২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলের কাউন্সিলে খালেদা জিয়া পরিষ্কার করে বলেছিলেন, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেখ মুজিবুর রহমানসহ মরহুম জাতীয় নেতাদের অবদানের কথা স্মরণ করছি। তারা দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছিলেন। তিনি এও বলেছিলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে এবং তাদের মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ হবে জাতীয় ঐক্য ও প্রেরণা সৃষ্টির উৎস।
বিএনপি কি খালেদা জিয়ার বক্তব্য থেকে সরে এসেছে।
১৫ আগস্ট ছাত্রদলের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম সাগর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তার ফেসবুক আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সেনানী শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সরদার আমিরুল ইসলাম সাগরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ আগষ্ট ১৯১৭) রাতে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিএনপি কে আমরা মধ্যপন্থী দল হিসাবে দেখতে চাই। বরং তাদের এই মধ্যপন্থার জন্য আজও জনপ্রিয়গায় অন্যতম প্রধান দল।
এটা একটা ছোট ঘটনা যেখান থেকে আমরা দেখতে পাই বিএনপি তার চরিত্র হারিয়ে চরমপন্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রধান বিচারপতির একটি রায়ের কিছু পর্যবেক্ষনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের পাতি থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন তাতে মনে হয়েছে দেশে ক্যু হয়ে যাবে যাবে করছে।
৭৯৯ পৃষ্ঠার ওই রায়ের ৫৪তম পৃষ্ঠায় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার পর্যবেক্ষণের অংশে বলা হয়েছে, ‘কোনো জাতি বা রাষ্ট্র একজন ব্যক্তিকে নিয়ে বা একজন ব্যক্তির মাধ্যমে সৃষ্টি হয় না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নের কথা বলে গেছেন, আমরা যদি সত্যি তা বাস্তবায়ন করতে চাই, আমাদের অবশ্যই আমিত্ববোধের ওই আত্মঘাতী উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর আসক্তি থেকে মুক্ত থাকতে হবে যে কেবল একজন ব্যক্তি বা একজন মানুষই সব করেছে। ’
এ প্রসঙ্গে সিনিয়র সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননা করে কোনো কথা রায়ে মোটেও নেই। যেভাবে বলা হচ্ছে স্বাধীনতাযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বকে অস্বীকার করা হয়েছে বা খাটো করা হয়েছে, সে রকম কোনো বক্তব্য সেখানে নেই। রায়ে শুধু একটি জায়গায় এটি প্রেক্ষিতে এসেছে, একজন ব্যক্তি দ্বারা একটি জাতি বা একটি দেশ গঠন হয় না। এ রকম বক্তব্য কোনোভাবেই বঙ্গবন্ধুকে খাটো করে না।
ড. কামাল আরো বলেন, পুরো রায়টি পড়েছি। কোথাও বঙ্গবন্ধুকে খাটো করা হয়নি। তার কোনো অবমূল্যায়ন করা হয়নি। অপব্যাখ্যা দিয়ে বিষয়টিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টা চলছে। সত্যিকার অর্থেই এটা দুঃখজনক। দেশে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে এমন ব্যাখ্যার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে এই সংবিধান বিশেষজ্ঞ বলেন, রায়ের মধ্যদিয়ে এটা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে, যদিও কেউ মানছেন, কেউ মানছেন না। না মানাটা সংবিধান পরিপন্থি, বলতে পারেন বরখেলাপ। সংবিধান মানলে ১১১ অনুচ্ছেদের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলে সুপ্রিম কোর্টের দেয়া রায় নিয়ে বিতর্ক করার সুযোগ কোথায়? ১১২ অনুচ্ছেদে বলা আছে, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানার অন্তর্ভুক্ত সকল নির্বাহী ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টকে সহায়তা করবেন।
এ ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দান করা দলটির চরমপন্থা আবারো প্রকট হয়ে উঠেছে।
অথচ দেশের অধিকাংশ জনগনের মত আমিও রাজনীতিতে মধ্যপন্থাই এই সময়ের দাবী বলে মনে করি।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ সকাল ১১:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




