প্রতিটা মানুষই কোন না কোনদিক দিয়ে প্রতিভাধর।
কেউ কেউ লেখার দিকে প্রতিভু, কেউ অভিনয়ের দিকে, কেউ গানের দিকে অথবা কেউ জ্ঞানের দিকে, কেউ আবার খুনোখুনির দিকেও (খারাপ হলেও 'প্রতিভা' কিন্তু 'প্রতিভা'-ই), ইত্যাদি।।
আর যারা নিজেদেরকে কোনদিক দিয়েই প্রতিভু নয় বলে মনে করে, তাদেরও কোন না কোন প্রতিভা আছেই। হয়তো স্ব-অনুসন্ধান অথবা জায়গামতো একটু খোঁচার অভাবে তাদের প্রতিভা আজ পর্যন্ত অনাবিস্কৃত; অর্থাত্ নিজেরই অন্তরালে অন্তর্নিহিত।
আর সত্যিকারের 'প্রতিভাহীন', মানে জন্মগতভাবেই প্রতিভাপ্রতিবন্ধী কোন জীব যদি এই জগতে বসবাস করে থাকে; সেটা মনে হয় একমাত্র আমিই।
বহু অনুসন্ধান করেও আমি বান্দাটা আসলে কোন দিকে দক্ষ, সেটা আজ পর্যন্ত আবিস্কার করতে পারলাম না।
হাঁ, একটা প্রতিভা আছে; 'খাওয়া আর ঘুম'। যদিও এই অকার্যকর পার্শ্বপ্রতিভার দ্বারা কেউ কখনো কার্যকর কিছু করতে পারেনি এতে বিন্দুমাত্রও সন্দেহের অবকাশ নেই।
যাই হোক, কিছুতেই কিছু করতে না পেরে অবশেষে নিজের সম্পর্কে এই স্বতঃসিদ্ধ সিদ্ধান্তে পৌঁছলাম যে, আমি সত্যিই একটা গণ্ডমূর্খ, আকাট এবং একটা দৃশ্যমান ও পদার্থের সকল গুণাবলীসমৃদ্ধ অথচ সম্পূর্ন আকাজ ক্যাটাগরির পদার্থরুপী অপদার্থ।
কিন্তু হাল ছাড়িনি। কিঞ্চিত্ স্বপ্রতিভার সন্ধানে আজও নিয়োজিত আছি।
কারণ, যা কখনোই হওয়ার নয়, তা নাকি কখনো কখনো হয়েই যায়।
তবে 'আত্মোপলব্ধি' জিনিসটা মানুষের মধ্যে সত্যিই 'আত্মতৃপ্তি' এবং 'আত্মতুষ্টি' নামক দুটো অদৃশ্য-অনুভব্য শব্দের আনয়ন করে, এটুকু অন্তত আবিস্কার করতে সফল হলাম।
একটা কথা,
এই বিজ্ঞানের যুগে অসম্ভব শব্দটা নাকি প্রায় বিলুপ্ত। তাই বিজ্ঞানের উপর ভরসা রেখেই সাহস নিয়ে অত্যন্ত হাস্যকর একটা সত্য বলছি,
'প্রতিভাহীনতা' যদি কখনো প্রতিভা হিসেবে স্বীকৃতি পায়, তাহলে জেনে রাখো হে পৃথিবীবাসী, "আমিই পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাঞ্জ প্রতিভাধর।"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


