somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রসঙ্গঃ টিএসসি এবং কিছু কথা

২২ শে এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভাবছিলাম কিছু বলবনা। চুপচাপ দেখে যাবো।
প্রসঙ্গঃ টি এস সি ঘটনা।

যাই হোক, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, লাইভ টকশো, ব্লগস, গনমাধ্যমসহ চারদিকের প্রতিক্রিয়া দেখছিলাম এই ব্যাপার নিয়ে। বিভিন্ন স্তরের মানুষের বিভিন্ন রকমের মন্তব্য শুনছিলাম।
তবুও প্রায় পণ করেই রেখেছিলাম বলা যায়, ‘চুপই থাকব’। চুপচাপ তামাশা দেখে যাব।
আমরা বাঙ্গালী জাতি।
আমরা ইস্যু নিয়ে জলঘোলা করতে যেমন পছন্দ করি, তেমন চুপ থেকে দূরে বসে তামাশা দেখতেও পছন্দ করি।

যাক, অবশেষে ‘রোজাভঙ্গ’ করলাম।
চুপ থেকে ফায়দা কি?
আজ আমি চুপ থাকলাম। কিন্তু কাল আমার বোনকে কেউ লাঞ্চিত হতে দেখলে সেও আমার মতই চুপচাপ তামাশা দেখার পজিশান নিয়ে নিবে।

সোজাসুজি কথায় আসা যাক,
এই ব্যাপারে দেখলাম প্রতিক্রিয়াশীলদের ফতোয়ার অভাব নাই। ‘এই হইছে/ওই হইছে/ছোট জামা/ অল্প কাপড়/ পর্দার অভাব/’ হাংকি পাংকি ইত্যাদি ইত্যাদি’
এছাড়াও বিভিন্ন হাদিস-কোরান, ইসলামিক গল্পের (গল্পগুলো কতটা সত্য, কতটা কল্পিত সেটা নিয়ে যথেষ্ট ডাউট আছে) অবতারনা হয়ে চলেছে।

প্রথমে একটা কথা না বললেই নয়, ইসলাম কি পর্দার বিধান শুধু মেয়েদের জন্যই রেখেছে? ছেলেদেরকে চোখ এবং কলবের পর্দা করার আদেশ দেয়নি?
নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় এই হাদিসজ্ঞান কই যায়?

ওহহ হাঁ, মিষ্টি ঢেকে না রাখলেতো এর উপর মাছি বসবেই….
এখন এই টাইপ ফতোয়া দেবার ধান্দা করছেন, রাইট??
‘ঢাকা মিষ্টিতে মাছি না বসলেও পিপড়া কিন্তু ঠিকই বসে।’ পিঁপড়া আর মাছি দেখতে আলাদা হলেও জাতে কিন্তু দুইটাই একই ক্যাটাগরিতে পড়ে।

দোষটা যে মিষ্টির তুলনায় যে মাছির ক্ষেত্রে বেশি, এটাকি কখনও সামনে থেকে দেখেছেন?

আমি দেখেছি। বোরখা পরা মেয়েদেরকেও লাঞ্চিত হতে।
আমি শুনেছি, বোরখা পরা মেয়েদেরও ধর্ষিত হওয়ার করুণ কাহিনী।

না, তাই বলে বোরখা/পর্দা নিষ্প্রয়োজন, সেটা অবশ্যই বলবনা।

এখানে আসল ব্যাপারটা কিন্তু বোরখা, পর্দা, ঢাকাঢাকির না।
যারা পর্দা পর্দা করে নিজেদের জান কেটে রড বানিয়ে ফেলছেন, তারা ওই অপরাধকে আর অপরাধীদেরকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন মাত্র, আর কিছুনা।
অপরাধীরাও চাচ্ছে পর্দাকাহিনীর উদ্ভব হয়ে ওদের ম্যাটারটা ধর্মীয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাক।

বাদ দেন, আপনাদের কাছে এখন ধর্মসংকট এবং ধর্মরক্ষাটাই বড় হবে, কারণ আপনার মা/বোন যে এখনও লাঞ্চিত হয়নি।

এর উত্তরও আমার জানা আছে; এখন বলবেন, “আমার মা/বোন এসব আজাইরা অনুষ্ঠানে যায়না অথবা আমার মা/বোন অত্যন্ত পর্দানশীলা। ইত্যাদি ইত্যাদি।”

আপনার মা/বোন এসব আজাইরা অনুষ্ঠানে যায় নাতো কি হইছে?
ওঁরা কি ঘরের বাইরেই যায়না??

আপনার মা/বোন পর্দা করেতো কি হইছে?
আমার ভাষায় ওইসব জাতলুচ্চা, লাফাঙ্গা, প্রখর নুনুভুতিসম্পন্ন এবং আপনাদের ভাষায় ধর্মসংকট ধরিয়ে দেয়া এই মহাপুরুষগুলো পর্দার উপর দিয়েও তাদের দিব্যদৃষ্টি দিয়ে রাস্তায় হেঁটে যাওয়া আপনার/আমার মা-বোনেদের পর্দার ভেতরটাও স্ক্যান করতে সক্ষম, ওটা কি আপনি জানেন না?
আপনি আজ পর্যন্ত যদি এই ব্যাপারটাও না জানার মত এতবড় ভোদাই হন, তাহলে অনুরোধ রইল ব্যাপারটা পরখ করে দেখার।

আজ ধর্মরক্ষা করছেন; কিন্তু কাল যদি আপনার মা/বোন/ওয়াইফ অথবা কোন আত্মীয় কেউ লাঞ্চিত হয়, তখন প্রতিবাদ করতে যাবেন কোন মুখ নিয়ে?
এই ভোদাইমার্কা মুখে আবার প্রতিবাদ করতে লজ্জা লাগবেনাতো?

মা-বোন আপনার; সিদ্ধান্তও আপনার।
আমার মা-বোন আছে, আমি আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি।

আর, আপনাদের মত কিছু ‘ভোদাই’ সমর্থন না দিলেও আমাদের প্রতিবাদ থেমে যাবেনা।
কিন্তু মনে রাখবেন, আপনারও মা-বোন আছে। পারবেনতো তাদের লাঞ্চনাকেও এভাবে পর্দার দোহাই দিয়ে চেপে যেতে?
পারবেনতো তখনও মুখে তালা দিয়ে বসে থাকতে আর কীবোর্ডে নিজের প্রতিক্রিয়াশীলতার পরিচয় দিয়ে তখনও নিজেকে মহান ধর্মানুরাগী প্রমাণিত করতে?

ওহ হ্যাঁ! আপনাদের মা-বোনতো আবার খুব পর্দানশীলা!!
কোন ধর্মসংকট তাদের পর্দা ভেদ করতেই পারবেনা; মহাপুরুষদের ধর্মসংকট ডিটেক্টিং আই তো দূরে থাক!!!
ঘুমান ওই সুখে শান্তিতে নাকে তেল দিয়ে।
ঘুম হয়তো কোন একদিন ভাঙবে। তবে ‘ইট মেরে পাটকেলটি খাওয়ার পর’।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×