somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এইচএসসি-২০১৫ ফলাফল বিপর্যয়; সৃজনশীলতা

১০ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ১২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রেজাল্টের অবস্থা দেখেতো পুরো লাজওয়াব হয়ে গেলাম আজ!
এত্তো বাজে অবস্থা!

কাজিনকে জিজ্ঞেস করলাম 'কিরে, রেজাল্ট খারাপ করলি কেন?'
তার জবাবেতো আমার লাজওয়াব জবানের অবস্থা আরো করুণ!
"আর বইলেন না ভাইয়া, পরীক্ষার হলে দুইটা ক্যাঁড়া (একরোখা) স্যার পড়ছে দুইদিন। ওই দুইটাই কাজ ঘটাইয়া দিছে।"
.
বলুন, এই উত্তরের পর আদৌ আর কি কোন জবাব থাকে?
তার মানে, সে নিজ দোষে খারাপ করে নাই; দায়িত্বপ্রাপ্ত 'ক্যাঁড়া' স্যারদের সব দষ।
(পয়েন্ট টু বি নোটেডঃ দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাঁড়া স্যার)

সে যে ভাল প্রিপারেশন নেয় নাই, খেলার সময় খেলা; পড়ার সময়ও খেলাগিরি চালিয়েছে ওগুলো কোন ধর্তব্য দোষের পর্যায়ে পড়ে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হল, দুইটা বিষয় ক্যাঁড়া স্যারের জন্য খারাপ হয়েছে; আর বাকিগুলো ভাল হয়েছে।
কারণ??
ক্যাঁড়া স্যার পড়েনি বাকি পরীক্ষাগুলোয়। অন্তত লজিক্যালি থিওরিটা এরকমই দাঁড়ায়।
তাহলে সে বাকি যে যে বিষয়গুলোতে ভাল করেছে, আদৌ কি নিজ যোগ্যতায় ভাল করেছে?
তার যোগ্যতার সনদে একটা কোয়েশ্চেন মার্ক কি থেকে গেল না তাহলে?
সে ভেবেছিল হয়তো প্রতিবারের মতো এবারও স্যারেরা সুযোগ করে দেবে ইতিউতি মেরে পাশের! প্রিপারেশন নেবে তার পাশের অথবা সামনের বন্ধুটি, আর সে উরুর ওপর উরু স্থাপন করে পাশ মেরে আসবে।
তবে বিধি বাম!

স্যার একটু স্ট্রিক্ট হলেই তাঁর উপাধি হয় ক্যাঁড়া!
বেশ! বেশ!

ওহ্ হ্যাঁ।
এতক্ষণে আপনার মনে নিশ্চয়ই একটা যৌক্তিক প্রশ্ন তৈরি হয়ে গেছে যে, আমি ওকে এটা জিজ্ঞেস করেছি কিনা 'ক্যাঁড়া স্যারের কারণে রেজাল্ট খারাপ হবে কেন? ও কেন নিজে থেকে কোন প্রিপারেশান নেয় নি পরীক্ষার জন্য।'

করেছিলামতো!
এর উত্তরটাও ভিত্তি নাড়িয়ে দেয় আরেকবার।
"ভাইয়া, আমি সৃজনশীলে দুর্বল।"
আরেহ আজব তো!
সৃজনশীলতো দুর্বলদের জন্যই। এতে আবার দুর্বলতার কি আছে?
"আমাদের যাঁরা পড়ান, তাঁরাই যেখানে সৃজনশীল পদ্ধতির ব্যাপারে ঠিকঠাক ওয়াকিবহাল নন; আমরা কোন নচ্ছার?"

এরপর আর কোন উত্তর বা পাল্টা প্রশ্ন মুখে জোগায় নি। এই ব্যাপারটা আমি নিজেই এক্সপেরিয়েন্স করেছি, কি আর বলব! আমার ছোটবোন অষ্টম শ্রেণীর একজন ছাত্রী। ওর প্রতি টার্মের পরীক্ষার প্রশ্ন ভেরিফাই করি আমি। সবসময়ই এই কাজ করতে গিয়ে দেখি বেশিরভাগ (বেশিরভাগ বিষয়ে পুরো প্রশ্ন) সৃজনশীল প্রশ্নই পাঠ্যবইয়ের নমুনাপ্রশ্নগুলোর হুবহু উদ্ধৃতি!!
একবার সন্দেহ হওয়ায় আরেকটু তলায় হাত গলিয়ে দেখি বাকি যে কিছু প্রশ্নকে আমি স্যারদের সৃজনশীলতা মনে করছিলাম, সেগুলো আসলে আমাদের জাতির এসকল কর্ণধারদের নিজেদের মস্তিষ্কপ্রসূত সৃষ্টিই নয়!
গাইডগুলোতে যে অতিরিক্ত সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর দেয়া আছে, ওখান থেকে কপিকৃত!!**

সৃজনশীল পদ্ধতির ফায়দাটা কি হল অবশেষে? সৃজনশীল আর ক্ল্যাসিক এডুকেশনাল সিস্টেমের মধ্যে আদৌ কোন ফারাকই তো রইলনা। এরচেয়ে ক্ল্যাসিক সিস্টেমটাই ভাল নয় কি? যেখানে একজন শিক্ষকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করার মতো সৃজনশীলতাটুকুমাত্র নেই, সেখানে উত্তরদানের ক্ষেত্রে একজন ছাত্রই বা আর কতোটা সৃজনশীল হবে?
যে শিক্ষাব্যাবস্থায় পথপ্রদর্শকরা বহুলাংশে অন্ধ, সেখানে শিক্ষার্থীরা আর কী-ই বা দেবে আমাদের?
নামেমাত্র এই পদ্ধতিটি আসলে প্রচলিতমাত্র, বাস্তবে এর ছিটেফোঁটাও নেই। যা আছে, তা এক-তৃতীয়াংশ সৃজনশীল এবং দুই-তৃতীয়াংশ ক্ল্যাসিক্যাল সিস্টেম মিশ্রিত রেসিপি ছাড়া আর কিছুই নয়।


তাই মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এবং জাতীয় শিক্ষাব্যাবস্থাসংশ্লিষ্ট সকল ব্যাক্তিবর্গের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি,
আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যাবস্থাকে কি আরেকবার বিবেচনা করা যায় না? হাঁ, নিঃসন্দেহে সৃজনশীল পদ্ধতিটি অত্যন্ত যুগোপযোগী একটা ব্যাবস্থা। তবে একে এগিয়ে নেয়া বা যথাযথভাবে মেইনটেইন করার মতো ইকুইপমেন্ট বা দক্ষ ম্যানপাওয়ার আমাদের আসলেই নেই স্যার। তাই অনুরোধ রইল, প্লিজ একটু বিবেচনা করে দেখুন এই পদ্ধতিটি কতটা উপযুক্ত আমাদের দেশের বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে।
.
সকলকে ধন্যবাদ কষ্ট করে ধৈর্য্য ধরে পড়ার জন্য।।
.
.
.
**শিক্ষকদের সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরীর সৃজনশীলতাসংক্রান্ত আমার এই অভিযোগ ভিত্তিহীন নয়। ১০০ শতাংশ সঠিক তথ্যবহুল প্রমাণ দিতে পারব এর প্রেক্ষিতে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ১০:২০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। ভারতে পচা রুটি ভাত ও কাঠের গুঁড়ায় তৈরি হচ্ছে মসলা

লিখেছেন শাহ আজিজ, ১৪ ই মে, ২০২৪ রাত ৮:৩০

আমরা প্রচুর পরিমানে ভারতীয় রান্নার মশলা কিনি এবং নিত্য রান্নায় যোগ করে খাই । কিন্তু আমাদের জানা নেই কি অখাদ্য কুখাদ্য খাচ্ছি দিন কে দিন । এর কিছু বিবরন নিচে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন যদি চায়, তবে হাতটি ধরো

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৪ ই মে, ২০২৪ রাত ৯:৪৩

মন যদি চায়, তবে হাতটি ধরো
অজানার পথে আজ হারিয়ে যাব
কতদিন চলে গেছে তুমি আসো নি
হয়ত-বা ভুলে ছিলে, ভালোবাসো নি
কীভাবে এমন করে থাকতে পারো
বলো আমাকে
আমাকে বলো

চলো আজ ফিরে যাই কিশোর বেলায়
আড়িয়াল... ...বাকিটুকু পড়ুন

One lost eye will open thousands of Muslims' blind eyes

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৫ ই মে, ২০২৪ রাত ২:২৭



শিরোনাম'টি একজনের কমেন্ট থেকে ধার করা। Mar Mari Emmanuel যিনি অস্ট্রেলীয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি চার্চের একজন যাজক; খুবই নিরীহ এবং গোবেচারা টাইপের বয়স্ক এই লোকটি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরি বয়সসীমা ৩৫ বৃদ্ধি কেনো নয়?

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই মে, ২০২৪ সকাল ১০:৪২



চাকরির বয়সসীমা বৃদ্ধি এটা ছাত্র ছাত্রীদের/ চাকরি প্রার্থীদের অধিকার তবুও দেওয়া হচ্ছে না। সরকার ভোটের সময় ঠিকই এই ছাত্র ছাত্রীদের থেকে ভোটের অধিকার নিয়ে সরকার গঠন করে। ছাত্র ছাত্রীদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁচতে হয় নিজের কাছে!

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ১৫ ই মে, ২০২৪ সকাল ১১:২৮

চলুন নৈতিকতা বিষয়ক দুইটি সমস্যা তুলে ধরি। দুটিই গল্প। প্রথম গল্পটি দি প্যারবল অব দ্যা সাধু।  লিখেছেন বোয়েন ম্যাককয়। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ জার্নালের ১৯৮৩ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর সংখ্যায়। গল্পটা সংক্ষেপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×