প্রিয় প্রজন্ম,
আজ 13 জুলাই 2006, কোনভাবেই তোর অজানা নয়, স্মরণ করিয়ে দিলাম এজন্যে যে, আজই প্রথম তোর উদ্দেশ্যে আমি কলম তুলে নিলাম। তুই আমার আত্মায়-অস্তিত্বে অবিচ্ছেদ্ধ, ভাবিস না প্রহসন বাক্য, যদি সন্দেহ জাগে তো নিজেকেই প্রশ্ন করে দেখ- আমি তোর কে? তোকে ভুলে ছিলাম, সে কথা নিজেকেও বিশ্বাস করাতে পারছি না কোনভাবেই। তোকে ছাড়া যে আমিও অবাস্তব। থাক অতীতের কিচ্ছাগুলো, তুলে রাখ তাকের উপর। তবে আহত হোস্নে, আমাদের সাথে সাথে চলা এই বর্তমানের আড়ালেই পেয়ে যাবি অতীতের বর্ণমালাকে, একটু খুঁজে দেখিস্ 'ব', 'ত', 'ম', 'ন' অক্ষর বেদীর আড়ালে, ভুলিস না 'র্ ' ও 'া' -কেও।
আচ্ছা বলতো, পৃথিবীর মাটিগুলো কি এতই পাষণ্ড যে তার সাথে আগুন, পানি আর বাতাসের সংমিশ্রণে হয়ে উঠবে শ্রেষ্ঠ হিংস্র? মাটিকে আমার কখনোই তেমনটি মনে হয়নি, তবে মাটি দিয়ে যা কিছুই চেয়েছি, যেরূপেই চেয়েছি, পেরেছি অবয়ব দিতে, এখন তুই-ই বল, এই সারল্যের আড়ালে যে লুকানো আছে গলিত আগুন, সে কথা আমি কি করে জানবো? জীবনের এই যাপন পদ্ধতিতে আমার বড় কষ্ট হয়, কিন্তু নিরুপায় এ জীবনে আমার কষ্টগুলো কি আর দেখা যায়, যেমনটি দেখা যায় না ইথারে ইথারে ভেসে বেড়ানো দুঃখগুলো। ছাইপাশ, কি শুরু করলাম ব্যাথার দান রচনা, 'তুই কেমন আছিস' -এ জিজ্ঞাসায় আমার দু'হাত কাঁপছে, দু'চোখ ভিজে উঠছে, প্রাণের স্পন্দন অস্তিত্বের রূপ নিচ্ছে। বলতে চাই না কেমন আছিস, বলবো- তুই ভাল থাকিস।
অনেকের মুখেই শুনি যে, সময়ের মত নিষ্ঠুর আর কেউ নেই, হিসেবটা আমার কাছে গোলমেলে ঠেকে, কিন্তু তারপরও দেখি আমার প্রতিটি 'আজ' একটু পরেই 'কাল' হয়ে যায়। আমি হয়ে যাই অতীত, আমি রয়ে যাই বর্তমান আর আমি অপেক্ষায় থাকি অনাগত ভবষ্যিতের। আচ্ছা বলতো, আমি কেন ধরে রাখতে পারি না আমার আমিকে। কি চাই আর কি পাই; অথচ আমার ব্যাথার বাঙ্ ভারী হচ্ছে দিনে দিনে। ইস্সস যদি সেখানে পারতাম সময়গুলোকে ভরে রাখতে, যদি পারতাম মাটির পরতে পরতে আমাকে গেঁথে দিতে! আমার এ চিত্ত বিত্তহীনতাগুলো তোকে লিখবো বলেই হাত দু'টো আজ সচল হলো। শুন্বি তো আমার দিনের টুকরোগুলোর টুং টাং আর রাতের স্তব্ধ দীর্ঘশ্বাসের ফোঁসফাঁসগুলো?
তোর জন্য আমার একরাশ ভালবাসা, পরিপাটি জীবন-প্রচেষ্টার বিদীর্ণ ফাঁক গলে জমে উঠা হৃদয়ের নির্যাস; তুলে রাখিস্; রাখবি তো?
প্রজন্মের- ফএমু।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




