাইকেল চালানোর জন্য হাত পা নিশপিশ করছে।হন্যে হয়ে সাইকেল খুজঁছি। অবশেষে সাইকেল পেলাম আমার চাচারটা।যে সাইকেলটা ছিল EXCLUSIVE সাইকেল (পূর্ববর্তী পোষ্ট দ্রষ্টব্য)। তারপরও আমি এই EXCLUSIVE এর তোয়াক্কা করিনি, সাইকেল EXCLUSIVE নাকি ORDINARY এ নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যাথা ছিল না।কারণ আমার দরকার সাইকেল চালানো।আমাদের গ্রামের সাইকেল গুলো ছিল ইন্ডিয়ান হিরো সাইকেল, এই সাইকেলগুলো অনেক উঁচু হয়।আমি যতই সাইজে বড় হই না কেন ঐ উঁচু সাইকেলে কোনভাবেই উঠতে পারছিলাম না।তখন একটা বুদ্ধি বের করলাম, কোন একটা উঁচু জায়গার পাশে সাইকেলটাকে নিয়ে গিয়ে ঐ উঁচু জায়গা দিয়ে সাইকেলে উঠে পড়লাম।তারপর আমাকে আর পায় কে?? প্যাডেল দিতে দিতে চলে গেলাম রাস্তায়। গ্রামের এই মাথা থেকে ঐ মাথা পর্যন্ত সারাদিন সাইকেল চালাতাম।

এই ভাবে সাইকেল চালাতে চালাতে একদিন হঠাৎ মনে হলো সাইকেল চালিয়ে নানার বাড়ী চলে যাই। আমার দাদার বাড়ী থেকে আমার নানার বাড়ী ১০/১২ কিলো দুরে। মাঝখানে একটা ফসলের মাঠ, একটা গ্রাম আর একটা নদী আছে। আমার মামারা প্রায়ই সাইকেলে করে আমার দাদার বাড়ী আসতো আবার আমার বাবাও সাইকেলে করে নানার বাড়ী যেতো।আর আমিও আম্মার সাথে গরুর গাড়ীতে করে অনেকবার দাদা বাড়ী থেকে নানা বাড়ী আর নানা বাড়ী থেকে দাদা বাড়ী করেছি। তো যে ভাবা সেই কাজ।একদিন বিকালে কাউকে কিছু না বলে সাইকেল চালাতে চালাতে নানাবাড়ীর পথ ধরলাম ।আমার দাদা আর নানাকে ঐ এলাকার লোকজন চিনে তাই নদীতে খেয়া পারাপারেও কোন সমস্যা হলো না,দাদার নাম বলাতে মাঝি আর ভাড়া নিলো না । উল্লেখ্য আমাদের এলাকায় মাঝি, কামার ,নাপিত, মুচি এরা বছরে একবার বাড়ী বাড়ী গিয়ে ধান-চাল সংগ্রহ করে আর সারা বছর ফ্রি সার্ভিস দেয়।নানাবাড়ীতে পৌঁছাতেই তারা অবাক হয়ে গেল, এতো ছোট ছেলে একা একা কিভাবে আসলো??

এদিকে সন্ধ্যার হয়ে গেলেও আমি বাড়ী না ফেরাতে দাদাবাড়ীর লোকজন আমাকে খোঁজা শুরু করলো।রাতেই আশে পাশে সব আত্মীয়স্বজনের বাড়ীতে খোঁজা হয়ে গেল আর পরদিন সকালে নানাবাড়ীতে লোক পাঠানো হবে এই সিদ্ধান্ত হলো । পরদিন সকালে যথারীতি এক চাচা আমার নানাবাড়ীতে উপস্থিত হয়ে গেল আর আমাকে দাদাবাড়ীতে নিয়ে যাওয়ার জন্য জোর করতে লাগলো। এদিকে নানাবাড়ীতে একটা ছাগী চাল খেয়ে অসুস্থ হয়ে গেছে। চাল খেলে নাকি ছাগল আর বাঁচে না। ছাগীটা শুধু ভ্যা ভ্যা করছিলো আর একটু পর পর মাটিতে পড়ে যাচ্ছিলো । ছাগীটার আবার দুইটা দুগ্ধপোষ্য বাচ্চা ছিলো, তাই সবাই চিন্তা করছিলো কি করা যায়।শেষ পর্যন্ত ছাগীটাকে জবাই করা হলো।তখন নানা বললো এখনই না গিয়ে দুপুরে ছাগীর মাংশ দিয়ে ভাত খেয়ে বিকাল বেলায় যেতে আর চাচাকে সকালেই দাদা বাড়ীতে পাঠিয়ে দেওয়া হলো।

দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পরে আমি আমার বিমান(তখন আমার কাছে সাইকেল ছিলো বিমানের মতো) নিয়ে বের হলাম দাদা বাড়ী যাওয়ার জন্য। নানা নানী জিজ্ঞেস করলো একা যেতে পারবি তো, আমি বললাম পারবো।তারপর আবার সাইকেল চালাতে চালাতে দাদা বাড়ীর দিকে একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছিলাম।নানা বাড়ীর গ্রাম পার হয়ে আসলাম, নদী পার হলাম, আরো একটা গ্রাম পার হলাম, ফসলের বড় মাঠটাও পার হয়ে দাদা বাড়ীর গ্রামের একদম কাছে চলে আসলাম। এমন সময় দেখলাম এক রাখাল ইয়া বড় বড় শিং ওয়ালা মোটা মোটা ৩ জোড়া মহিষ নিয়ে পুরোটা রাস্তা দখল করে আমার উল্টো দিক থেকে আসছে। আমি যে সাইড দিয়ে যাব সেই রকম কোন ফাঁক অবশিষ্ট নাই।আমি জোরে জোরে বেল বাজাতে লাগলাম আর ভাবতে লাগলাম রাখাল মনে হয় আমাকে একটু সাইড করে দিবে। কিন্তু না রাখালের মাঝে সেইরকম কোন লক্ষন দেখলাম না, সে আরেকটা রাখালের সাথে বিড়ি ধরাতে ব্যস্ত।একবার ভাবলাম যে সাইকেল থেকে নামি, আবার ভাবলাম নামলে যদি মহিষ গুতা দেয়।তাই আর নামলাম না। এদিকে মহিষ একটু একটু করে আমার দিকে এগিয়ে আসছে আর আমিও একটু একটু করে মহিষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আর বেল বাজাচ্ছি ।মহিষও এগিয়ে আসছে, আমিও এগিয়ে যাচ্ছি। ।মহিষও এগিয়ে আসছে, আমিও এগিয়ে যাচ্ছি। ।মহিষও এগিয়ে আসছে, আমিও এগিয়ে যাচ্ছি। এই রকম করতে করতে এক সময় আমি মহিষের মাথায় সাইকেল লাগিয়ে দিলাম।তখন মহিষটা কি করলো ?? মহিষটা মাথাটা একটু দোলালো (মানে শিং দিয়ে গুতা দিলো)। আর আমি?? সাইকেল সহ উড়ে গিয়ে রাস্তার পাশে খাদে গিয়ে পড়লাম।শীতের সময় হওয়াতে খাদে হাঁটু পানি ছিল।সাইকেল আর আমি কাদা পানিতে মাখামাখি হয়ে গেলাম।আশেপাশের লোকজন হৈ হৈ করতে করতে ছুটে আসলো।কেউ বলছে মাথায় পানি ঢাল, কেউ বলছে ছেলেটার বাড়ী কোথায়, কেউ বলছে কোথায় ব্যাথা লাগলো, কেউ আবার রাখালকে গালী দিতে লাগলো।এদিকে আমার মনে হচ্ছে আমি যেন স্বপ্ন দেখছি, তাই নিজের গায়ে চিমটি কেটে দেখলাম না আমি স্বপ্ন দেখছি না।তখন আম্মার কথা মনে হলো, আম্মা তো এমনিতেই আমার পিঠে লাঠি ভাঙ্গবে আর এই রকম কাদা মাখা অবস্থায় দেখলে তো কিয়ামত হয়ে যাবে। আমি তাড়াতাড়ি খাদের ভিতর থেকে দৌড় দিয়ে উঠে আবার সাইকেল চালাতে চালাতে দাদাবাড়ীতে পৌছে গেলাম। দাদাবাড়ীতে পৌছাতেই আম্মা আমাকে টিউবয়েলের কাছে নিয়ে গিয়ে গোসল করিয়ে দিল। আর সাইকেল কাহিনী এখানেই শেষ হলো।

৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×