আমার এত বড় একটা রোগের কথা শুনে কাছের মানুষেরা মেনে নিতে পারছিল না... আমি দেশের বাইরে থেকে সবকিছু জানতে পারতাম।
যেহেতু চৌদ্দদিন পর পর তাই আমার কেমোথেরাপির জন্য সেন্ট্রাল লাইনের প্রয়োজন হয় নি। গলার মত একটা সংবেদনশীল জায়গায় তিন তিনটা নল নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর হাত থেকে বেঁচে গিয়ে বাস্তবিকই খুব খুশী হয়েছিলাম। বিশ্বাস করতে না পেরে একাধিকবার ডঃপুনিতকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করি। এত জটিল অপারেশন করার জন্য আমাদের দেশে স্কিলড হ্যান্ডের অভাব... আরও অনেক ব্যাপার মিলিয়ে আমাকে স্কয়ার থেকে বাইরে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।
সে যাই হোক... প্রসঙ্গে ফিরে আসি... তো সেই সেন্ট্রাল লাইন নিয়ে বছর ছ’মাসের একটা বাচ্চাকে যখন নির্বিকার দেখি তখন নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয়... যখন দেখি এখনও হাঁটতে শিখেনি একটা ফুটফুটে শিশু কেমোর যন্ত্রণায় চিৎকার করছে... নিজের যন্ত্রণাকে তখন খুব তুচ্ছ মনে হয়.
কিছু কিছু যন্ত্রণা আছে যেগুলো একমাত্র নিজের অনুভূতি ছাড়া কেউ কখনও বুঝবেনা। আমার সান্ত্বনা তখন পাশের বেডের দেড় বছরের বাচ্চাটি ... আশি বছরের বৃদ্ধটি যার বারোটা পালস শেষ হওয়ার পরও পাঁচ বছর পর রিকার করেছে... তার এখন কেমোথেরাপির মত অসহ্য যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে আবারও যেতে হবে
... এরা যদি হাসিমুখে থাকতে পারে, আমি কেন নই ! এরা তো আমার চাইতেও বেশী ভালনারেবল
অজানা এক কবি আমার কথাগুলো দু’লাইনে বলে গেছেন...
"আমি অকৃতী অধম বলেও তো কিছু কম করে মোরে দাওনি
যা দিয়েছ তারই অযোগ্য ভাবিয়া কেড়েও তো কিছু নাওনি।"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


