somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

%%% ((ফসল)) ঃ ধর্মীয় মৌলবাদের চাষাবাদ-6

২৫ শে জুন, ২০০৬ রাত ২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




প্রতিটি মতবাদকেই প্রতিটি মানুষ তার নিজস্ব অবস্থান থেকে দেখে থাকে। তার ধারণ ক্ষমতা, দৃষ্টির বিস্তৃর্ণতা, মেধার প্রখরতা, সরলতার প্রতি আবেদন, সত্যের পথে চলার আকাংখা এসবের বিচারেই হয়ে থাকে কোন কিছুকে গ্রহণ, বর্জন বা বিশ্লেষণ। আমরা কেউই এই ব্যবধানের বাইরে নই, আবার হয়তো আমরা কেউ কেউ অভিনয়েও অতি দক্ষ শিল্পী। এই প্রেক্ষাপটে হয়তো নিজের মাঝেই দু'জনের বিতর্ক ঘটাই, আবার নিজেই সিদ্ধান্ত দেই, মননের সৌন্দর্যে-কদর্যতায় আমাদের সৃষ্টি সত্যিই অতি বৈচিত্রের।

কথায় আসি, আমাদের ব্লগ বন্ধু শোহেইল মতাহির চৌধুরীর লেখা 'ধমর্ীয় মৌলবাদের চাষাবাদ-6' লেখাটি পড়ে মন্তব্য দিতে গিয়ে এই লেখার জন্ম। তাই লেখাটি না পড়ে থাকলে এই লিংক থেকে পড়ে নিন অথবা দু'টো জানালা খুলেই দেখুন-
Click This Link

মন্তব্য-পোষ্ট এই প্রথম করলাম, বেশী বড় হয়ে যাওয়াতে। তাহলে শুরু হোক- শোহেইল মতাহির চৌধুরীর উক্ত লেখাটি থেকে যা পেলাম-

1) তিনি বলেছেন 'রাষ্ট্রশক্তির পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কোন মতবাদই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে না, ওহাবিজম তার একটা প্রমাণ।' - তদ্রূপ, ইসলামকে প্রতিষ্ঠার জন্যও প্রয়োজন রাষ্ট্রশক্তির, সুতরাং ইসলামের নামে হোক আর ইসলামের আদেশ মেনে হোক ইসলামপন্থীদের রাষ্ট্রশক্তি অর্জনের লড়াই কোনভাবেই অযৌক্তিক নয়।

2) ওয়াহ্হাবী শব্দের সাথে ইসলামের মিলন ঘটানোর প্রয়াসে বলতে হচ্ছে যে, ওয়াহ্হাবী বলে গালি কিংবা ওয়াহহাবিজম বলে চরমপন্থী ইঙ্গিত দান শুরু হয় ইসলাম বিরোধীদের থেকে, তাই মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহ্হাব ওয়াহ্হাবী মতবাদ শুরু করেছে এমনটি বলা অযৌক্তিক, তাছাড়া যারা তার অনুসরণ করে তারাও নিজেদের ওয়াহ্হাবী বলে পরিচয় দেয় না; যেমনটি অন্যান্য মতবাদের বেলায় দেখা যায়।

3) মক্কা-মদীনায় মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহ্হাবের আক্রমন এবং কবরের উপরে নির্মিত প্রাসাদগুলো ভেঙ্গে দেয়া প্রসঙ্গে- ব্যাপারটা ঠিক যেমনটি রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন তার মদীনায় হিজরতের পূর্বে আলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে পাঠিয়ে অর্থাৎ, সমস্ত উঁচু কবরগুলোকে ভেঙ্গে দিয়েছিলেন। ইবনে আব্দুল ওয়াহ্হাব এক্ষেত্রে রাসূলের সত্যিকারের অনুসরণ করে মক্কা ও মদীনার মত ইসলামের পূণ্যভূমিগুলোকে সঠিক অবস্থানে ফিরিয়ে এনেছেন মাত্র। তিনি নিজে এবং মুসলমানদেরকে ইসলামের সত্যিকারের অনুসরণ করতে ও করাতে চেষ্টা করেছেন শুধু; কোন নতুন মতবাদের জন্ম দেননি বা দিতে চাননি।

4) বিদ'আত ও শির্ক শব্দদু'টো ইসলামের জন্য বরফে আগুনের ছোঁয়ার মতই বাস্তব। উল্লেখ্য যে, বিদ'আত হলো ইসলামে ইবাদাত হিসাবে সওয়াবের আশায় নব আবিস্কৃত বিষয়সমূহ আর শির্ক হচ্ছে আল্লাহ্র অস্তিত্বে, গুণাবলীতে, প্রভূত্বে, ইবাদাতে অন্য কাউকে অংশীদার করা। বিদ'আত ইসলামের সত্যতা ও পরিপূর্ণতার উপর একটি আবরণ ফেলে দেয় এবং ধীরে ধীরে ইসলামকে ঢেকে ফেলে অনৈসলাম দিয়ে, তাই বিদ'আতের ধ্বংসকারীতা থেকে ইসলামকে রক্ষা করতে হলে পরিপূর্ণ ইসলামী ইবাদাতসমূহের বাইরের সকল নবাবিস্কৃত বিষয়াদিকে অবশ্যই ছেঁটে ফেলতে হবে। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহ্হাব মূলতঃ তাই করেছিলেন। অন্যদিকে শির্ক তো হচ্ছে ইসলামে সবচেয়ে বড় অপরাধ। শির্কের ব্যাপারে কুরআন বলে ঃ "নিশ্চয় শির্ক চরম যুলুম।" [সূরা লোকমান ঃ 13 (শেষাংশ)] আল্লাহ্ আরো বলেন ঃ "নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাঁর সাথে শির্ক করাকে ক্ষমা করেন না; আর তার থেকে ছোট যাবতীয় গোনাহ্ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেবেন, আর যে কেউ আল্লাহ্র সাথে শির্ক করে সে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হয়। [সূরা আন্-নিসা ঃ 116] মোদ্দাকথা, ইসলামে শির্ক, বিদ'আতের সংজ্ঞা, সীমারেখা, এগুলোর বিধি-বিধান পূর্ব থেকেই পরিস্কার ও পরিপূর্ণ। কেউ সেসব ভুলে গেলে তাকে তা মনে করিয়ে দেয়াটাকে কোন যুক্তিতেই প্রসারণ বা সমপ্রসারণ বলা যাবে না।

5) শিয়া, সুফীবাদ বা তরিকত যাই বলা হোক না কেন এসব মূলতঃ ইসলামের সরল-সঠিক পথ-যে পথের আবেদন সূরা আল-ফাতেহায় মুমিনগণ করে থাকেন প্রতিনিয়ত-তা থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু উপদলমাত্র এবং এদের সংখ্যাও প্রচুর। এসবের অনেকগুলোরই জন্ম হয় ইয়াহূদী-খ্রীষ্টানদের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে, হিন্দুত্ববাদের প্রভাবে এবং মুসলমানদের ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞানতার ফলাফল হিসাবে; কুরআন ও সহীহ্ হাদীসের শিক্ষার সাথে যাদের দূরত্ব ইসলাম-অনৈসলামের মতই ব্যাপক। এসবের প্রতিটি ফেরকা বা দল সম্পর্কে কিছুমাত্র বলতে গেলেও পরিপূর্ণ একটি লেখার দাবী রাখে অন্ততঃ। এখানে প্রাসঙ্গিকভাবে বলার কথা এই যে, ইবনে আব্দুল ওয়াহ্হাব এসব জঞ্জাল থেকে ইসলামকে বিশুদ্ধভাবে মুসলমানদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন; তিনি অবশ্যই ইসলামের একটি সঠিক খেদমত করেছেন।

6) আল্লাহ্র কাছে পেঁৗছা বা তাঁর সানি্নধ্য পেতে হলে তিনি যেভাবে বলেছেন, একমাত্র সেভাবেই সম্ভব। অন্য কোন মাধ্যমে সে প্রচেষ্টা করাটা নিতান্তই অযৌক্তিক ও অজ্ঞানতা ছাড়া আর কিছু নয়। এ ব্যাপারে তাঁর বাণী আল-কুরআন ও তাঁর রাসূলের সহীহ্ হাদীসেই সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা রয়েছে, এর বাইরে কেউ কোন পন্থা অবলম্বন করে যদি প্রচার করে বেড়ায় যে, সে তার প্রভূ পর্যন্ত পেঁৗছে গেছে, তাহলে তার এ পেঁৗছানোকে ইবলীসের দরবারে পেঁৗছানো ছাড়া আর কিইবা বলা যেতে পারে। এছাড়া দুষ্ট জিনদেরও তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মানুষকে নিজেদের গোলাম বানাবার মত শখ থাকতেই পারে।

7) আল্লাহ্র ইবাদাতের সময়ে তো অবশ্যই বরং অন্য সব সময়েও যাবতীয় চাওয়া শুধুমাত্র আল্লাহ্র কাছেই চাইতে হবে, তারপর বিচার-বিবেচনা অনুযায়ী লেন-দেনে, দেয়া-নেয়া ইত্যাদিতে প্রয়োজন মত মানুষের কাছে যেতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো জুতোর ফিতাটি ছিঁড়ে গেলেও সে ব্যাপারে আল্লাহ্র নিকট আবেদন করতে বলেছেন। সুতরাং ইবাদাতে এবং দো'আয় একমাত্র আল্লাহ্ ছাড়া আর কারো কাছেই মাথা নত করা যাবে না, একত্ববাদের পরিচয় তো এখানেই দিতে হবে।

8) কবর, মাযার ইত্যাদিতে যাওয়ার ব্যাপারেও ইসলামের বিধান সুস্পষ্ট। কবর যিয়ারত করা যাবে শুধুমাত্র আখেরাতকে স্মরণের উদ্দেশ্যে, অন্য কোন উদ্দেশ্য থাকতে পারবে না, কবরবাসীর জন্য দোআ করার জন্য কবরের পাশে যাওয়া শর্ত নয় বা এতে বিশেষ কোন মাহাত্ম্য নেই; বরং ভ্রান্তির সম্ভাবনায় ভরা। এ জন্য যিয়ারতের উদ্দেশ্য নিয়ে যাওয়ার বা সফর করার ব্যাপারে তিনটি স্থানকেই মুসলমানদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঃ 'তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন স্থানের দিকে (ইবাদাতের জন্য) সফর করা যাবে না; মসজিদুল হারাম, আমার এ মসজিদ (মসজিদুন্ নব্বী) ও মসজিদুল আকসা (বায়তুল মোকাদ্দাস)'। [বুখারী ও মুসলিম] উল্লেখ্য যে, শুধুমাত্র দেখার জন্য যাওয়াটা ভিন্ন ব্যাপার, কারণ তাতে ইবাদাতের উদ্দেশ্য থাকে না।

আরো অনেক কিছু থাকলেও এ বেলা আর ধৈর্য নেই, পরে কখনো এসে যাবে হয়তো, তবে 'ওয়াহ্হাবী' -বিষয়টি নিয়ে আরো লেখার ইচ্ছা রাখি। বলা প্রয়োজন মনে করছি যে, জনাব শোমচৌ সাহেবের আহলে হাদীস সংগঠন প্রসঙ্গে- মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহ্হাব যে মেজাজ ও মননের মাধ্যমে ইসলামের সংস্কার প্রচেষ্টা করেছিলেন বর্তমান আহ্লে হাদীসের মধ্যে তা অনুপস্থিত, যার অনেকটা উদাহরণ মিলে যায় তাদেরই কথায় যে, হানাফী মাঝহাবের অনুসারীগণ ইমাম আবু হানিফার সত্যিকারের অনুসরণও করছে না; বরং নিজেদের খেয়াল-খুশী ও মেজাজকেই প্রাধান্য দিচ্ছে বেশী। সর্বোপরি আমাদের স্রষ্টা প্রদত্ত ইসলামের চিরন্তন সরল পথই আমাদের সকলের কাম্য, আল্লাহ্ আমাদেরকে তাঁর সরল-সহজ পথ দেখান এবং তা বুঝার তৌফীক দান করুন ও সে পথে আমৃতু্য অটল-অবিচল রাখুন।
...................................... আমীন।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুন, ২০০৬ রাত ২:৫৩
১৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেটিকুলাস ডিজাইনের নির্বাচন কেমন হলো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৪


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ২১৩ আসনে জয়ী হয়েছে। তবে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ভালো ফলাফল করেছে জামায়াত ! এগারো দলীয় জোট প্রায় ৭৬ টি আসনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ চুরান্ত লজ্জার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



অনেক জল্পনা কল্পনার পর শেষ পর্যন্ত বিএনপির ভূমিধ্বস বিজয় হয়েছে- এ যাত্রায় দেশ চুরান্ত লজ্জার হাত থেকে বেঁচে গেলো। চারিদিকে যা শুরু হয়েছিলো (জামাতের তাণ্ডব) তা দেখে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ ইসলামপন্থীদের ক্ষমতা দেন না কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৫



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ২৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৬। বল হে সার্বভৈৗম শক্তির (রাজত্বের) মালিক আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) প্রদান কর এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) কেড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০ বছর সামহোয়্যারইন ব্লগে: লেখক না হয়েও টিকে থাকা এক ব্লগারের কাহিনি B-)

লিখেছেন নতুন, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৪২



২০২৬ সালে আরেকটা ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেগেছে একটু আগে।

ব্লগার হিসেবে ২০ বছর পূর্ন হয়ে গেছে। :-B

পোস্ট করেছি: ৩৫০টি
মন্তব্য করেছি: ২৭০৭২টি
মন্তব্য পেয়েছি: ৮৬৬৭টি
ব্লগ লিখেছি: ২০ বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথমেই বিএনপির যে কাজগুলো করা জরুরি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:৪৬


বিএনপির প্রথম কাজ হলো তারা যে “অত্যাচারী” নয়, তা মানুষের কাছে প্রমাণ করা। "ক্ষমতাশালী" মানে যে ডাকাতি, লুটপাট এবং মাস্তানির লাইসেন্স পাওয়া নয়, এটা নিশ্চিত করা। এর জন্য তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×