somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গন্ধ

০৫ ই অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৩:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কি ভীষন জ্যাম ! অসহ্য জ্যামে বসে নীহারিকা তার কলিগ হুমায়রার সাথে নতুন একটি আইডিয়া নিয়ে কথা বলছিল । যদি এমন করা যেত জ্যামের জন্য প্রতিটি যাত্রী জ্যাম ভাতা পাবে আর আসা এবং যাওয়ার সময়টুকু অফিস টাইম হিসেবে কাউন্ট হবে । আফটার অল আমরা অফিসের উদ্দেশ্যেই সময় ক্ষেপন করছি । রাত্রে বাসায় ফিরতে দেরী হলে সাধারনত যতটুকু সময় ব্যায় হবার কথা তা বাদ দিয়ে অতিরিক্ত সময়টুকু অধিকাল ভাতা প্রাপ্য হবে । এটাকে ভাতা না বলে সরকারের ব্যর্থতার জন্য জরিমানা বলা যেতে পারে । চীন বা ভারতের মত জনবহুল দেশে যদি এরকম বিপর্যয় না থাকে তাহলে আমাদের মত এত ছোট একটা দেশে কেন এই জঘন্য অবস্থা? এতে করে জ্যামটাকে আর অতটা অসহ্য মনে হবেনা । আয়ের এরকম বিকল্প একটি উৎস পেলে মন্দ হয়না ।

হুমায়রার মতে এতে অবশ্য দুটি পরিণতি হতে পারে । প্রথমত: এই জ্যাম আর কোনদিন শেষ হবেনা । অধিকাল ভাতার জন্য কোন গাড়ীই তার জায়গা থেকে নড়বে না । অথবা সরকার একটি বিরাট অংকের জরিমানা থেকে বাচঁতে যেভাবে হোক জ্যামের আধিক্য রোধ করবে ।

এইসব সময় কাটানো যাবর মূলক কথাবার্তা বলতে বলতে হঠাৎ নাকে এসে লাগে একটি অতি পরিচিত গন্ধ । নীহারিকা ওড়নার আচঁল নাকে চাপা দিল কিন্তু এ গন্ধ যাবার নয়। সে তার নি:স্বাস বন্ধ করে রাখল । শ্বাসকষ্টের সমস্যার দরুন দম বন্ধ রাখায় দ্রুতই ক্লান্তি অনুভব করলে বুকের ভিতর ড্রামের বিটিং শুরু হয় ধূপ ধূপ ধূপ......... । গন্ধটা আকাশ পাতাল এক করা সুতীব্র ব্যাথা নিয়ে আসে । প্রথমে বুকে সেখান থেকে মাথায় অবেশেষে চোখে গিয়ে শেষ হয় । সামনের সবকিছু ঝাপসা হয়ে উঠতে থাকে । মাঝেই মাঝেই সে এ গন্ধটা টের পায় । সে নিশ্চিত এ গন্ধ কেবল সেই টের পায় অন্য কেউ নয় । তাই এটা নিয়ে সে কখনো কারো সাথে শেয়ার করে না। গন্ধমূলক ঝড়ো হাওয়ার অস্থির ধূলায় শূণ্যতায় পেয়ে বসে তাকে।

সেদিন নিউমার্কেটে হঠাৎ করে এরকম নাকে এসে লাগে দু:খের তীব্র, নোনতা, ঝাঝালো গন্ধ । তার আগেও বহুবার সে এ গন্ধ পেয়েছে। আগোরায় যখন সে এটা পেল; এমাথা ওমাথা তন্ন তন্ন করে ফেলল, উৎসের দেখা নেই । কেন এটা তাকে এভাবে তাড়িয়ে বেড়ায়? কিন্তু প্রথম যখন সে এটার সাথে পরিচিত হয়েছিল, তখন খুব পছন্দ ছিল । এক অদ্ভুদ বিবশ মাদকতায় ডুবে থাকতো অবিরত ।

সেই একই গন্ধ তার কাছে নরকের যন্ত্রনা নিয়ে এসেছে। জ্যামটা ছাড়তেই গাড়ীটা আসাদ গেট হয়ে সোজা বের হয়ে যেতে গন্ধের তীব্রতাটা কমে আসে সেই সাথে ব্যাথাটা ছড়াতে থাকে সমস্ত চেতনায় । কোনভাবেই চোখটাকে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না । তার গা ঘেষে বসে আছে হুমায়রা । তাকে কিছুই বুঝতে দেয়া যাবেনা । অন্যেরা যদি সবকিছু বোঝেও তাতেও বা কি আসে যায়! আবার কেউ যদি কিছু না বোঝে তাতেও বা কি আসে যায়! যা কিছু আসে যায় সবটাই নিজের একান্ত । ব্যাথার মত একান্ত বোধ করি আর কিছুই হয়না কোনকালে ।

আজ প্রায় পাঁচ বছর ধরে এই যন্ত্রণাদায়ক গন্ধটা বয়ে বেড়াচ্ছে । সে এখন জীবনে কিছুটা স্থির হয়েছে । দৃশ্যত যতটুকু দেখা যায় । ভীতরের অস্থিরতা, রাত্রির উৎপাত, ভেজা বালিশের নালিশ সে এখন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রন করতে শিখেছে । নিজেকে বিজয়ী ঘোষনা করার দুর্দান্ত প্রয়াসে এক মহাযুদ্ধ । রাত নেই, দিন নেই নিজেকে নিজে প্রমান করছে, সে পারে, তাকে পারতে হবে।

একটি মানুষ, একটি মানুষের লাম্পট্যকে সে ও তো প্রশ্রয় দিয়েছিল । সেই দায়ভার তো তাকে নিজেকেই নিতে হবে । কাউকে ভালবাসা যেমন অন্যায় নয়, তেমনি তাকে চোখ বুঁজে বিশ্বাস করাটাও বুদ্ধিমত্তা নয় । হয়তো সম্পর্কের মাঝে এমন অনেক বিষয় ছিল যেগুলো সে নোটিশ করেনি, এটাতো সচেতনটার পরিচয় নয় । সে যদি তার মনের ফটোকপিটা তাকে দিত তবে হয়তো মানুষটার শরীরের গন্ধটা তাকে অশরীরীর মত তাড়িয়ে বেড়াত না । মানুষটা ভাল বা খারাপ থাকুক তাতে আজ আর নীহারিকার কিছু্ই আসে যায় না । মনের ভুলেও ফিরবার সাধ জাগেনা । আত্মগ্লানিতে ভুগতে ভুগতে নীহারিকা শিখেছে, মানুষ সবথেকে ভালবাসে নিজেকে । নিজেকে অপমানিত, প্রতারিত হতে দেখলে সে নিতে পারেনা যেমনটা সেও পারেনি । জোরাজুরি করে আর যাই হোক ভালবাসা বা ভালবাসার মানুষকে বশ করা যায়না । সিমপ্লিসিটি আর ভালমানুষী দিয়ে কেবল ভাল মানুষই হওয়া যায় কোন কিছু এচিভ করা যায়না ।

গন্ধটা স্মুতিবহুল ব্যাথায় রুপান্তরিত হয়ে ছ্ড়াতে থাকে। মেডিটেশনরে বিদ্যা প্রয়োগ করে সে আনন্দের কোন স্মৃতি হাতড়াতে থাকে । এই মুহুর্তে তার মনোযোগটা অন্যদিকে ডাইভার্ড করা দরকার । সব স্মুতি চাপা পড়ে যায় । মনে পড়ে না কোন আনন্দের ঘটনা । সবকিছু ফিকে হয়ে আসে । সুনামীটা প্রতিরোধ হচ্ছেনা । চেষ্টার তোলপাড় চলতে থাকে অন্ত:পুর জুড়ে ।

কৈশরে তার একটি প্রিয় জায়গা ছিল । নিতান্তই মফ:স্বলিক । কয়েকবার গভীর শ্বাস নিয়ে নিহারিকা চোখ বুজে চলে যায় সেই বেলাভূমিতে । ধান ক্ষেতে কচি শীষ, একটা দু’টা পাখি উড়ে যায় শেষ বিকেলের আকাশে আকাশে, মাঝে মাঝে জলাশয় । জলাশয়ে ভাসছে কচুরীপানা । কচুরীপানার ফাঁক গলে স্বচ্ছজলে ফুর্তিবাজ মাছেরা ছুটে বেড়া্চ্ছে এদিক সেদিক। কতক কচুরীফুল ঝিরঝির হাওয়ায় দোল খাচ্ছে । সাদা আর নীলের মিশেলে কচুরীফুলের পাপড়িগুলো যেন অলেৌকিক কারো চোখ । সে চোখে মিশে থাকে আদর, আশ্বাস, অমীয় ধারা। অস্তগামী গাঢ় কমলা রঙ এর সূর্য্যটা তার শেষ আভায় ডুবে যেতে থাকে ।

ডুবন্ত নক্ষত্রের চিহ্ন ধরে নীহারিকা বেমালুম ভূলে যেতে থাকে বিশ্বাসের বাতিঘর অথবা অবিশ্বাসে অতলান্ত সূতা কাটা ঘুড়ির কথা........................।

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৩:৩৭
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×