পূর্ণ ভাবগাম্ভীর্য্য আর বিশেষ মর্যাদায় পালিত বিজয় দিবসে বিপুল উৎসাহ, উদ্দীপনার সাথে ছিল আবেগ এবং আবেগের আতিশায্যের ঘনিষ্ট অনুসঙ্গ জাতীয় পতাকা; এবং এর ব্যবহারিক মূর্খতার তীব্রতা নি:সন্দেহে ছুয়েঁ ফেলেছে অপরাধের সীমারেখা ।
বিভিন্নভাবে যেসব পতাকা ব্যবহার করা হচ্ছে সেগুলোর আকার, আয়তন, দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, রঙ কোনটিই ঠিক থাকেনা । কোথায়, কখন, কিভাবে, কি কারণে ব্যবহার করতে হয়; এর উচিৎ, অনুচিৎ ইত্যাদি সম্পর্কে থাকে না কোন খবর । জাতীয় পতাকা ব্যবহার অবশ্যই গভীর আবেগের সাথে জড়িত কিন্তু সেটা ব্যবহারের আগে নূন্যতম সচেতনতা অবশ্য পালনীয় । চলুন দেখে আসি নিম্নের বিষয়গুলো কি ভালবাসা, না অজ্ঞতা, না অবজ্ঞা?
সংবিধান অনুসারে
মোটরযানে পতাকা ওড়ানোর সময় যান বাহনের সামনে থাকা দন্ডায়মান রেডিয়েটর ক্যাপে বেধেঁ ওড়াতে হবে । কোন অবস্থাতেই জাতীয় পতাকা পিছনে উত্তোলন করা যাবে না।

পতাকার উপর কোন কিছু লিপিবদ্ধ করা যাইবে না বা ছাপানো যাইবে না । কোন অনুষ্ঠান বা অন্য কোন উপলক্ষ্যে পতাকার উপর কোন কিছু লিপিবদ্ধ করা যাইবে না ।

জাতীয় পতাকা ইচ্ছে হলেই যেখানে সেখাবে যেমন- গাড়ীতে, ষ্টীমারে, নৌকাতে, রেলগাড়ীতে কোন দিকেই জড়িয়ে রাখা যাবে না । এটি সর্বদা ঊর্ধ্বমূখী থাকবে ।

বিধি মোতাবেক জাতীয় পতাকা গায়ে জড়ানো যাবে না, পতাকার উপর কিছু লেখা যাবে না বা অঙ্কন করা যাবে না, এটা নিয়ে ব্যবসা করা যাবেনা, অথচ......

জাতীয় পতাকা কোন ব্যাক্তি বা জড় বস্তুর দিকে নিম্নমূখী করা যাবে না । এটা কোন পর্যায়ে পড়ে.................

জাতীয় পতাকা কখনোই নিচের কোন বস্তু যেমন- মেঝে, পানি বা পণ্যদ্রব্য ষ্পর্শ করিবে না । জাতীয় পতাকা কখনোই আনুভূমিকভাবে বা সমতলে বহন করা যাইবে না, সর্বদাই ঊর্ধ্বে এবং মুক্তভাবে থাকিবে । আবেগ আর আবেগ...........

জাতীয় পতাকা এমনভবে উত্তোলন, প্রদর্শন, ব্যবহার বা সংরক্ষণ করা যাইবে না, যাহাতে উহা সহজেই ছিঁড়িয়া যাইতে পারে বা যে কোনভাবে ময়লা বা নষ্ট হইতে পারে ।

কোন কিছু গ্রহণ, ধারণ, বহন বিলি করিবার নিমিত্ত জাতীয় পতাকা ব্যবহার করা যাইবে না ।

বি:দ্র: ২০১০ সালের ২০ জুলাই জাতীয় সংসদে একটি নতুন পাশ হওয়া বিল অনুযায়ী আইন অমান্যকারীদের জন্য ১ বছরের কারাদন্ড বা ৫০০০ টাকা জরিমানা বা উভয় শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে ।
উপরোক্ত বিষয়গুলো আতিশায্যের অনিচ্ছায় অনভিপ্রেত এ অবমাননা । শুধুমাত্র সচেতনতা, শিক্ষা এবং বোঝাপড়ার জায়গায় স্বচ্ছতা দরকার । জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত হলে অন্তত আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এগুলো শিখে বড় হতো । শাস্তির চাইতে স্বস্তি অনেক বেশী প্রয়োজন ।
ছবি : গুগল ।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



