somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কথিত দেবতার পাহাঢ পাডি দিয়ে অমিয়াকুম, সাতভাইকুম, ভেলাকুম এবং নাফাকুম ভ্রমন !! ১ম পার্ট

০২ রা মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গত বছর তাজিংডং থেকে আসার পর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আর কোন পাহাঢ ভ্রমনে যাব না।তাহলে বুঝতেই পারছেন কেমন দূর্গম, বিপদ সংকুল পথ পাডি দিয়েছিলাম! কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই, ফেব্রুয়ারি মাস আসতেই আবার আমাদের মন বিদ্রোহ করে উঠল, আবারও অজানা, অদেখা ও দূর্গম পথ পাডি দিয়ার উগ্র বাসনা জেগে উঠল।

তাই হাসান মহীউদ্দিন, মিনহাজ ও এহসান ভাই এর সাথে আলোচনা করে আমাদের ট্যুরের ফোরকাস্ট অনুযায়ী অমিয়াকুম, সাতভাই, ভেলাকুম এবং নাফাকুম যাওয়ার দিনক্ষন ঠিক হল, তারিখ হল সেই ঐতিহাসিক ২১ শে ফেব্রুয়ারির বন্ধ! সিন্ধান্ত হওয়ার সাথে আমাদের কাউন্ট-ডাউন শুরু হল! এর মধ্যেই রাহাত ভাই মেইলে প্রস্তাব দিল, টি-শার্ট কিনে তাতে ট্যুরের লোগো প্রিন্ট করতে, তাতে সবাই সানন্দে রাজি হল, তারপর শুরু লোগো যাচাই বাচাই প্রক্রিয়া, বিশেষ করে এই ক্ষেত্রে রাশেদ হল সবচেয়ে বেশি এক্টিভ, তার অনেকগুলো প্রস্তাবনা থেকে নিচের লোগোটি ট্যুরের লোগো হিসেবে নির্বাচিত হল।

লোগো সিলেক্ট হওয়ার পরে তোডজোড শুরু হল টি-শার্ট কেনা ও তাতে প্রিন্ট করা। একদিন অফিস শেষে আমি, হাসান মহীউদ্দিন, এহসান ও রাসেদ ভাই মিলে মার্কেটে থেকে কিনে ও তাতে প্রিন্ট করালাম আন্দরকিল্লা গিয়ে। নিচের টি-শার্ট টি হল আমাদের পছন্দকৃত লোগোসহ গেঞ্জিটি!


এই সব কার্যক্রমের ভিতরেই চলতে থাকলে আমাদের ট্যুরের মেম্বারদের মেইল আদানপ্রদান, বিভিন্ন ধরনের খুনসুটি, ট্যুর বিষয়ক বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাবনা!

২০, শে ফেব্রুয়ারিঃ অবশেষে সেই বহুপ্রতিক্ষিত সেই দিনটি এল, খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে ট্যুরের জিনিসপত্র নিয়ে ব্যাগ এন্ড ব্যাগেজ অফিসে চলে আসলাম আমাদের পরিকল্পনা মোতাবেগ! বিকাল ৫ টায় সবাই যার যার অফিস শেষে আমরা মিলিত হলাম নতুন ব্রিজ। আমরা হলাম হাসান মহীউদ্দিন, মিনহাজ, রাহাত, এহসান, শরিফ, আরিফ, রাসেদ, নজরুল, সোহেল, কলি, মাহফুজ এবং আমি ( ফাহিম) মোট ১২ জনের একটা গ্রুপ

বান্দরবানের ডাইরেক্ট বাস পাব কি পাব না, এই কনফিউজের মধ্যে না থেকে আমরা হাতের কাছে যে বাসটি পেয়েছি, সেটাতেই করেই আমরা সাতকানিয়া, কেরাণী হাট চলে গেলাম। ঐখানে নেমে হালকা ঝালমুরি খেলাম, ইতিমধ্যে আমাদের সম্মানিত মিনহাজ ভাই একটা মাইক্রো ঠিক করলেন। আমরা তাতে চেপে বসলাম বান্দরবানের উদ্যেশ্যে।যদিও আমরা অফিসে কেউ জুনিয়র, কেউ বা সিনিয়র, কিন্তু ট্যুরের গেঞ্জী গায়ে চাপানোর সাথে সাথেই সবাই আমরা হয়ে গেলাম অন্য মানুষ অর্থাৎ ভিন্ন ধরনের মানুষ যে আচরন আমরা অফিসে দেখিনা। আমরা একে অপরকে কথার প্যাচে, দুষ্টুমিতে ঘায়েল করতে মেতে উঠলাম। এগুলো করতে করতে আমরা পৌঁছে গেলাম বান্দরবানে।
বাস থেকে নেমেই শুরু করলাম রাত যাপনের জন্য হোটেল সার্চিং। কিছুক্ষন ঘোরাঘুরি শেষে উঠলাম হোটেল " হোটেল হিল সিটি"।রুমে ব্যাগগুলো রেখে বাহিরে বের হয়ে আসলাম, উদ্যেশ্য খাওয়া দাওয়া করা ও ঘুরাঘুরি করে রাতের বান্দরবন দেখা।কেউ শহীদ মিনারে গিয়ে ছবি তুলছে আর কেউ এদিক সেদিক ঘুরাঘুরি করছে। আমরা কয়েকজন পরের দিনের থানচি যাওয়ার জন্য চাঁদের গাডী ঠিক করলাম। তারপর হোটেলে খাওয়া দাওয়া সেরে যার যার রুমে চলে গেলাম। পরের দিনের কথা চিন্তা করে ঘুমের রাজ্যে চলে গেলাম !!
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৫০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই সমাজ- ৭২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৩



দেশের সরকার অযোগ্য অদক্ষ হলে, জনগনের শান্তি থাকে না।
দেশের জনগন সারাদিন কাম কাজ করে। অফিসে নানান রকম যন্ত্রনা পোহায়। নানান জক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়। অফিসে থাকে না... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেল গ‍্যাস অনুসন্ধান আর বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে, সুদি মহাজন আর খাম্বা/কার্ড সরকারের মিথ্যাচারের জবাব॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮



২০০৮-২০২৪ এই ১৬ বছরকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন "chronicle of shoddy gas exploration" - মানে গ্যাস অনুসন্ধানের ধীরগতির ইতিহাস।

২০০৮-২০২৪ এর মূল চিত্র

< Between 2008 and 2024, bureaucratic interference... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল ইশরাত মঞ্জিল ধ্বংসের আসল খলনায়ক কে?

লিখেছেন মৌন পাঠক, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১১

কথায় কথায় বামপন্থী, সেক্যুলারদের গালি দেয়া হচ্ছে ইশারাত মঞ্জিলের ইতিহাস মুছে ফেলার জন্য।

কিন্তু দালিলিক ইতিহাস হলো— ১৯৫১-৫২ সালে মূল ইশারাত মঞ্জিল বিল্ডিংয়ে কোনো হিন্দু, বামপন্থী বা আওয়ামী লীগার বুলডোজার চালায়নি!

তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবননগর

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



গ্রাম দেখতে কোলাহলের বাইরে গিয়ে দেখি-
কোথাও নেই একরত্তি গ্রাম!
বিলুপ্ত হয়েছে যাবতীয় সবুজ সুন্দর;
সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে কংক্রিটের বন!
ভ্রমণক্লান্তিতে খুব তৃষ্ণার্ত হয়ে-
জলপানাঙ্ক্ষা জানাতেই পেলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২৬

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।



বাংলাদেশে যদি একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প বা বড় ধরনের নগর দুর্যোগ আঘাত হানে, তাহলে দেশটি নেপালের অভিজ্ঞতার চেয়েও বহুগুণ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×