somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হয় পূর্ণ সমর্থন দিন, নয় দুরে থাকুন

০৭ ই জুলাই, ২০১৫ সকাল ১১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশ জাতীয় দলের একটা বিশেষ সমর্থকগোষ্ঠী আছে. অনেকটা এমন;
টিম জিতলে- "মারহাবা তামিম, মারহাবা সাকিব, মারহাবা অমুক-তমুক।"
অথবা, "অমুক প্লেয়ার ছলিমুদ্দির পোলা ছিলেন, খুব গরীব-দুস্থ। অনেক কষ্টে খেলা শিখে আজ এই-ওই করছে। এত বছর বয়সে অর ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির নখের আগায় এইডস হইছিল! তবুও অয় দ্যাশের লিগ্যা যুদ্ধ ক্ষ্যামা দেয় নাই। আমি উয়ারে এক বিশাল পরিমানে ভালবাসি। ওরে সবাই বৃষ্টিবর্ষনের মতো কইরা সিমপ্যাথি মারেন।" এই জাতীয় সমব্যাথিতামূলক কথাবার্তা।
আবার, "ইয়েস! উই উওন! আমরা জিতে ফেলেছি! " জাতীয় খুব অনুপ্রেরণাজাগানো লেকচার।
.
.
এর ঠিক এক বা দুই ম্যাচ পরে যখন বাংলাদেশ টিম খ্রাপ করে, তখন-
"জুতা মার অমুক অমুকরে। এইডা কিরকেট খেলছে? না ডাত্‍গুলি?"
অথবা, "এই 'অমুক' হালারে দলে জায়গা দিছে কে? হ্যাতে হারছে হ্যাতের বউয়ের কারণে। যাই, হ্যাতের ফেবু প্রোফাইলে গিয়া হ্যাতের বউরে একটু ইভটিজ করে আসি।"
আবার, "ধুর! এইজন্যেই বাংলাদেশ দল সাপোর্ট করিনা। খালি হারে। সিলেক্টররা কি গাঞ্জা খায় নাকি?"
.
শেষের তিনটা উদ্ধৃতিতেই ব্যাপক হতাশা, কিছুদিন আগে 'বাহবা' দেয়া প্লেয়ারদেরকেই টেনে মাটিতে নামানোর পোস্ট। কিছুদিন আগেও যখন টিম কনজিকিউটিভ অথবা নিয়মিত জয় পাচ্ছিল, তখন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতে গিয়েতো বুক নাকি ফুলেফেঁপে উঠছিল! হারার পরে কই গেল?
সবগুলো ম্যাচ টিমকে জিততে হবে, এমন কোন কথা ক্রিকেট সংবিধানে আছে নাকি? প্লেয়ারদের ভাল পারফর্মেন্স নির্ভর করে অনেকগুলো ব্যাপারের উপর। ওদের মানসিক অবস্থা, পিচ, আবহাওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। শুধু গায়ের জোরে বলদের মতো বলরে পিটালেই চার/ছক্কা হয়ে যায় না। এটা আন্তর্জাতিক খেলা। এখানে শক্তির তুলনায় বুদ্ধির পরিচয় দিতে হয় বেশি।
.
.
খুব ভাল ভাল দলেরও খারাপ সময় যায়। তাই বলে সাপোর্ট ছেড়ে দিতে হবে? প্লেয়ারদের ফেসবুক প্রোফাইলে গিয়ে গালাগালি করতে হবে?
.
আপনাদের মতো সাপোর্টারের বাংলাদেশ দলের কোন প্রয়োজন নাই।
জিতলে 'সাবাস বেটা',
হারলে 'হালার বেটা' টাইপ সমর্থন দেয়ার চেয়ে ভাল সমর্থন দিয়েন না।
সমালোচনার পক্ষে আমিও। কিন্তু যা করা হয়, তার বেশিরভাগই সমালোচনা না। নোংরামী। সমালোচনা করুন। তবে সেটা গঠনমুলক। গালিগালাজ কখনোই 'সমালোচনা' হতে পারেনা।
নোংরা সমর্থক লাগবেনা টাইগারদের। প্রতি একশ জনের মধ্যে মাত্র দশজন সত্যিকার সমর্থক থাকলেও পর্যাপ্ত ওদের জন্য।
হয় পূর্ণ সমর্থন দিন, নয় দুরে থাকুন।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুলাই, ২০১৫ সকাল ১১:১৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Extra Long - Dual Coverage!

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।

সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল-জলন্ত

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুটি হাসিখুশি গল্প: ফাজিল কানাডিয়ান ও মহা সিরিয়াস কানাডিয়ান

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৩৩


হুমায়ূন আহমেদের একটা গল্প ছিল তাদের মাকে নিয়ে। তাদের মেঝ ভাই জাফর ইকবাল তখন আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে থাকেন। তাদের মা ছেলের কাছে বেড়াতে গিয়েছেন। বিকেলে তিনি একা একা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×