লক্ষ্যণীয় যে, আজকাল কুকুরের কামড় খেয়ে অনেকেই পাল্টা কামড় লাগানোর কু-ইচ্ছায় দাঁত বসাতে চেষ্টা করেন নোংরা ভক্ষণকারী, ঘৃণ্য, হিংস্র কুকুরের গায়ে। মানবতার জন্য এটা কি সত্যিই অসম্মানজনক নয়? কি বলে আপনাদের বিবেক? তার উপর যদি কুকুরটি হয় পাগলা কুকুর। একজন সুস্থ-বিবেকসম্পন্ন মানুষ কি করেন তখন? অবশ্যই তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন কারণ, যদি তাকে লাঠি-পেটা করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে সে এমনিতেই তো পাগল পরন্তু বেপরোয়া হয়ে আরো হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে আপনার উপর। অন্ততঃ হাত-পা ছুঁড়ে তাড়িয়ে দিতে চাইলেও কিন্তু কিছু ঘেউ ঘেউ আর দাঁত-মুখের খিঁচুনি দিতে কসুর করবে না।
তাই বুদ্ধিমান সবসময় এদের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে।
আরেকটি প্রবাদ প্রচলিত আছে আমাদের দেশে যে, পাগলকে যদি বলা হয়- 'সাঁকো নেড়ো না', তবেই নাকি তার মনে হয়- 'তাইতো, মজার ব্যাপারটা তো এতক্ষণ মাথায়ই আসেনি', ব্যস শুরু হলো সাঁকো নাড়া। এদিকে পাগলকে স্মরণ করিয়ে দেয়া নির্বোধ তখন হয় সাঁকো থেকে টুপ করে নীচে পড়ে গাঙ্গের জল খেয়ে-নেয়ে আক্কেল সেলামীটা সেরে নেয় আর যদি সাঁকোতে না উঠে থাকে তো পাড়ে বসে পাগলের চৌদ্দপুরুষ একত্র করে তেলমালিশে লেগে যেতে হয় নতুবা 'গালে হাত, বসে থাক' এই সূত্র মুখস্থ করা ছাড়া দ্বিতীয় পথ থাকে না।
তাই জ্ঞানী তার জ্ঞান দ্বারা নিরিক্ষণ করে পাগল নিশ্চিত হওয়ার পর যদি সামনে আসে, তখন বলে- 'সালাম' মানে শান্তি!!!!!!
নেট বলেন আর আপনার নিজস্ব পরিমণ্ডল বলেন, প্রতিটি ব্যাপারেই আমি মনে করি আমাদের সিদ্ধান্তে আসা উচিত যে, এখানে অথবা যেখানেই যাই না কেন, আমি কি করবো সেখানে। সচেতন আর সময়জ্ঞানসম্পন্নরা তেমনই করে থাকেন। তর্ক-বিতর্ক মন্দ কোন বিষয় নয়, যদি তার মধ্যে থাকে জ্ঞানের লড়াই, যুক্তির বিচার, সিদ্ধান্তের ফসল; যেমনটি আমরা দেখতে পেয়েছি ডঃ আহমাদ দীদাত (আল্লাহ্ তার কবরজীবন শান্তির করুন, তার প্রতি রহম করুন) ও খ্রীষ্টান পাদ্রীদের মধ্যে এবং এমন আরো অনেকখানেই। কিন্তু যদি ব্যাপারটা হয় পিকেটার আর দাঙ্গা পুলিশের মত তাহলে তো আর সেটা বিতর্ক রইলো না। পিকেটার যেমন দশ কি পঞ্চাশ টাকার লোভে হাঁক ছাড়ে দাবী মানো, সাথে কিছু গালাগাল আর 'দেই না একটা ঢিল ছুঁড়ে', ব্যস অমনি শুরু হয় পাল্টা মন্তব্যের টিয়ার গ্যাস আর রাবার বুলেট। আমি এই দু'পক্ষের কারো সাথেই নেই। কিছু বলার থাকলে যুক্তি ও শালীনতার ভেতর থেকেই বলার পক্ষে।
যাই হোক, উপরের দু'টি উদাহরণ যদি আপনাদের কারো উদ্দেশ্য হয় তাহলে দেরী করবেন না, স্বজাতীয় কাজে আরো কর্মনিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠুন 'ডাষ্টবিন এলাকা' জুড়ে, সামনে তো নির্বাচন আসছে, বলা তো যায় না, যদি বেপরোয়া সরকার ধরে ধরে আবার পাবনার কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করে ফেলেন তো জনপ্রিয় হয়ে উঠার কম্মটাই স্বপ্ন থেকে যাবে আজীবন। একে অপরের সহযোগিতা করতে পারেন কারণ, উপরে উল্লেখিত দু'পক্ষকেই একই এলাকায় খুঁজলে পাওয়া যায়।
আর যদি উদ্দেশ্য হয়- 'স্বদেশী অক্ষরে কিছু সুন্দর সময়ের পদ্যানন্দ উপভোগ', 'গদ্যময় জীবনের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি', 'স্বীয় আদর্শের সবটুকু সৌন্দর্যকে সমুন্নত করে আপনাপন আদর্শের প্রতি আহ্বান', 'যদিও হয় নিরেট কিছু সুস্থ হৈচৈ আর শব্দমালার ছুটোছুটি খেলা', মন্দ কি তাতে, নিজেকে প্রকাশ করুন অন্তরের সবটুকু শালীনতা আর চারিত্রিক মাধুর্যতা নিয়ে, আপনার সৌন্দর্যবোধ ছুঁয়ে যাক এখানে আসা সবগুলো মন; -তাহলে এই সুন্দরমনা মানুষগুলোর প্রতি আমার কিছু আবেদন-
আপনারা উপরোল্লেখিত দু'শ্রেণীকে বর্জন করুন সুস্থতা এবং নিরাপত্তার খাতিরে। কারণ, এমন একটা লেখা যদি আপনি পড়েন, যেখানে আপনার স্পর্শকাতর দিকগুলোকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে কিংবা বিদ্রুপ করা হয়েছে, তখন নিশ্চয়ই আপনার খারাপ লাগবে ব্যাপারটা, আর এই খারাপ লাগা মনে মনে গালাগাল থেকে শুরু করে আপনার মনেও এই ইচ্ছা উঁকি দেবে যে, পাল্টা গালাগাল করি। তখনি আপনার অবস্থান এসে দাঁড়ালো উপরে উল্লেখিত 'কুকুরের কামড় খেয়ে পাল্টা কামড় দেয়া শ্রেণী'র পর্যায়ে। মনে রাখা ভাল যে, আকৃতিতে পরিবর্তন না আসলেও আচরণের দিক থেকে মানুষ সবসময় শুধুমাত্র মানুষের পর্যায়ে থাকে না; কখনো সে হয়ে যায় শিশু কিংবা ফিরিশ্তার মত নিষ্পাপ, আবার কখনো হয়ে যায় গাধার চেয়েও নিকৃষ্ট, শিয়াল কিংবা ইবলীশের চেয়েও ধূর্ত (এসব নিয়ে অনেক মহাবাণী থাকলেও এই লেখায় দিতে ইচ্ছে করছে না)। সুতরাং, যদি পারেন তো চিনে নিন- কোন ডাস্টবিন থেকে এই নোংরা দুর্গন্ধটা ছড়াচ্ছে এবং সেদিকের জানালাটা বন্ধ করে দিন। আল্লাহ্র সৃষ্টি এই সুন্দর পৃথিবীতে স্বাস্থকর ও মুক্ত বাতাসের অনেক সঞ্চয় আছে, অভাব হবে না কোন।
যদি কোন লেখা আপনার উৎসুক মন একান্তই পড়তে চায় তো পড়ুন না, আপনার এই পড়াটা তো কেউ দেখছে না, কেন শুধু শুধু মন্তব্য লিখে সেই উনুনে পেট্রোল ঢালছেন, যার আগুনে পুড়ে খাক হয়ে যেতে পারে আপনাদের তিল তিল করে গড়ে তোলা এই সুন্দর বাগানখানি? আপনার চিন্তা-চেতনার বিপরীতে অবস্থানকারীর জায়গায় দাঁড়িয়ে একবার ভেবে দেখুন তো, তার বা তাদের এসব আবর্জনা (লেখনী) আপনার সুন্দর উদ্যানের সীমানায় ছুঁড়ে দেয়ার উদ্দেশ্য কি? পরিস্কার বুঝতে পারবেন যে, শুধু আপনাকে একটু নাচাতে চায় (দেখবি সাপের খেলা), কি বলেন, যদি আপনার অবস্থান ও আচরণ হয় এমনতর, তাহলে কি এটাও বলে দিতে হবে যে, সুস্থ-দুষ্ট মানুষগুলো কখনো কখনো কাকে নিয়ে মেতে উঠে (অবশ্যই পাগলকে নিয়ে)?
জ্ঞানীগণ বলে থাকেন- 'কারো ওজন (জ্ঞান ও চিন্তার গভীরতা) মাপতে হলে একটু খোঁচা দাও (কিছু কথা বলে নাও)', যদি এমনটি ইচ্ছে করে তো দিয়েই দেখুন না দু'একটা খোঁচা, দেখবেন হাড়ি পুরো উল্টো করে দেবে। তাহলে আর বাকী রইলো কি? এ হাড়ির খবর তো আপনার জানাই আছে, বারে বারে উল্টে দেখার তো প্রয়োজন দেখছি না; অবশ্য নতুনদের কথা আলাদা অথবা যদি কেউ ধর্মনিরপেক্ষতার মত 'ভাল-মন্দ নিরপেক্ষ'তার রেখা বরাবর দাঁড়িয়ে থাকেন কিংবা থাকতে ভালবাসেন।
আসুন দেখিতো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সফল মানুষটি এসব ক্ষেত্রে কি করেছিলেন ঃ আমেরিকান গবেষক এইচ. হার্ট তার The Hundred Ranking of the most in influential persons history নামক গ্রন্থে একশত ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের জীবনী লিখেছেন। লেখক ধর্মের দিক দিয়ে খৃষ্টান হওয়ার পরও তার গ্রন্থে সর্বপ্রথম সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসাবে স্থান দিতে বাধ্য হয়েছেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এবং মন্তব্য করেছেন ঃ 'পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রভাবশালীদের তালিকায় আমি সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হিসাবে মুহাম্মাদ(সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)কে বেছে নিয়েছি। আমার এই পছন্দ কোন কোন পাঠককে বিস্মিত করতে পারে আবার অনেকের মনে নানা প্রশ্ন জাগাতে পারে। কিন্তু ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি ধর্মীয় এবং বৈষয়িক উভয় ক্ষেত্রে সর্বাঙ্গীন সাফল্য লাভ করেছিলেন (তার জীবদ্দশাতেই)।
আবু লাহাব ছিল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের আপন চাচা, সাধারণ বিচারবুদ্ধি ও আরবের তৎকালীন রীতির দাবীও এই ছিল যে, তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাহায্য করবেন। কিন্তু ইতিহাস বলে উল্টোকথা, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনি ইসলামের দাওয়াত দিতে বেরুতেন, তখনি পিছু পিছু এই লোকটিও বেরুতো এবং পিছন থেকে পাথর মারতো ও লোকদের ডেকে ডেকে বলতো- 'এ হচ্ছে আমাদের বাপদাদার ধর্মত্যাগী, কবি, যাদুকর ইত্যাদি। একে তো শারিরিক নির্যাতনের কষ্ট তদুপরি মানসিক মহাকষ্টে জর্জরিত হয়েও কিন্তু পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষটি আমাদের জন্য রেখে গেছেন মানবতার আদর্শ, তিনি পাল্টা পাথর ছুঁড়ে মারেননি আবু লাহাবকে; বরং তিনি ছিলেন তার আদর্শের পথে পর্বতসম অটল। তাহলে আমরা কেন চুনোপুঁটির লাফালাফি দেখেই জলে ঝাঁপ দিয়ে শুকনো আর পরিপাটি জামাকাপড় ভিজিয়ে নষ্ট করবো তাদেরকে ঠান্ডা করার ঠুনকো প্রয়াসে?
সুতরাং আমার-আপনার উচিত আমাদের নিজস্ব পথে চলা, আশপাশের কাঁটা-পরগাছা আর ময়লা-আবর্জনা থেকে গা বাঁচিয়ে, কাপড় বাঁচিয়ে, কি বলেন, এটাই কি বুদ্ধিমানের কাজ নয়? মানুষ হিসেবে নূন্যতম যোগ্যতা (আক্কেল-আন্দাজ-বিবেক-সৌজন্যবোধ) যাদের নেই, তাদের আরেকটি ব্যাপার দেখুন- মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সঙ্গীদের নিয়ে বসে আছেন মসজিদে, এক বেদুঈন মূর্খ এসে মসজিদের ভেতরেই প্রস্রাব করতে আরম্ভ করলো, সাহাবাগণ তো ক্ষেপে গিয়ে তাকে মারতে উদ্যত হলেন। কিন্তু পৃথিবীর শ্রেষ্ট মানুষটি কি বলছেন শুনুন, তিনি বললেন ঃ 'তাকে শেষ করতে দাও, নইলে সে অসুস্থ হয়ে পড়বে'। (সুবহানআল্লাহ্)
আসুন আমরা যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাসূল হিসাবে বিশ্বাস করি এবং তার আদর্শ অনুসরণের চেষ্টা করি তারা এবং যারা এইচ হার্ট-এর মত শ্রেষ্ঠ মানুষ বলে স্বীকার করি, তারা সবাই তার এই ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার আদর্শটুকু মেনে চলি এবং ঐ বেদুঈন নির্বোধের নিবর্ুদ্ধিতার উত্তরসূরী যারা এই ব্লগে এসেও স্থান করেছে, তাদের প্রতি একটু দয়া করি, একটু অনুগ্রহ করি, নইলে যে ঘেউ ঘেউ আর উন্মদনার প্রাবল্যে আপনার আমার শ্রমে-ঘামে গড়ে উঠা এই সুন্দর ব্লগ-বাগানখানিতে পা ফেলতে আর রুচিতে কুলোবে না।
(প্লিজ এর যৌক্তিকতা ভাবুন এবং সহযোগিতা করুন)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



